Cart Total Items (0)

Cart

All Sports India

ইস্টবেঙ্গল এফসি ৭ (আনোয়ার আলি-২, ইউসুফ এজেজ্জারি-২ (পেনাল্টি), সল ক্রেসপো (পেনাল্টি), পিভি বিষ্ণু, নন্ধা কুমার)

মহমেডান ০

সুচরিতা সেন চৌধুরী: ইস্টবেঙ্গল বনাম মহমেডান ম্যাচ কলকাতা ডার্বির অংশ। ডার্বি থেকে মিনি ডার্বি হয়ে এখন সেই ঐতিহ্যও অতীত। কারণ কলকাতার তৃতীয় প্রধান হিসেবে ভারতীয় ফুটবলে জায়গা করে নেওয়া মহমেডান এসসির সেই রমরমাও অতীত। গত মরসুমেই আই লিগ জিতে আইএসএল খেলার ছাড়পত্র পেয়েছিল সাদা-কালো ব্রিগেড। কিন্তু নানান ঝামেলায় হাতছাড়া হয়েছে স্পনসর। নেই কোনও বিদেশি। এই অবস্থায় বাধ্য হয়েই আইএসএল-এ খেলতে হচ্ছে মহমেডানকে। মোহনবাগানের সঙ্গে ৫-১ গোলে হারের মুখ দেখতে হয়েছিল, ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে সেই ব্যবধান হল ৭-০। মহমেডানের আরও তলিয়ে যাওয়ার দিনই ঘুরে দাঁড়ানোর রসদ পেল ইস্টবেঙ্গল। যদিও এই ম্যাচ দেখল পেনাল্টির হ্যাটট্রিক। সঙ্গে লাল কার্ডও।

গত তিন ম্যাচে জোড়া ড্র ও একটি হারের ফলে গেল গেল রব উঠে গিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল জুড়ে, অস্কার বিদায়ের ঘণ্টা প্রায় বেজেই গিয়েছে মন হচ্ছিল। শেষ ম্যাচে কেরালার বিরুদ্ধে ১-১ গোলে ড্রয়ের পর ‘গো ব্যাক’ ধ্বনিও শুনতে হয়েছিল ইস্টবেঙ্গল কোচকে। তিনিও যে বিরক্ত সেটাও বুঝিয়ে দিয়েছিলেন অস্কার। তবে এই একটা জয়, লিগের দুর্বলতম দলের বিরুদ্ধে কিছুটা হলেও অক্সিজেন দেবে লাল-হলুদ ব্রিগেডকে। যদিও এই জয় সাফল্যের মাপকাঠি হতে পারে না। কারণ অবশ্যই প্রতিপক্ষ। ঈদের কারণে গত শনিবারের ম্যাচ বাতিল করে সোমবার নিয়ে আসা হয়েছিল। তবে ভাগ্য বদলালো না মহমেডানের। ১২ মিনিটেই ২-০ গোলে এগিয়ে গেল ইস্টবেঙ্গল।

৭ মিনিটে সবাইকে চমকে দিয়ে প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে নেওয়া আনোয়ার আলির শট গোলে ঢুকে যেতেই প্রায় হাজার পনেরোর গ্যালারিতে ফিরে এলো উচ্ছ্বাস। পুরো সময়টাই প্রায় খেলা হল মহমেডান অর্ধে। ইস্টবেঙ্গল গোলের নিচে অনেকটা সময়ই বিশ্রামে কাটাতে হল প্রভসুখন সিং গিলকে। উল্টোদিকে পদম ছেত্রী চাপে থাকলেন পুরো ম্যাচেই। ১২ মিনিটে মিগুয়েলকে বক্সের মধ্যে ফেলে দিয়ে ইস্টবেঙ্গলকে পেনাল্টি পাইয়ে দিলেন সাজাদ হুসেন। পেনাল্টি থেকে গোল করতে ভুল করেননি ইউসুফ এজেজ্জারি। তবে এই ম্যাচেও শুধু প্রথমার্ধেই যা গোলের সুযোগ নষ্ট করল ইস্টবেঙ্গল তা চিন্তায় রাখবে অস্কারকে। এদিন মাঠে ঢোকার সময়ই মহমেডান কোচ মেহরাজউদ্দিনের সঙ্গে বেশ অনেকটা সময় কথা বলতে দেখা যায় অস্কারকে। পূর্ব পরিচয়, লড়াইয়ে নামার আগে ঝালিয়ে নিলেন হয়তো।

গত ম্যাচে বিষ্ণুকে লেফটব্যাকে খেলিয়ে সমালোনার মুখে পড়তে হয়েছিল অস্কারকে, যেখানে তিনি ব্যর্থও। এদিন তিনব্যাকে দল সাজালেন তিনি। যদিও ইস্টবেঙ্গল রক্ষণকে খুব বেশি পরীক্ষার মুখে পড়তে হল না। তবে পর পর ইস্টবেঙ্গল আক্রমণ সামলাতে গিয়ে বার বার ঝুঁকি নিয়ে ফেললেন মহমেডান ফুটবলাররা। যার ফল প্রথমার্ধেই জোড়া পেনাল্টি থেকে গোল করে ৩-০ করে ফেলল ইস্টবেঙ্গল। ৩৫ মিনিটে এডমুন্ডকে ফাউল করে পেনাল্টি পাইয়ে দিলেন জোসেফ। তার জন্য হলুদকার্ড তো দেখলেনই, রেফারির সঙ্গে তর্ক করে দেখলেন দ্বিতীয় হলুদ কার্ড। ৩৬ মিনিটেই ১০ জনে হয়ে যায় মহমেডান। ইস্টবেঙ্গলের হয়ে নেওয়া সল ক্রেসপোর পেনাল্টি শট গোল হলেও তা বাতিল হয়, দ্বিতীয় শটও পদম ছেত্রীকে দাঁড় করিয়ে সহজেই গোলে পাঠান তিনি। শেষবেলায় বিষ্ণুর শট ক্রসবারে না লাগলে ৪-০ গোলে এগিয়ে প্রথমার্ধ শেষ করতে পারত ইস্টবেঙ্গল।

৩-০ গোলের ব্যবধান নিয়ে দ্বিতীয়ার্ধে খেলতে নেমে আবারও পেনাল্টি থেকে ৪-০ করেন ইউসুফ এজেজ্জারি। আইএসএল-এর ইতিহাসে এক ম্যাচে তিনটি পেনাল্টি এর আগে কখনও হয়েছে বলে মনে পড়ছে না। ৫৪ মিনিটে মিগুয়েলকে ফাউল করে পেনাল্টি পাইয়ে দেন স্বয়ং মহমেডান গোলকিপার পদম ছেত্রী। পেনাল্টি থেকেই নিজের দ্বিতীয় ও দলের চতুর্থ গোলটি করে যান ইউসেফ এজেজ্জারি। এর পর এক সঙ্গে তিনটি পরিবর্তন করেন অস্কার ব্রুজোঁ। সৌভিক, নন্ধা ও ডেভিডকে নামিয়ে তুলে নেন ক্রেসপো, বিপিন ও এজেজ্জারিকে। এই তো সুযোগ সবাইকে একটু বেশি সময় দেখে নেওয়ার। ৭৫ মিনিটে ৫-০ করে ইস্টবেঙ্গল জনতাকে স্বস্তি দেন পিভি বিষ্ণু। যদিও কর্নার থেকে উড়ে আসা বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে প্রায় গোলে ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন মহমেডানের রোচারজেলা। তবে শেষ টাচ বিষ্ণুর। ৭৯ মিনিটে আনোয়ার আলি আর ৯০+৫ মিনিটে নন্ধার গোলের সঙ্গেই ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজিয়ে দেন রেফারি। আরও গোল হতেই পারত তবে ৭-০-তেই শেষ হল ম্যাচ। ইস্টবেঙ্গল ছয় থেকে উঠে এল চারে সঙ্গে বাড়িয়ে নিল গোলের সংখ্যাও, যা পরবর্তীতে কাজে লাগবে লাল-হলুদ ব্রিগেডের।

ইস্টবেঙ্গল: প্রভসুখন সিং গিল, মহম্মদ রাকিপ, আনোয়ার আলি, জিকসন সিং, পিভি বিষ্ণু, বিপিন সিং (নন্ধা কুমার), সল ক্রেসপো (সৌভিক চক্রবর্তী), মহম্মদ রশিদ, মিগুয়েল ফেরেরা (অ্যান্টন সোজবার্গ), এডমুন্ড লালরিনডিকা ((নাওরেম মহেশ), ইউসুফ এজেজ্জারি (ডেভিড)

মহমমেডান: পদম ছেত্রী, দীনেশ মিতেই (হিরা মণ্ডল), গৌরব বোরা, সাজাদ হোসেন, জোসেফ লালমুয়ানা, অমরজিত সিং, লালথানকিমা (রোচারজেলা), তাংভা রাগুই (জুয়েল আহমেদ), মোহিতোষ রায়, মহম্মদ ফারদিন, অ্যাডিসন (লালরেমসাঙ্গা)

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *