সুচরিতা সেন চৌধুরী: লক্ষ্য ছিল আইএসএল-এর শুরুতেই জয়ের হ্যাটট্রিক করে নেওয়া। তবে এদিন গত দুই ম্যাচের ফুটবল পাওয়া গেল না ইস্টবেঙ্গলের তরফে। বরং অনেকবেশি আক্রমণ শানাল জামশেদপুর এফসি। আক্রমণে উঠল ইস্টবেঙ্গলও। তার মধ্যেই প্রথমার্ধের শেষে এডমুন্ডের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। ৪০ মিনিটে এগিয়ে গেলেও দ্বিতীয়ার্ধে যেন আরও কিছুটা হতাশ করল ইস্টবেঙ্গলের ফুটবল। যেখানে সমতায় ফিরল জামশেদপুর এফসি, তাদের অধিনায়ক স্টিফেন এজের গোলে। তার আগেই অবশ্য ব্যবধান বাড়ানোর মতো নিশ্চিত সুযোগ চলে এসেছিল তাদের কাছে। দুই প্রাক্তন ইস্টবেঙ্গলী মাদিহ তালাল আর মেসি বাউলির জোড়া যৌথ আক্রমণে রীতিমতো কেঁপে গিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল রক্ষণ। শেষ পর্যন্ত জামশেদপুর সমতায় ফিরল ৬০ মিনিটে। এর পর এগিয়েও গেল। এবং ২-১ গোলে ইস্টবেঙ্গলকে হারিয়েই শেষ করল।
এই মরসুমের প্রথম হার মেনে নিলেন কোচ অস্কার ব্রুজোঁ। বলছিলেন, “এই ম্যাচে অনেকগুলো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। আমরা খুব ভালো মতো ম্যাচ শুরু করতে পারিনি। ওরা খুব ভালো শুরু করেছিল, বেশ কিছু জায়গায় ওরা খুব ভালো ছিল। আমাদের খেলার উপর নিয়ন্ত্রণ ছিল, তাই আমরা গোল করেছি। আমাদের মাঝমাঠ অতটা সচল ছিল না। ওরা আমাদের থেকে বেশি ক্ষুধার্ত ছিল। তবে আমাদের মার্কিং আরও শক্ত হওয়া উচিত ছিল।’’ দলের অন্দরের খামতিগুলো এদিন খালি চোখেই ধরা যাচ্ছিল। কোচ যে তা ভালো মতই বুঝতে পেরেছেন তা নিয়েও কোনও সন্দেহ নেই। তবে তিনি এটাও বলছেন, এটা লিগ সেখানে হার-জিৎ-ড্র থাকবেই।
শুক্রবার দুই গোলকিপারই একাধিকবার নিজেদের দূর্গ রক্ষা করলেন। ইস্টবেঙ্গলের প্রভসুখন সিং গিল ও জামশেদপুরের অ্যালবিনো গোমসের বড় ভূমিকা থাকবে এদিনের ম্যাচে। তবে প্রথম ম্যাচ শেষে আশ্বস্ত হওয়ার মতো কিছু পাওয়া গেল না ইস্টবেঙ্গলের নবাগত বিদেশি অ্যান্টন সোজবার্গের তরফে। তবে তাঁকে সময় দিতে হবে। যদিও ইয়ুসুফ এজেজ্জারি অভিষেকেই জোড়া গোল করে আশা বাড়িয়ে দিয়েছিলেন সমর্থকদের। দ্বিতীয় ম্যাচেও জোড়া গোল করেন তিনি। তবে এদিন সেভাবে তাঁকে দেখা যায়নি। বরং এডমুন্ডের গোল ছাড়াও মিগুয়েল, বিপিনরাও নজর কাড়লেন কিন্তু কোথাও ঘাটতি থেকে গেল, যা ভাবাবে কোচ অস্কার ব্রুজোঁকে।
মেনে নিলেন এই হার দলকে হজম করতে হবে। বলছিলেন, ‘‘এই হার আমাদের হজম করেই পরের ম্যাচে তিন পয়েন্টের জন্য ঝাঁপাতে হবে।’’ তবে সব থেকে আশ্চর্যের কথাও শোনা গেল এই ম্যাচ শেষের মাত্র ছয় মিনিট আগে কেন তিনি এজেজ্জারিকে তুলে নিলেন সে প্রসঙ্গে। তিনি বলেন, ‘‘এটা তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত ছিল। কারণ সে উপোস করেছিল। পাঁচটায় খেলা হওয়ায় সমস্যা হয়েছে।’’ এমন উত্তর বেশ কিছুটা অপ্রত্যাশিতই ছিল। যদি এমনটা হয়ে থাকে তাহলে তা আগে থেকেই জানা ছিল যে তিনি উপোস থাকবেন। তার পরও তাঁকে ৮৪ মিনিট পর্যন্ত মাঠে রাখলেন। শেষের অতিরিক্ত সময়সহ ১৩ মিনিটে অনেক কিছুই ঘটতে পারত তিনি থাকলে? কারণ প্রথম দুই ম্যাচে জোড়া গোল করার পর তৃতীয় ম্যাচেও মাঠে তাঁকেই অনেকবেশি আক্রমণাত্মক দেখাচ্ছিল।
যদিও নবাগত বিদেশি অ্যান্টন সোজবার্গকে নিয়ে সন্তুষ্টই শোনাল কোচের গলা। বলছিলেন, ‘‘গত সপ্তাহেই ও এসেছে। অনুশীলনে ভালোও করেছে। ও ম্যাচের মধ্যেই ছিল। শারীরিকভাবেও ফিট রয়েছে। ওর মধ্যে খেলা রয়েছে।’’ কোচের কথায় দলের সঙ্গে, নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে কিছুটা সময় দিতে হবে। তবে তাঁর বিশ্বাস পরের ম্যাচ থেকেই অ্যান্টনকে আরও ভালোভাবে পাওয়া যাবে। এদিকে দুই প্রাক্তন মাদিহ তালাল ও মেসি বাউলির দাপটে এদিন ইস্টবেঙ্গল কিছুটা কোনঠাসা হয়ে পড়েছিল, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। তাঁদের প্রশংসায় ভড়ালেন অস্কার।
অন্যদিকে মাদিহ তালাল অবশ্য দলের জয়ে বেজায় খুশি। তবে প্রাক্তন দলের বিরুদ্ধে জয়ের থেকে দলের টানা তিন জয়কেই এগিয়ে রাখছেন তিনি। বলছিলেন, ‘‘ইস্টবেঙ্গল ভালো দল, তাদের বিরুদ্ধে জয় এসেছে। এটা ঠিক আমিও গোল করতে পারতাম কিন্তু দল জিতেছে সেটাই আসল। আমরা সবাই পেশাদার ফুটবলার। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দল বদলও হবে, তাই আলাদা করে প্রাক্তন দল বলে ভাবছি না।’’ তবে এই মুহূর্তে একটা একটা করে ম্যাচ ধরেই এগোতে চাইছে তাঁর দল সেটাও স্পষ্ট করে দিলেন তিনি। ‘‘আমরা টানা তিনটে ম্যাচ জিতেছি, এখন চতুর্থ ম্যাচ নিয়ে ভাবছি, ব্যস। চ্যাম্পিয়নশিপ অনেক দূর। অত দূর নিয়ে ভাবছি না,’’ বলেন তালাল।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
