Cart Total Items (0)

Cart

All Sports

 

অলস্পোর্ট ডেস্ক:‌ দেড় মাসও বাকি নেই ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপ শুরু হতে। ইরান শেষপর্যন্ত সব বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে অংশ নেবে কিনা, এই জল্পনা চলছে। তার মাঝে যেটা বেশি করে ফুটবলপ্রেমী ও বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলগুলির মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেটা হল চোটের কারণে বড় নামের এক ঝাঁক ফুটবলারের বিশ্বকাপে চোট জন্য খেলতে না পারা। এতে সব দলের কোচই এখন তাঁদের বিকল্প খুঁজতে ব্যস্ত দলের ভারসাম্য বজায় রাখতে।

এই খেলতে না পারার তালিকায় আছেন ব্রাজিলের তারকা রডড্রিগো। ব্রাজিল দলে প্রতিভার অভাব নেই। বিশেষ করে আক্রমণভাগে, যেখানে ভিনিসিয়াস জুনিয়ারের মতো গোলগেটার আছে। তবু ব্রাজিলের জাতীয় দলের চিফ কোচ কার্লেস আনসেলোত্তি মিস করছেন রডড্রিগোকে। চোট সারিয়ে মাঠে ফেরার পর চলতি বছর মার্চে গেটাফের বিরুদ্ধে মাদ্রিদের ম্যাচে সাইডলাইন দিয়ে বল নিয়ে ড্রিবল করে বেরুনোর সময় আচমকাই হাঁটু ঘুরে যায় রডড্রিগোর। তিনি তৎক্ষণাত হাঁটু ধরে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। মাঠ থেকে বের করে নিয়ে যাওয়ার পর স্ক্যানে ধরা পড়ে রডড্রিগোর এসিএল ছিঁড়েছে। এই চোট সারতে দীর্ঘসময় লাগবে। তখনই নিশ্চিত হয়ে যায় ব্রাজিলের হয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপে তাঁর আর খেলার সম্ভাবনা নেই। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের কোয়ার্টারফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে টাইব্রেকারে পেনাল্টি নষ্ট করে মুষড়ে পড়েছিলেন রডড্রিগো। এবার তার প্রায়শ্চিত্ত করার প্রতিজ্ঞা নিয়ে বিশ্বকাপে নামতে তৈরি হচ্ছিলেন। চোটের ধাক্কায় তাঁর সেই লক্ষ্যপূরণ আপাতত অধরা থেকে গেল।

তবে ব্রাজিল কোচ আনলোত্তির কপালটাই মন্দ। রডড্রিগোতেই শেষ নয়, চোটের জন্য বিশ্বকাপের দলে থাকছেন না রডড্রিগোর সতীর্থ মাদ্রিদের এডার মিলিতাও। হাঁটুর চোটের জন্য এর আগেও বাইরে কাটিয়েছেন। মাত্র ১৫ মাসের মধ্যে দু’‌হাঁটুর এসিএল ছেঁড়ায় এবছর এপ্রিলে অস্ত্রোপচার ছাড়া আর কোনও উপায় ছিল না মিলিতাওয়ের কাছে। এর ফলে তাঁর ফিট হতে অক্টোবর হয়ে যাবে। যার অর্থ তিনি সামনের বিশ্বকাপে আনসেলোত্তির পরিকল্পনায় নেই।

আনসেলোত্তি চিন্তায় আছেন নবীন প্রতিভাবান ফুটবলার এস্তেভাওকে নিয়েও। এপ্রিলে চেলসির হয়ে খেলার সময় হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পান ব্রাজিলের এই নজরকাড়া তারকা। বিশ্বকাপের আগে নিজেকে ফিট করতে পারলে ভাল, নইলে তাঁর বিকল্প খুঁজতে হবে কোচ আনসেলোত্তিকে। ব্রাজিলের জার্সিতে সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমারের বিশ্বকাপে খেলা এখনও ঝুলে আছে ফিটনেস অভাবের কারণে। আনসেলোত্তি সাফ বলেছেন, নেইমারের জন্য বিশ্বকাপের দরজা চুড়ান্ত দল ঘোষণার আগে পর্যন্ত খোলা থাকবে, তবে তার আগে নেইমারকে প্রমাণ করতে হবে, তিনি পুরো ৯০ মিনিট খেলার মতো সক্ষম।

ব্রাজিলের মতোই ফ্রান্সের আক্রমণভাগে ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দেওয়ার মতো একাধিক ফুটবলার আছে। জাতীয় দলের কোচ দিদিয়ের দেশঁর হাতে কিলিয়ান এমবাপে, ওসুমানে ডেম্বেলে, মাইকেল ওলিসে, ডিজায়ার দুয়ের মতো ফুটবলার, যাঁরা আসন্ন বিশ্বকাপে ঝড় তুলবেন আশাই করা যায়। তাও এসিএল চোটের অ্যাকিলিস টেন্ডন ছেঁড়ার কারণে ২০২৬ বিশ্বকাপে হুগো একিটিকের না থাকাটা একটা বড় শূণ্যতা বলে মনে করছেন কোচ দেশঁ। আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফ্রান্সের হয়ে গত সেপ্টেম্বরে একিটিকের অভিষেক ঘটলেও, তিনি দেশঁর নজরে এসে গিয়েছিলেন প্রতিভার জোরে, ও বিশ্বকাপের পরিকল্পনাতেও । লিভারপুলের হয়ে ১৭ গোল করা ও মার্চে ফ্রান্সের জার্সিতে প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিলের জালের ভেতরে বল জড়ানোর একিটিকের ভাগ্য বিরূপ। চোট পাওয়ায় মাঠে বাইরে বসেই বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখতে হবে তাঁকে।

ইওরো ২০২৪য়ের সেমিফাইনালে পৌঁছানোর পর হল্যান্ড বিশ্বাস করে তারা এবার বিশ্বকাপে বড় ধরনের সাফল্য পেতে সক্ষম। কিন্তু তাদের সেই ভাবনায় কিছুটা হলেও ধাক্কা লেগেছে জাভি সিমন্সের চোটের কারণে। চলতি মরশুমের এপ্রিলের শেষে টটেনহামের হয়ে উলফসের বিরুদ্ধে খেলার সময় এসিএল ছিঁড়ে যায় সিমন্সের। আর বি লিপজিগ থেকে টটেনহাম আসার পর মরশুমের শুরুটা ভাল যায়নি তাঁর। কিন্তু যখন ছন্দে ফিরেছিলেন, এবং জাতীয় দলের কোচ রোনাল্ড কোয়েম্যানের পছন্দের তালিকায় চলেও এসেছিলেন, ঠিক তখনই চোট তাঁকে ছিটকে দিল বিশ্বকাপে খেলা থেকে।

সের্গে জিনার্বি আর চোট যেন সমার্থক হয়ে উঠেছে। ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে জার্মানির দলে জায়গা হয়নি তাঁর চোটের জন্য। আর এবার এপ্রিলে ট্রেণিংয়ের সময় অ্যাডাক্টার পেশি ছেঁড়ায় ২০২৬ বিশ্বকাপেও নেই তিনি। জার্মানির কোচ জিনার্বিকে ধরেই বিশ্বকাপে আক্রমণভাগের ঘুঁটি সাজাচ্ছিলেন। আসলে চোট পেয়ে বসে যাওয়ার আগে পর্যন্ত বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে শেষ ৭টি ম্যাচে ৪টি গোল করেছিলেন জিনার্বি। বায়ার্নে ওলিশে, হ্যারি কেন, লুইস দিয়াজের ঠিক পিছনে নাম্বার টেনের ভূমিকায় নিজের দক্ষতা তুলে ধরেছিলেন তিনি। চোটের জন্য তাঁর না থাকার কারণে জার্মানির কোচকে গোল করার জন্য যোগ্য ফুটবলারের খোঁজ শুরু করতে হয়েছে।

চোটের কারণে জোর ধাক্কা লেগেছে মেক্সিকো ফুটবল শিবিরে। গতবারের গোল্ড কাপ টুর্নামেন্টের গোল্ডেন গ্লাভস বিজয়ী জাতীয় দলের প্রথম গোলকিপার লুই অ্যাঞ্জেল মালাগোন বিশ্বকাপে খেলতে পারবেন না। কনকাকাফ চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ক্লাব আমেরিকার হয়ে খেলার সময় তাঁর একিলেস টেন্ডন ছিঁড়ে যাওয়ায়। তবে কথায় বলে কারও পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ। এক্ষেত্রে সর্বনাশটা মালাগোনের। আর পৌষ মাসটা বর্ষীয়ান গোলকিপার গিলেরমো ওচোয়ার জন্য। মালাগোনের না থাকার কারণে ওচোয়ার সামনে ষষ্ঠ বিশ্বকাপে খেলার দরজা খুলে দিয়েছে। মেক্সিকোর কোচের কথায় ইঙ্গিত মিলেছে, ঘরের মাঠে প্রবাদপ্রতিম গোলকিপার ওচোয়ার অবসরকে স্মরণীয় করে তুলতে একটা সুযোগ তিনি দিতে পারেন বিশ্বকাপের দলে অন্তর্ভুক্ত করে।

তবে চোটের কারণে বিশ্বকাপের আর এক আয়োজক দেশ আমেরিকার হয়ে নিজের সমর্থকদের সামনে মাঠে নামার সুযোগ হল না ডার্বি কান্টির হয়ে খেলা প্যাট্রিক আগিয়ামাঙ্গের। এপ্রিলে একিলিস টেন্ডন ছেঁড়ার আগে আমেরিকার হয়ে মার্চে প্রীতি ম্যাচে পর্তুগালের জালে বল পাঠিয়ে বিশ্বকাপে খেলার দাবি জোরালো করেছিলেন তিনি।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *