মহমেডান ০ চেন্নাইন এফসি ০
মুনাল চট্টোপাধ্যায়: গত ম্যাচ থেকে ছন্দে ফেরাটা শুরু করেছে মহমেডান স্পোর্টিং। তবে অনেকটা দেরিতে। চারদিন আগে ওড়িশা এফসির বিরুদ্ধে শুরুতে গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়েও এডিসনের গোলে সমতা ফিরিয়ে চলতি মরশুমে আইএসএলে প্রথম পয়েন্ট পকেটে পুরেছিল সাদা কালো ব্রিগেড। তাতেই অনুপ্রাণিত হয়ে উজ্জীবিত হয়ে মঙ্গলবার চেন্নাইয়ের মাঠে চেন্নাইন এফসির সঙ্গে গোলশূণ্য ড্র করে দ্বিতীয় পয়েন্ট প্রাপ্তি ঘটল মহমেডানের। আপাতত লিগ টেবিলের সবচেয়ে নীচে থাকা মহমেডানের সংগ্রহে ৯ ম্যাচে মাত্র ২ পয়েন্ট। সেখানে ১২ নম্বর স্থানে থাকা নর্থ ইস্ট ইউনাইটেডের পয়েন্ট ৯ ম্যাচে ৭ আর ওড়িশা এফসির পয়েন্ট ৭ ম্যাচে ৬। তাই সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া নতুন সংশোধিত সংবিধান মেনে অবনমন হলে, মহমেডানের নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
ফেডারেশন সভাপতি কল্যান চৌবে দু’দিন আগে নববর্ষের আড্ডায় বলে গেছেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশমতোই তাদের চলতে হবে। এর অর্থ অবনমন এবার হচ্ছেই। আর তার কোপটা মহমেডানের ওপর পড়তে চলেছে। তবে আরও কয়েকম্যাচ আগে থেকে মহমেডান কোচ মেহরাজউদ্দিন ওয়াডু নিজের দলের ফুটবলারদের সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারলে, হয়ত অবনমন বাঁচিয়ে ফেলতেন।
এটা ঠিক যে বিদেশি ছাড়া শুধু মাত্র ভারতীয় ব্রিগেড নিয়ে অসম লড়াইটা চালানো সত্যি কঠিন মহমেডান কোচ মেহরাজের পক্ষে। কিন্তু তিনি জেনেশুনেই কোচ হিসেবে দলের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। অধিকাংশ নবীন ও অনভিজ্ঞ ফুটবলার নিয়ে গড়া দল নিয়ে শুরু থেকে অনেক প্রতিকূলতার মধ্যে দিয়ে এগোতে হয়েছে তাঁকে। তবে এই নবীন ফুটবলারদের অনেকেই প্রতিভাবান, সেটা প্রতিটি ম্যাচেই নজরে এসেছে। যেটা মহমেডানের খেলায় বড় সমস্যা , সেটা হল গোল করার ক্ষেত্রে ফিনিশিংয়ের যেমন অভাব, তেমন রক্ষণ সংগঠনের অগোছালো ভাব। কোচ মেহরাজ ওড়িশা ম্যাচের আগে পর্যন্ত দলের রক্ষণে জমাট ভাবের শৃঙ্খলা আনতে পারেননি। তাতেই প্রতি ম্যাচে সিলি মিস্টেকে গোল হজম করতে হয়েছে মহমেডানকে। নইলে আরও বেশি পয়েন্ট অর্জন করতে পারত সাদা কালো ব্রিগেড।
চেন্নাইনের বিরুদ্ধে ম্যাচে মহমেডানের খেলায় অনেক বেশি আধিপত্য ছিল আক্রমণের দিক থেকে। একইসঙ্গে রক্ষণে জমাট ভাবটা অটুট ছিল। মহমেডান গোল করে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল প্রথমার্ধে ২ বার। একবার হীরা মন্ডল ফাঁকায় হেড করার সুযোগ পেয়ে তা ক্রসপিসের ওপর দিয়ে উড়িয়ে দেন। আর একবার হীরার শট চেন্নাইন গোলকিপার নওয়াজকে হার মানিয়ে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে পোস্ট ঘেঁষে বেরিয়ে যায়। ওই অর্ধে মহমেডান ডিফেন্ডার নিশ্চিত পতন রোখেন গোললাইন থেকে বল ফিরিয়ে। দ্বিতীয়ার্ধে দু’দলের মধ্যেই হার বাঁচিয়ে এক পয়েন্টের লক্ষ্যে বেশিসময় খেলতে দেখা গেছে।
ম্যাচ শেষে মহমেডান কোচ মেহরাজ বলেন, গত ওড়িশা ম্যাচ থেকে দলের খেলায় অনেক উন্নতি হয়েছে। সে জন্যই চেন্নাইনের মতো কঠিন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে পয়েন্ট পাওয়া সম্ভব হয়েছে। ম্যাচটা জেতার মতো খেলেছেন তাঁর ফুটবলাররা, তবে সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে, জিতেও ঘরে ফিরতে পারতেন। এই ২টি ড্র থেকে ফুটবলাররা আরও অনুপ্রাণিত হবে পরের ম্যাচ ভাল খেলতে,আইএসএলে প্রথম জয়ের জন্য ঝাঁপাতে।
মহমেডান: পদম, হীরা, জুয়েল, দীনেশ, সাজাদ, লালথানকিমা(ফারদিন), অমরজিত,মহীতোষ, লালিয়ানঘাইশাকা(চিকিরো), মাকান(রোচারজেলা), এডিসন।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
