শুভমান গিল। ছবি— বিসিসিআই এক্স
অলস্পোর্ট ডেস্ক: ২০২৪-২০২৫ মরসুমে ভারতীয় ক্রিকেটারদের অসাধারণ পারফরম্যান্সের স্বীকৃতিস্বরূপ রবিবার অনুষ্ঠিত হলো ‘বিসিসিআই নমন পুরস্কার’ বিতরণী অনুষ্ঠান। এই সন্ধ্যায় ভারতীয় ক্রিকেটের শীর্ষ তারকাদের অবদানের স্বীকৃতি জানানো হয়; পাশাপাশি রজার বিনি, রাহুল দ্রাবিড় এবং মিতালি রাজের মতো কিংবদন্তিদের ভারতীয় ক্রিকেটে তাঁদের অবদানের জন্য বিশেষ সম্মান প্রদান করা হয়। তবে, অনুষ্ঠানটির টেলিভিশন সম্প্রচারের সময় গ্রাফিক্সে একটি ভুলের কারণে রোহিত শর্মার ভক্তরা বেশ ক্ষুব্ধ। অনুষ্ঠান শেষে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিন্দার ঝড় ওঠে। পুরস্কার বিতরণী চলাকালীন, যখন ভারতীয় ওয়ানডে ও টেস্ট অধিনায়ক শুভমান গিলের নাম পর্দায় ভেসে ওঠে, তখন স্ক্রিনে প্রদর্শিত গ্রাফিক্সে তাঁকে ‘বিজয়ী অধিনায়ক, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০২৫’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। অথচ, নিউজিল্যান্ডকে ফাইনালে পরাজিত করে রোহিত শর্মার নেতৃত্বেই ভারত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০২৫-এর শিরোপা জিতেছিল।
অসাধারণ ফর্মে থাকা ব্যাটার শুভমান গিল এবং স্মৃতি মন্ধনাকে ‘বিসিসিআই নমন পুরস্কার ২০২৬’-এ যথাক্রমে সেরা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার (পুরুষ ও নারী বিভাগ) হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। গিল মর্যাদাপূর্ণ ‘পলি উমরিগার পুরস্কার’ জেতেন, অন্যদিকে স্মৃতি মন্ধনা পঞ্চমবারের মতো এই পুরস্কার জিতে নেন।
গিলের জন্য এটি ছিল তাঁর দ্বিতীয় ‘বর্ষসেরা ক্রিকেটার’ পুরস্কার; এর আগে তিনি ২০২৩ সালে প্রথমবার এই স্বীকৃতি পেয়েছিলেন।
ভারতীয় ক্রিকেটে তাঁদের অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ, প্রাক্তন তারকা রজার বিনি, রাহুল দ্রাবিড় এবং মিতালি রাজকে বিসিসিআই-এর সর্বোচ্চ সম্মান—’কর্নেল সি. কে. নাইডু লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট’—এ ভূষিত করা হয়।
এই অনুষ্ঠানে ভারতের পাঁচটি ট্রফিজয়ী দলকে (২০২৫ আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি, ২০২৫ মহিলা ওয়ানডে বিশ্বকাপ, ২০২৫ অনূর্ধ্ব-১৯ মহিলা বিশ্বকাপ, ২০২৬ অনূর্ধ্ব-১৯ পুরুষ বিশ্বকাপ এবং ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ) বিশেষ পুরস্কারে সম্মানিত করা হয়।
২০২৫ সালটি গিলের জন্য ছিল অত্যন্ত উজ্জ্বল একটি বছর; এই সময়ে তিনি ক্রিকেটের দীর্ঘতর ফর্ম্যাটগুলোতে দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ব্যাটার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
“সবার আগে, আমাকে এই পুরস্কার দেওয়ার জন্য আমি বিসিসিআই-কে ধন্যবাদ জানাই। ভারতীয় ক্রিকেটের অনেক মহান ব্যক্তিত্ব ও কিংবদন্তি এর আগে এই পুরস্কার পেয়েছেন; তাই তাঁদের তালিকায় স্থান পাওয়াটা আমার জন্য এক বিশাল সম্মানের বিষয়। গত বছর একটি দল হিসেবে ভারতীয় ক্রিকেট যে সাফল্য অর্জন করেছে, তা সত্যিই অভাবনীয়—পাঁচটি আইসিসি ট্রফি জয়; আমার মনে হয় না এর আগে এমন ঘটনা আর কখনও ঘটেছে,” শুভমান গিল তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন। “আমি আমার সতীর্থদের ধন্যবাদ জানাতে চাই, কারণ তাদের ছাড়া এর কিছুই সম্ভব হতো না। আমি আমার বাবা-মা এবং পরিবারের সদস্যদেরও ধন্যবাদ জানাতে চাই, যারা আমাকে আজকের এই জায়গায় পৌঁছতে সাহায্য করেছেন। আবারও আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ,” গিল যোগ করেন।
ইংল্যান্ড সফরে, অধিনায়ক গিল পাঁচ ম্যাচের টেস্ট সিরিজে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন। ১০ ইনিংসে ৭৫.৪০ গড়ে মোট ৭৫৪ রান নিয়ে তিনি সিরিজের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হিসেবে শেষ করেন; যার মধ্যে চারটি সেঞ্চুরি এবং ২৬৯ রানের একটি সর্বোচ্চ ইনিংস অন্তর্ভুক্ত ছিল। গত বছর ভারতের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়েও গিল এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তিনি বিশ্বের ১ নম্বর ওডিআই ব্যাটার হিসেবেই এই টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েছিলেন। ভারতের উদ্বোধনী ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে তিনি অপরাজিত ১০১ রানের একটি ইনিংস খেলেন এবং পুরো টুর্নামেন্টে মোট ১৮৮ রান করেন।
স্মৃতি মন্ধনা ২০২৫ সাল শেষ করেন ১,৭০৩ আন্তর্জাতিক রান নিয়ে—যার মধ্যে ওডিআইতে করা ১,৩৬২ রান ছিল এক মরসুমে কোনও মহিলা ক্রিকেটারের করা সর্বোচ্চ রান। এর মধ্যে দিয়ে, মন্ধনা মহিলা ওডিআই ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথম ব্যাটার হিসেবে এক মরসুমে ১,০০০ রান করার মাইলফলক স্পর্শ করেন।
“আমি এই পুরস্কারটি নিয়ে কথা বলতে পারি, কিন্তু দলের অবদানের কথা উল্লেখ না করে কেবল ব্যক্তিগত অর্জন নিয়ে কথা বলাটা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। সত্যি বলতে, এটি একটি অসাধারণ বছর ছিল। তাই আপনাদের ধন্যবাদ—এবং বিসিসিআই-কেও ধন্যবাদ জানাই যেভাবে আপনারা মহিলা ক্রিকেটের পাশে দাঁড়িয়েছেন ও সহায্য করেছেন, তার জন্য। আমি আশা করি, আমরা ভবিষ্যতেও সাফল্যের আরও নতুন নতুন শিখরে আরোহণ করতে থাকব,” মন্ধনা বলেন।
বিশ্বকাপে অবদান রাখার ঠিক আগে, বাঁ-হাতি ব্যাটার মন্ধনা নয়াদিল্লিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মাত্র ৫০ বলে একটি সেঞ্চুরি হাঁকান। এর মধ্যে দিয়ে তিনি ভারতের কোনও ব্যাটারের করা দ্রুততম ওডিআই সেঞ্চুরির রেকর্ডটি নিজের করে নেন এবং বিরাট কোহলির ৫২ বলের রেকর্ডটি ভেঙে দেন। ২০২৪-২৫ ঘরোয়া মরসুমে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে শেফালি ভার্মা (সেরা মহিলা ক্রিকেটার—সিনিয়র ঘরোয়া একদিনের ম্যাচ), ইরা যাদব (সেরামহিলা ক্রিকেটার—ঘরোয়া), হর্ষ দুবে (সেরা অলরাউন্ডার—রঞ্জি ট্রফি) এবং আয়ুষ মাত্রে (সেরা অলরাউন্ডার—ঘরোয়া সীমিত ওভারের প্রতিযোগিতা)—এঁরাও পুরস্কার অর্জন করেছেন।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
