Cart Total Items (0)

Cart

All Sports

 

মুনাল চট্টোপাধ্যায় :‌ ভারতীয় ক্রিকেটের বিস্ময় প্রতিভা বৈভব সূর্যবংশীকে আয়ারল্যান্ড সফরে সিনিয়র দলের সঙ্গে পাঠানো উচিত, জানালেন কিংবদন্তী ক্রিকেটার ও সিএবি সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলি। তাঁর মতে, ‘‌ বৈভব অসাধারন। ১৫ বছর বয়সে চোখধাঁধানো ক্রিকেট খেলছে। তবে বড় ধরনের আন্তর্জাতিক মঞ্চে কতটা সফল হবে, সেটা সময়ই বলবে। শচীন তেন্ডুলকারকেও শ্রেষ্ঠত্বের আসনে বসতে দিনের পর দিন পারফরমেন্সে ধারাবাহিকতা দেখাতে হয়েছে। বৈভবের জন্য শুভেচ্ছা রইল।’ বৃহস্পতিবার কলকাতা প্রেস ক্লাবে‌ উত্তর ২৪ পরগনা আয়োজিত অনূর্ধ্ব ১০ বেবি ক্রিকেট লিগ ও প্রোজেক্ট ‘‌গতি’‌ সংক্রান্ত সাংবাদিক সম্মেলনে নিজের বক্তব্য রাখতে গিয়ে বৈভবকে নিয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন সৌরভ।

উত্তর ২৪ পরগনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সচিব নবাব ভট্টাচার্য জানান, বাংলার ক্রিকেটকে নতুন প্রতিভা উপহার দিতে ছেলে ও মেয়ে দুটো বিভাগেই জুনে অনূর্ধ্ব ১০ বেবি ক্রিকেট লিগ আয়োজন করা হবে। একইসঙ্গে বাংলা ক্রিকেটকে ফাস্ট বোলার উপহার দিতে প্রোজেক্ট ‘‌গতি’‌র ভাবনা। অনূর্ধ্ব ১৫ ও ১৭ বছরের ছেলে ও মেয়ে মিলিয়ে ২০ জন ক্রিকেটারকে বেছে নিয়ে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বিভিন্ন মাঠে প্রশিক্ষণ শিবির চলবে। ক্রিকেটার বাছাইয়ের জন্য ৯ ও ১০ মে দিন ঠিক করা হয়েছে। প্রোজেক্ট ‘‌গতি’‌র চিফ কোচের ভূমিকায় থাকছেন বাংলার হয়ে রনজি খেলা ফাস্ট বোলার সাগরময় সেন শর্মা। সঙ্গে একলাখ আহমেদ, জয়ন্ত ঘোষ দস্তিদার, সনৎ ভট্টাচার্য প্রমুখ।

প্রোজেক্ট ‘গতি’‌র ভাবনা নিয়ে নবাব ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার উদ্যোগের প্রশংসা করার পাশাপাশি সৌরভ বলেন, ‘‌ ফাস্ট বোলার তৈরির এই পরিকল্পনা খুব ভাল। কিন্তু আমি বলব, ফাস্ট বোলারের সঙ্গে সঙ্গে স্পিন বোলার তৈরির উদ্যোগও নেওয়া উচিত। কারণ বর্তমানে আইএসএলে পেসারদের পাশাপাশি স্পিনারদের একটা বড় ভূমিকা থাকছে ম্যাচের ফল নির্ধারণে। তবে ভাল পেসার, স্পিনার বা ব্যাটার উঠবে কিনা,সেটা শুধু পরিকাঠামো, কোচ বা প্রশিক্ষণের ওপর নির্ভর করে না। একটা সময় কোনও সুযোগ সুবিধাই ছিল না। তবু অনেক ভাল ভাল ক্রিকেটার উঠে এসেছিল। সেটা সম্ভব হয়েছে সেই ক্রিকেটারদের পরিশ্রম, অধ্যাবসায়, জেদ ও ইচ্ছাশক্তির ওপর। এগুলি না থাকলে যতই কোনও খেলাতেই সফল হওয়া যায় না।’‌ সৌরভ এটাও বলেন, ছেলেমেয়েদের বড় খেলোয়াড় হওয়ার পিছনে অভিভাবকদের একটা বড় ভূমিকা থাকে। তাঁর জীবনেও বাবা-‌মার অবদান ও প্রেরণা ছিল। তবে বাবা খেলায় উৎসাহ দিতেন বেশি, মা খেলার সঙ্গে পড়াশোনাতেও সমান ভাবে জোর দিতেন। ১৪ বছর বয়সে স্কুল পালিয়ে বাংলার ক্রিকেট প্রাকটিসে এসেছেন জানতে পেরে, মা তাঁর কা ধরে স্কুলে নিয়ে গিয়েছিলেন।

সৌরভের কাছে প্রশ্ন ছিল, কেকেআর পরপর ২টো ম্যাচে জয় পেয়েছে। এটা কি ওদের জন্য টার্নিং পয়েন্ট হতে পারে?‌ বড় সাফল্যের দিকে এগোতে পারে চলতি মরশুমে?‌ সৌরভের উত্তর, ‘‌ অবশ্যই পারে। ক্রিকেটে সবকিছুই সম্ভব। টানা ৬ ম্যাচ হেরেও অনেক দল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে এর আগে। এবার এসএ লিগেও আমার দল একইরকম সাফল্য পেয়েছে।’‌ সৌরভ গাঙ্গুলি মনে করেন, আজিঙ্কে রাহানেকে ওপরের দিকে ব্যাট করতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত ঠিক। বলেন, কাউকে বড় ইনিংস গড়ার সুযোগ দিতে বেশি বল খেলতে তো দিতেই হবে। সৌরভ এও জানালেন, ভারতীয় টি২০ ও ৫০ ওভারের দলে শ্রেয়স আইয়ারকে অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।

জীবনে অনেক ফাস্ট বোলারের মুখোমুখি হয়েছেন। তাঁর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সমীহ করতেন গ্লেন ম্যাকগ্রাথকে। শোয়েব আখতারের জোরে বলে সমস্যা হয়নি। বা অন্যদের বোলারদের মুখোমুখি হওয়ার আগে ভাবাতো না তাঁকে?‌ সৌরভের রসিক উত্তর, ‘‌শোয়েব ওর কাজটা করত, আর আমি রান করতাম। বাকিদের ক্ষেত্রেও তাই। আর একটা পর্যায়ের পর বোলার কে সেটা নিয়ে ভাবতাম না। বরং লক্ষ্য থাকত, কত বেশি রান করা যায়।’‌

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *