Cart Total Items (0)

Cart

All Sports India

সুচরিতা সেন চৌধুরী: অতীতে এমন ঘটনা দেখা গিয়েছে বার বার। তবে যুবভারতী নতুন করে সেজে ওঠার পর এটাই মনে হয় প্রথম যখন এফসি গোয়ার রক্ষণ সামলাতে নেমে পড়ল কুকুর। প্রথম রাউন্ডে তাঁকে মাঠ থেকে বের করলেন এজেজ্জারি। কিন্তু সে পুরো মাঠ ঘুরে আবার ঢুকে পড়ল গোয়া গোলের দিকে। তার মধ্যেই চলল খেলা। মিনিট পাঁচেক চলল এভাবেই। তার পর তাঁকে মাঠ থেকে বিদায় করা গেল। প্রথমার্ধে ইস্টবেঙ্গল বনাম এফসি গোয়া ম্যাচের আধঘণ্টায় বলার মতো আর কিছুই ছিল না। শেষ ১০ মিনিট ইস্টবেঙ্গল আক্রমণে পর পর ঝড় তুলল ঠিকই তবে সুযোগ পেয়েছিল গোয়াও। যা একাধিকবার আটকে গেল আনোয়ার আলি আর গোলকিপার প্রভসুখন সিং গিলের দৌলতে। না হলে শুরুতেই গোল হজম করতে হতো ইস্টবেঙ্গলকে। যদিও ম্যাচ শেষ হল গোলশূন্য ভাবেই।

সিঙ্গল লেগে একটা ম্যাচে হার মানে অনেকটাই পিছিয়ে পড়া, যা ইতিমধ্যেই জামশেদপুরের কাছে হেরে নিজেদের বিপদ ডেকে এনেছে ইস্টবেঙ্গল। যে কারণে এই ম্যাচ ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যাদের কাছে এই মরসুমের সুপার কাপের ফাইনালে টাইব্রেকারে হেরে ট্রফি হাতছাড়া করেছিল ইস্টবেঙ্গল। একদিক থেকে ইস্টবেঙ্গলের জন্য এই ম্যাচ ছিল বদলার, অন্যদিকে আইএসএল-এ ঘুরে দাঁড়ানোর। দ্বিতীয় লক্ষ্যটাই এই মুহূর্তে অনেকবেশি গুরুত্বপূর্ণ। যে লক্ষ্যের শুরুটা মোটেও ভালো হল না ইস্টবেঙ্গলের। খেলা শুরুর ১৩ মিনিট থেকে ৪১ মিনিটের মধ্যে যেভাবে ইস্টবেঙ্গলের অর্ধে আক্রমণ শানাল গোয়া তাতে যে কোনও সময় গোল হজম করে পিছিয়ে পড়তে পারত।

১৩ মিনিটে আনোয়ারের একটা অসাধারম ক্লিয়ার থেকে শুরু। ৩৪ মিনিটে বরিস থেকে বল পেয়ে ব্রাইসনের সোজাসুজি গোল লক্ষ্য করে শট শরীর ছুঁড়ে বাঁচিয়ে দেন গিল। ঠিক চার মিনিটের মাথায় আবারও একই ভূমিকায় পাওয়া গে গিলকে। এবার গোয়ার হয়ে আক্রমণ শানিয়েছিলেন দ্রাজিকের পাস থেকে ঈশান পণ্ডিতা। ৪১ মিনিটে আবারও আক্রমণ সুপার কাপ চ্যাম্পিয়নদের। এবার বরিস সিংয়ের শট ক্রসবারে লেগে বেরিয়ে যায় বাইরে। মাঝে ২৭ মিনিটে মহেশের থেকে একটা থ্রু বল ধরে বক্সের মধ্যে বিপিনের লম্বা ক্রস বাইরে পাঠান এজেজ্জারি। এটিই ছিল ইস্টবেঙ্গলের সের সুযোগ। প্রথমার্ধের শেষ ১০ মিনিট কিছুটা আক্রমণে ঝাঁঝ বাড়ায় ইস্টবেঙ্গল। ৪২ মিনিটে বিপিন থেকে মহেশ হয়ে রশিদের শট প্রতিপক্ষ গোলকিপার হৃত্বিক তিওয়ারির হাত হয়ে ক্রসবারে লেগে বেরিয়ে যায় বাইরে।

গোলশূন্য ফলাফল নিয়েই দ্বিতীয়ার্ধে খেলতে নামে দুই দল। যা প্রথমার্ধের থেকেও ম্যারম্যারে। দেখে মনে হবে কোনও দলেরই জয়ের ইচ্ছে নেই। যেন ড্র ম্যাচই লক্ষ্য। বল নিয়ে দৌঁড়, গোল লক্ষ্য করে শট, প্রতিপক্ষকে আটকে দেওয়া, গোলকিপারের সেভের পাশাপাশি ছিল ক্রসবারও, সব হল, শুধু গোলটাই হল না। এদিন এই মরসুমের আইএসএল-এ চোট সারিয়ে প্রথম খেলতে নামলেন ইস্টবেঙ্গলের নাওরেম মহেশ। তাঁর পারফর্মেন্স আশানুরূপ না হওয়ায় দ্বিতীয়ার্ধে তাঁকে তুলে বিষ্ণুকে নামান কোচ অস্কার। একই সঙ্গে তুলে নেন এডমুন্ডকেও। তাঁর জায়গায় নামেন নবাগত বিদেশি অ্যান্টন সোজবার্গ, যিনি নজর কাড়তে ব্যর্থ। জয় গুপ্তাও নামলেন ৭০ মিনিটের পর, যাঁকে হয়তো এদিন প্রথম থেকেই নামাতে পারতেন কোচ। বার বার ৮৫ মিনিটের পর ডেভিডকে নামিয়ে যে কোচ কী প্রমাণ করতে চান সেটাও একটা বড় প্রশ্ন। যাঁকে পরীক্ষায় নামানো হল কিন্তু সময় দেওয়া হল না।

শেষ বেলায় গোয়া বক্সের সামনে সাময়িক চাঞ্চল্য তৈরি হল। ইস্টবেঙ্গলের পক্ষে দাবি উঠল হ্যান্ডবলেরও। যদিও রেফারি সেই দাবিতে কান দিলেন না। উত্তেজনায় তেড়ে গিয়ে হলুদ কার্ড দেখলেন ইস্টবেঙ্গলের সহকারি কোচ। অনেক কিছুই হল এই ম্যাচে, শুধু গোলটাই হল না। চার ম্যাচে পাঁচ পয়েন্ট নষ্ট করে সমস্যা আরও বাড়িয়ে ফেলল ইস্টবেঙ্গল। ইস্টবেঙ্গলের বর্তমান পয়েন্ট চার ম্যাচে সাত।

ইস্টবেঙ্গল: প্রভসুখন সিং গিল, মহম্ম্দ রাকিপ, আনোয়ার আলি, জিকসন সিং, লালচুংনুঙ্গা (জয় গুপ্তা), মহেশ সিং (পিভি বিষ্ণু), মহম্মদ রশিদ, মিগুয়েল ফেরেরা, বিপিন সিং (ডেভিড), এডমুন্ড লালরিনডিকা (অান্টন সোজবার্গ), ইয়ুসুফ এজেজ্জারি।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *