Cart Total Items (0)

Cart

All Sports India

মোহনবাগান ৫(‌ম্যাকলারেন-‌৪, আলবার্তো)‌         ওড়িশা ১(‌রহিম)‌

মুনাল চট্টোপাধ্যায়:‌ মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের বিজয়রথের দৌড় অব্যাহত। বাগানের অশ্বমেধের ঘোড়াকে থামানোর মতো ক্ষমতা ওড়িশা এফসির ছিল না। পারেওনি। শুক্রবার যুবভারতীতে আইএসএলে নিজেদের ৪ নম্বর ম্যাচে ওড়িশার বিরুদ্ধে ম্যাকলারেন ম্যাজিকে ৫-‌১ গোলে সহজ জয় তুলে নিয়ে ১২ পয়েন্ট পকেটে পুরে লিগ শীর্ষেই থাকল মোহনবাগান। গত ম্যাচে মহমেডানের বিরুদ্ধে ৫-‌১ গোলে জয়ের পর আরও একটা বড় ব্যবধানের জয়ে গোল পার্থক্য ঈর্ষণীয় জায়গায় নিয়ে গেল তারা। একা ম্যাকলারেনের পা থেকেই এল হ্যাটট্রিক সহ ৪ গোল। আইএসএলে ম্যাকলারেনের প্রথম হ্যাটট্রিক সবুজ মেরুন জার্সিতে। সমর্থকদের মন রাঙিয়ে দিয়ে বাগানে বসন্তের বাতাস বইয়ে দিলেন তিনি। আর এক গোল আলবার্তোর। গত দু’‌মরশুম ওড়িশা দলের কোচের দায়িত্বে ছিলেন মোহনবাগানের হেড স্যার সের্জিও লোবেরা। পুরোন দলের বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে আবেগের অনুভূতি দেখালেও, খেলায় কোনওরকম নরম মনোভাব দেখালেন না তিনি।

গত ম্যাচে মহমেডানের বিরুদ্ধে ২ গোল করার পরই পায়ের পেশিতে টান ধরেছিল রবসনের। তাঁকে তুলে নিতে বাধ্য হয়েছিলেন মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট কোচ সের্জিও লোবেরা। ওড়িশা ম্যাচের আগে দলের সঙ্গে অনুশীলন করেননি রবসন। এতে বোঝাই গিয়েছিল আনফিট রবসনকে তাঁর পুরোন দল ওড়িশার বিরুদ্ধে মাঠে নামানোর ঝুঁকি তিনি নেবেন না। নেননি। ৪-‌৩-‌৩ ছকে আক্রমণের ঝাঁজ বাড়াতে রবসনের জায়গায় সামনে জেমি ম্যাকলারেন ও জেসন কামিংসের সঙ্গে জুড়ে দেন দিমিত্রিকে। তাতেই ওড়িশা রক্ষণে থরহরি কম্প। হবেই বা না কেন?‌ মাত্র একজন বিদেশি কার্লোস দেলগাডোকে নিয়ে মোহনবাগানের মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে অসম লড়াই চালানো যায় না। স্বাভাবিকভাবেই ওড়িশার গোল হজম করাটা ছিল শুধু সময়ের অপেক্ষা। যতই তারা চলতি মরশুমে আইএসএলের প্রথম ২ ম্যাচে ড্র করে থাকুক।

ম্যাচের শুরু থেকেই ওড়িশা রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করেছিল মোহনবাগান। ১১ মিনিটে অভিষেক দূর থেকে একটা আচমকা শট মেরেছিলেন গোল লক্ষ্য করে। ওড়িশা গোলকিপার অমরিন্দারকে পরীক্ষা করার মতো জোর ছিল শটে। অমরিন্দার কোনওরকমে চাপড়ে বল বের করে দলের পতন রোখেন।

১৪ মিনিটে প্রথম গোল পেয়ে যায় মোহনবাগান। বক্সের ঠিক মাথায় বল পেয়ে ব্যাকহিলে ওভারল্যাপে উঠে আসা শুভাশিসকে সেটা দিয়েছিলেন দিমিত্রি পেত্রাতোস। বল ধরে বাঁপ্রান্ত দিয়ে গতি বাড়িয়ে উঠে গোললাইন বররবর পৌঁছে বাঁপায়ে মাপা ক্রশ বক্সে ভাসালে, বাজপাখীর ক্ষিপ্রতায় চলন্ত বলে মাথা ছুঁইয়ে জালের ভেতর পাঠান জেমি ম্যাকলারেন। লেফট উইং ব্যাকে অময়ের বদলি হিসেবে নামা শুভাশিস ও রাইট উইংয়ে লিস্টন বল নিয়ে বারবার আক্রমণে উঠে ওড়িশার নাভিশ্বাস তুলে দেন।

তা থেকেই ২৪ মিনিটে দ্বিতীয় গোলটাও তুলে নিল সবুজ মেরুন। ডানপ্রান্তে বল পেয়ে লিস্টন ওড়িশা বক্সের ধারে পৌঁছে ভেতরে কাট করে ঢুকে এসে মাইনাস করলে ম্যাকলারেন তা গোল পাঠিয়ে চলতি মরশুমে নিজের গোল সংখ্যা পাঁচে নিয়ে যান। ৪২ মিনিটে মাঝমাঠে আলগা বল পেয়ে যান আলবার্তো। সেই বলে আলবার্তোর ২৫ গজ দূর থেকে নেওয়া বাঁপায়ের গড়ানো কোনাকুনি শট ওড়িশা গোলকিপার অমরিন্দারের বাড়ানো হাতের নাগাল এড়িয়ে গোলে ঢোকে।

তিন গোলে এগিয়ে যাওয়র পর বাগান ফুটবলারদের মধ্যে ক্ষনিকের আলস্য ভাব এসেছিল। তার খেসারত দিতে হল গোল হজম করে। ৪৩ মিনিটে খেলার গতির বিরুদ্ধে রহিম আলির। সেন্টার থেকে ওড়িশার ফুটবলারের বাড়ানো লম্বা বল মোহনবাগান ডিফেন্ডারদের মাথা টপকে গোলকিপার বিশালের সামনে পড়ে। ফাঁকা জায়গায় পড়া বল পেছন থেকে দৌড়ে এসে দখলে নিয়ে গোলে ঠেলেন রহিম আলি।

গোল খেয়ে সম্বিত ফেরে সবুজ মেরুনের। প্রথমার্ধের শেষে সংযুক্তি সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে লিস্টনের পাস থেকে গোল করে দলের চতুর্থ ও নিজের হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ করলেন ম্যাকলারেন। চলতি আইএসএলে ম্যাকলারেনের ৬ নম্বর গোল। মোহনবাগানে যোগদানের পর থেকে নিজের নামের প্রতি সুবিচার করে চলেছেন এ লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা ম্যাকলারেন।

তাতেও থেমে থাকলেন না ম্যাকলারেন। ৮৮ মিনিটে ওড়িশা মাঝমাঠে বল পেয়ে ৩০ গজ দৌড়ে বক্সে ঢুকে নিজের ৪ নম্বর ও দলের পঞ্চম গোলটি করেন ম্যাকলারেন। আইএসএলে তাঁর পকেটে এখন ৭ গোল। খুব সঙ্গতভাবেই তিনি ম্যাচের সেরা।

মোহনবাগান:‌ বিশাল, অভিষেক, মেহতাব(‌টম)‌, আলবার্তো, শুভাশিস(‌অময়)‌, লিস্টন,আপুইয়া,অনিরুদ্ধ(‌টাংরি)‌, দিমিত্রিয়স, কামিংস(‌মনবীর)‌, ম্যাকলারেন।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *