Cart Total Items (0)

Cart

All Sports India

অলস্পোর্ট ডেস্ক: অলিম্পিকে ব্রোঞ্জজয়ী এবং ছ’বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারতীয় বক্সার এমসি মেরি কম জানিয়েছেন যে, তিনি পেশাদার বক্সিংয়ে ফেরার কথা বিবেচনা করছেন। ৪৩ বছর বয়সী এই বক্সার—যিনি ২০১২ সালের লন্ডন অলিম্পিকে ব্রোঞ্জ জিতে প্রথম ভারতীয় মহিলা বক্সার হিসেবে অলিম্পিক পদক জয়ের নজির গড়েছিলেন—বর্তমানে অপেশাদার বা অ্যামেচার বক্সিংয়ে অংশগ্রহণের জন্য নির্ধারিত বয়সের সীমা অতিক্রম করে ফেলেছেন।

‘সানডেস অন সাইকেল’ নামক একটি অনুষ্ঠানের ফাঁকে মেরি কম তাঁর ক্যারিয়ারের উল্লেখযোগ্য অর্জন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন। তিনি জানান, ছ’বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়াটা নিঃসন্দেহে এক অবিশ্বাস্য প্রাপ্তি ছিল; কিন্তু বয়সের সীমাবদ্ধতার কারণে দেশের হয়ে অপেশাদার বক্সিংয়ে তাঁর অংশগ্রহণের সুযোগ এখন সীমিত হয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, “পেশাদার বক্সিংয়ের জগতে আমার সামনে একটি নতুন দরজা খুলেছে। বর্তমানে আমি বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তাভাবনা করার জন্য কিছুটা সময় নিচ্ছি। আমি কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছি এবং আবারও স্বমহিমায় ফিরে আসার চেষ্টা করছি, যাতে মানুষকে দেখিয়ে দিতে পারি যে আমার সামর্থ্য এখনও ফুরিয়ে যায়নি।”

সর্বকালের অন্যতম সেরা অপেশাদার বক্সার হিসেবে ব্যাপকভাবে পরিচিত মেরি কম মণিপুরে অবস্থিত তাঁর নিজস্ব অ্যাকাডেমির মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায় থেকে বক্সিংয়ের বিকাশে তাঁর অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। মণিপুরের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে তাঁকে যেসব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে, সেগুলোর কথা উল্লেখ করলেও তিনি তাঁর কাজের প্রতি অবিচল ও নিবেদিতপ্রাণ রয়েছেন।

তিনি বলেন, “ব্যক্তিগতভাবে আমি আমার অ্যাকাডেমির কার্যক্রমের সঙ্গে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে যুক্ত। আমাকে প্রায়শই মণিপুরে যাতায়াত করতে হয়; তবে মণিপুরের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে মাঝে মধ্যে এই যাতায়াত বেশ কঠিন হয়ে পড়ে—সেখানের পরিস্থিতি অনেক সময় বেশ প্রতিকূল হয়ে ওঠে।”

মেরি কম আরও জানান যে, এমনকি যখন তিনি সশরীরে অ্যাকাডেমিতে উপস্থিত থাকতে পারেন না, তখনও তিনি ফোনের মাধ্যমেই অ্যাকাডেমির যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা ও তদারকি করে থাকেন। তিনি বলেন, “বয়স যতই হোক না কেন, যতদিন সম্ভব শারীরিকভাবে ফিট ও সুস্থ থাকাটাই হল আমার একমাত্র স্বপ্ন।”

ভারত যখন ২০৩০ সালের কমনওয়েলথ গেমস এবং সম্ভবত ২০৩৬ সালের অলিম্পিকের মতো বিশ্বমানের বড় বড় ক্রীড়া আসর আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক সেই সময়েই মেরি কম আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের সুনাম ও স্বীকৃতি অর্জনে খেলাধুলার গুরুত্বের ওপর বিশেষ জোর দেন।

মেরি কম ২০১২ সালের লন্ডন অলিম্পিকে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন। এছাড়া বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপের আসরেও তাঁর সাফল্যগাথা ছিল কিংবদন্তিতুল্য—যেখানে তিনি ছয়টি সোনা (২০০২, ২০০৫, ২০০৬, ২০০৮, ২০১০ ও ২০১৮ সালে) জয়ের পাশাপাশি একটি রুপো (২০০১ সালে) এবং একটি ব্রোঞ্জপদকও (২০১৯ সালে) নিজের ঝুলিতে পুরেছিলেন। তিনি এশিয়ান গেমসে একটি সোনা (২০১৪) ও একটি ব্রোঞ্জ (২০১০) পদক এবং ২০১৮ সালের কমনওয়েলথ গেমসে একটি সোনা জিতেছিলেন। এছাড়া ২০০৩ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে পাঁচটি সোনা ও দু’টি রুপো জয়ের মাধ্যমে তিনি নিজের আধিপত্য আরও সুদৃঢ় করেন। তাঁর এই রেকর্ডের ধারে কাছে পৌঁছানোও অলীক স্বপ্নের মতো মনে হতে পারে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *