Cart Total Items (0)

Cart

All Sports India

সুচরিতা সেন চৌধুরী: প্রথম ম্যাচের মোহনবাগান আর দ্বিতীয় ম্যাচের মোহনবাগানের মধ্যে বেশ অনেকটাই ফারাক যেন খালি চোখেই দেখা গেল। গোলের জন্য ছটফটানি ছিল না এমনটা বলা যাবে না। কিন্তু কিছুটা উদ্দেশ্যহীন আক্রমণ চলল পুরো ম্যাচে। প্রতিপক্ষ চেন্নাইও একই পথেরই পথিক।  পর পর আক্রমণ তুলে এনে সাময়িক ব্যস্ত রাখল সবুজ-মেরুন রক্ষণকে। কিন্তু গোল এল না। তবে মন্দের ভালো প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে চেন্নাই রক্ষণের কিছুটা আলগাভাব আর গোলকিপারের জায়গা ছেড়ে বেরিয়ে আসাকে দারুণভাবে কাজে লাগালেন জেমি ম্যাকলারেন। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই সেই প্রথমার্ধের মতোই গোলের কাছে ছটফট করতে দেখা গেল মোহনবাগানকে, এবার আর গোল করতে বেশি সময় নেননি দিমিত্রি পেত্রাতোস। চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে ২-০ গোলে জিতে আইএসএল ২০২৫-২৬-এ জয়ের ধারা ধরে রাখল মোহনবাগান।

সোমবারের সন্ধ্যেয় যুবভারতী আগের দিনের মতো ভরেনি। সপ্তাহের প্রথম কাজের দিন অনেকেই চোখ রেখেছিলেন টেলিভিশন বা অ্যাপে। আরও একটা জয় নিয়েই সপ্তাহ শুরু করে দিল মোহনবাগান। এদিন ম্যাচ শুরুর ১২ মিনিটেই অনিরুদ্ধ থাপার দূরপাল্লার শট বাইরে না গেলে তখনই এগিয়ে যেতে পারত মোহনবাগান। এর আগেও হাফ চান্স তৈরি করেছিলেন দিমি, থাপারা। ২০ মিনিটে দিমিত্রির বক্সের বাইরে থেকে সরাসরি শট শুয়ে পড়ে বাঁচালেন চেন্নাই গোলকিপার মহম্মদ নওয়াজ। ২৭ মিনিটে যিনি মেহতাব সিংয়ের সঙ্গে সংঘর্ষে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়লেন। তাঁর জায়গায় চেন্নাইয়ের গোল সামলাতে নামলেন বাঙালি গোলকিপার সমীক মিত্র। চোট পেয়েছিলেন মেহতাবও। তবে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তিনি খেলায় ফিরে আসেন।

এদিন কিছুটা অফ কালার ছিলেন লিস্টন কোলাসো। ৪১ মিনিটে তাঁর সেন্টার থেকে জেমির হেড পোস্টে লেগে ফিরলেও তিনি আগেই অফসাইডে ছিলেন। তাই আফসোসের কোনও জায়গা ছিল না। রবসনের শট বাঁচান গোলকিপার। প্রথমার্ধের সেষ মুহূর্তে বক্সের বাইরে ফাউল করে চেন্নাইকে ভালো জায়গায় ফ্রিকিক পাইয়ে দিয়েছিলেন অভিষেক, যদিও তা কোনও কাজে লাগাতে পারেনি চেন্নাই। ততক্ষণে প্রথমার্ধের অতিরিক্ত ৪ মিনিট দেখিয়ে দিয়েছেন লাইন্সম্যান। মাঝ মাঠ থেকে থাপার লং পাসে কিছুটা বিক্ষিপ্ত হয়ে গিয়েছিল চেন্নাই ডিফেন্স। সেই সুযোগেই বক্সের মধ্যে সেই বল পেয়ে যান জেমি ম্যাকলারেন। জায়গা ছোট করতে বেরিয়ে এসেছিলেন গোলকিপার। সেই সুযোগেই ফাঁকা গোলে বল ঠেলেন জেমি। ১-০ গোলে এগিয়ে প্রথমার্ধ শেষ করে মোহনবাগান।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে আক্রমণাত্মক মুডেই পাওয়া গেল মোহনবাগানকে। যার ফল ৬৫ মিনিটেই ২-০ করে অনেকটাই আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে নিল মোহনবাগান। মাঝ মাঠ থেকে ছোট পাসে লিস্টনকে বল বাড়িয়েছিলেন দিমিত্রি। সেই বল ডানদিক থেকে বাঁদিকে শুভাশিস বসুকে লক্ষ্য করে উড়িয়ে দেন লিস্টন। বক্সের বাঁ দিক থেকে সেন্টার করেন শুভাশিস। ততক্ষণে বক্সের মধ্যে জায়গা নিয়ে ফেলেছেন দিমিত্রি পেত্রাতোস। চলন্ত বলেই দিমির শট চলে যায় গোলে। দ্বিতীয়ার্ধে এক সঙ্গে তিনটি পরিবর্তন করেন মোহনবাগান কোচ সার্জিও লোবেরা। মেহতাবের জায়গায় মনবীর, শুভাশিসের জায়গায় অময় ও রবসনের জায়গায় আলড্রেডকে নামিয়ে দেন তিন। কয়েক মিনিটের মধ্যে ম্যাকলারেনকে তুলে জেসন কামিন্সকেও নামিয়ে দেন। লক্ষ্য অবশ্যই গোলের ব্যবধান বাড়ানো আর গোল হজম না করা।

তবে দলের চারজনকে বদলেও একই দৃশ্য দেখা গেল মোহনবাগানের খেলায়। আক্রমণে ঝড় তুললেন কামিন্স। তবে তাঁর সামনে একাধিকবার শক্ত প্রাচীর তৈরি করলেন চেন্নাই গোলকিপার সমীক। ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার আগে কামিন্সের জোড়া শট দক্ষতার সঙ্গে বাঁচালেন সমীক। না হলে গোলের ব্যবধান বাড়তে পারত। তবে গোল নষ্টের বহর ভাবাবে লোবেরাকে।

মোহনবাগান: বিশাল কেইথ, অভিষেক সিং , আলবার্তো রদ্রিগেস, মেহতাব সিং (মনবীর সিং), শুভাশিস বসু (অময় রানাওয়াডে), লিস্টন কোলাসো, অনিরুদ্ধ থাপা, আপুইয়া, রবসন রবিনহো (টম আলড্রেড), দিমিত্রি পেত্রাতস ও জেমি ম্যাকলারেন (জেসন কামিন্স)।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *