সুচরিতা সেন চৌধুরী: তৃতীয় ম্যাচ থেকেই শ্রী ফিরল যুবভারতী ক্রিড়াঙ্গনের। কলকাতা শহরে মেসি ম্যাসাকারের ঠিক দু’মাস পর শুরু হয়েছে আইএসএল। সেটাও অনেক টালবাহানার পর। এক কথায় ফুটবল ফিরেছে ভারতে। তড়িঘড়ি সব সামলে উঠতে পারেনি আয়োজকরা। তাই প্রথম দুই ম্যাচে একইভাবে ছিল সেই ক্ষত। যে চেয়ার উপড়ে ফেলে মেসিকে না দেখতে পারার প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন কলকাতার ফুটবলপ্রেমীরা, সেখানে চেয়ার বসল অনেক জায়গাতেই। পুরো স্টেডিয়ামের সেরে উঠত আরও কিছুটা সময় লাগবে। তার মধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ লিগ। শনিবার স্পোর্টিং ক্লাব দিল্লির বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ম্যাচে খেলতে নেমেছিল ইস্টবেঙ্গল। শুরুতে গোল হজম করতে হলেও দ্রুত ঘুরে দাঁড়াল অস্কারের ছেলেরা। আর তার পর জয় ৪-১ গোলে।
দলের জয়ে খুশি অস্কার জানিয়ে গেলেন, “আমরা আক্রমণ করেছি ওরাও করেছে। প্রথম গোলের ক্ষেত্রে রক্ষণে একটা ফাঁক তৈরি হয়েছিল। তবে আমরা সমতায় ফেরার পর দল গুছিয়ে নিয়েছিল।”
এদিকে, আইএসএল-এর প্রথম ম্যাচে ইস্টবেঙ্গল দাপটের সঙ্গে জয় তুলে নেওয়ার পর বোঝাই গিয়েছিল সমর্থকরা নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করবে। যার প্রমান পাওয়া গেল দ্বিতীয় ম্যাচেই। একে তো শনিবার, তার উপর বিকেল পাঁচটা। যুবভারতী থেকে শহর ও শহরতলীর বিভিন্ন কোণায় ফেরাটাও সহজ। ভিআইপি গেটের বাইরে ম্যাচ শেষে আর বাড়ি ফেরা নিয়ে উদ্বেগ থাকবে না। শুধু কী তাই, শনিবাসরীয় সন্ধ্যায় কমলালেবু নিয়ে স্টেডিয়ামে ঢোকার অনুমতি না মিলুক, বাইরে দাঁড়িয়ে আইসক্রিম খেয়েই নিজের দলের সমর্থনে গলা ফাটাতে হাজির হয়েছিল প্রায় হাজার কুড়ি লাল-হলুদ সমর্থক। এদিনের জয়ের পর তা আরও বাড়বে নিশ্চিত। এদিন ইস্টবেঙ্গলের সমর্থনে গলা ফাটাতে দেখা গেল একদল বিদেশিকেও। স্পেন থেকে আসা এই দল ইস্টবেঙ্গলের লাল-হলুদ রঙ দেখেই তার সমর্থনে গ্যালারিতে হাজির হয়েছিল, তেমনটাই জানালেন হাভিয়ের, ইস্টবেঙ্গলের নামে জয়ধ্বনি দিতে দিতে স্টেডিয়াম ছাড়লেন তাঁরা।
অন্যদিকে এই মরসুমে ইস্টবেঙ্গলের সেরা প্রাপ্তি তাদের বিদেশিরা তা নিয়ে কোনও সংশয় নেই। ষষ্ঠ বিদেশি অ্যান্টন সোবার্জকে যদিও এখনও দেখার সুযোগ হয়নি। সবে দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন, তাঁকে আরও কিছুটা সময় দিতে চান কোচ। তবে মিগুয়েল হোক বা এজেজ্জারি, রশিদ, মান রাখছেন অস্কার ব্রুজোঁর। এদিন সব থেকে বেশি নজর কাড়লেন মিগুয়েল ফেরেরা। যদিও এদিন চোটের জন্য ছিলেন না সল ক্রেসপো। তিন বিদেশিতেই দল সাজিয়েছিলেন লাল-হলুদ কোচ। তাতে অবশ্য খুব একটা পার্থক্য হল না। যদিও প্রথমে দিল্লির গোলে পিছিয়ে পড়েছিল ইস্টবেঙ্গল। তিন মিনিটে পিছিয়ে পড়ার চার মিনিটের মধ্যেই এডমুন্ডের গোলে সমতায় ফেরে এবং এজেজ্জারির জোড়া গোলে ৩-১-এ এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করে ইস্টবেঙ্গল। এজেজ্জারির প্রথম গোল আসে পেনাল্টি থেকে। বক্সের মধ্যে এডমুন্ডকে ফাউল করেন স্যাভিও ফার্নান্ডেজ। যে পেনাল্টি নিয়ে বিতর্ক থাকতেই পারে।
অ্যান্টনকে না খেলাতে পারা প্রসঙ্গে অবশ্য কিছুটা হতাশ শোনাল অস্কারের গলা। চোট আছে কিনা জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, “অ্যান্টন পুরো ফিট কিন্তু ওর রেজিস্ট্রেশন এখনও হয়নি। ওটা আমার হাতে নেই তাই এর থেকে বেশি কিছু বলতে পারব না। আর সল ক্রেসপোর হ্যামস্ট্রিং সমস্যা রয়েছে।” তিন বিদেশিকে নিয়ে খেলে বড় জয়ে খুশি তিনি।
“আমরা তিন বিদেশি নিয়ে খেলেছি। আমরা ভালো খেলছি। আমাদের ভবিষ্যৎ ভালো। আমার এখন লক্ষ্য পর পর তিন ম্যাচ জেতা,” বলেন অস্কার।
দ্বিতীয়ার্ধে বিষ্ণু, রাকিপ ডেভিড ও সৌভিককে নামিয়ে খেলার গতি বাড়ানোর চেষ্টা করলেন অস্কার। শেষে মার্তন্ড রায়নাকে নামিয়ে পুরো পাঁচ পরিবর্তন করলেন এই ম্যাচে। যার ফলে তিন বিদেশি থেকে দ্বিতীয়ার্ধে দুই বিদেশিতে চলে গেল ইস্টবেঙ্গল জোড়া গোলের মালিক এজেজ্জারিকে তুলে নিয়ে। প্রথমার্ধের ছন্দটা দ্বিতীয়ার্ধে যেন কিছুটা ম্লান দেখাল। যদিও দ্বিতীয়ার্ধ স্টাইলের সঙ্গেই দূরপাল্লার শটে গোল করে শেষ করলেন মিগুয়েল। প্রথমার্ধের স্কোরলাইনে ইস্টবেঙ্গলের পক্ষে যোগ হল আরও এক গোল। গোল করে, করিয়ে এদিনের সেরা যে মিগুয়েল তা নিয়ে কোনও সংশয় নেই।
অস্কারের প্রশংসা শোনা গেল প্রতিপক্ষ কোচ টমাস পাওয়েলের মুখে। বলছিলেন, “অস্কারের মতো কোচ যে কোনও সময় পরিস্থিতি বদলে দিতে পারে। অস্কার এই দলের সঙ্গে গত বছর থেকে রয়েছে। আমরা নতুন দল। গুছিয়ে ওঠার চেষ্টা করছি। প্রথম ম্যাচে বেঙ্গালুরুর পর এবার ইস্টবেঙ্গল। এর পর গোয়া আর মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে খেলতে হবে।”
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
