Cart Total Items (0)

Cart

All Sports

‌ইস্টবেঙ্গল ২(‌এজেজারি-‌পেনাল্টি, নন্দকুমার)‌                                মুম্বই সিটি ১(‌ব্রেন্ডন)‌

 

মুনাল চট্টোপাধ্যায়:‌ আইএসএলের শীর্ষে স্থানে ওঠার চ্যালেঞ্জ নিয়ে মুম্বইয়ের মাঠে মুম্বই সিটির মুখোমুখি হয়েছিল ইস্টবেঙ্গল মঙ্গলবার। সেই লক্ষ্যে সফল মশাল বাহিনী। শুরুতে পিছিয়ে পড়েও দারুনভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে মুম্বইকে ২-‌১ গোলে হারিয়ে ১০ ম্যাচে ২১ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষে উঠে এল লাল হলুদ ব্রিগেড। তার জন্য ইস্টবেঙ্গল কোচ অস্কার ব্রুজোর কৌশল প্রয়োগকে কৃতিত্ব দিতেই হবে। এইমুহূর্তে ১১ ম্যাচে ২১ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে জামশেদপুর, আর ৯ ম্যাচে ২০ পয়েন্ট নিয়ে তিন নম্বরে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দৌড়ে রয়েছে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। মুম্বই ম্যাচ হেরে ১১ ম্যাচে ১৯ পয়েন্ট নিয়ে নেমে গেল পঞ্চম স্থানে।

মুম্বই এরিনায় মুম্বই সিটির মুখোমুখি হওয়ার আগে কলকাতায় সাংবাদিক সম্মেলনে ইস্টবেঙ্গল কোচ অস্কার ব্রুজো সবাইকে চমকে দিয়ে ঘোষণা করেন, লাল হলুদ কোচ হিসেবে এটাই তাঁর শেষ মরশুম। ৩১ মের পর তিনি আর ইস্টবেঙ্গল কোচের ভূমিকায় থাকবেন না। তবে আইএসএলের বাকি ৪ ম্যাচে যথাসম্ভব বেশি পয়েন্ট অর্জন করে ইস্টবেঙ্গলকে লিগ টেবিলের ভাল জায়গায় শেষ করার লক্ষ্য নিয়েই কাজ করবেন।

চ্যাম্পিয়নশিপের দৌড়ে থাকা অস্কারের এই ঘোষণা কতটা সময়োপযোগী তা নিয়ে একটা প্রশ্ন থেকেই যায়। এর ভাল ও মন্দ দুটো দিকই আছে। অস্কারের সরে দাঁড়ানোর ঘোষণায় তেতে গিয়ে মঙ্গলবার মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে ম্যাচে ইস্টবেঙ্গল ফুটবলাররা সেরা দেবেন, এমনটা আশা করা অণ্যায় ছিল না। আবার উল্টোটাও হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। মানসিকভাবে পিছিয়ে কোচের ভূমিকায় মুষড়ে পড়ে নিজেদের স্বাভাবিক খেলা ভুলে যাওয়া।

তবে মুম্বই এরিনার মাঠে মুম্বই সিটির মোকাবিলায় লাল হলুদ ব্রিগেডের খেলায় শুরু থেকেই আত্মসমর্পণের কোনও লক্ষন দেখা যায়নি। বরং অ্যাওয়ে ম্যাচে পিটার ক্র‌্যাটকির প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শক্তিশালী প্রতিপক্ষ মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে যে সতর্কতা নিয়ে খেলা উচিত ছিল, সেই কৌশলই নিয়েছিলেন ইস্টবেঙ্গল কোচ অস্কার। তাঁর পছন্দের ৩-‌৪-‌৩ ছকে দলকে খেলিয়ে রক্ষণ ও আক্রমণের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই ছিল তাঁর মূল লক্ষ্য। তবে একটা ব্যাপার বোধগম্য হয়নি অস্কারের দল সাজানোর ব্যাপারে। যে মিগুয়েলের নির্বাসন তোলা নিয়ে ইস্টবেঙ্গল কোচের এত জোরাজুরি, তাঁকে তিনি মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে প্রথম একাদশে রাখেননি। মাঝমাঠ সাজান দুই উইংয়ে বিপিন ও বিষ্ণু, আর মাঝে সল ক্রেসপো, রশিদকে রেখে।

এমনকি আক্রমণভাগে শুরু থেকে অস্কারের পরিকল্পনায় ছিলেন না মুম্বই ম্যাচের আগে লাল হলুদের হয়ে ৯ গোল করা এজেজারি। অস্কার সামনে রেখেছিলেন জেরি, অ্যান্টন ও এডমুন্ডকে। সম্ভবত তাঁর উদ্দেশ্য ছিল প্রতিপক্ষ একটু ক্লান্ত হলে দলের সেরা দুই অস্ত্র এজেজারি ও মিগুয়েলকে পরে নামিয়ে ফায়দা। বিরতির পর অবশ্য তিনি সেই পথে হাঁটেন। ১ গোলে পিছিয়ে গিয়ে খেলায় ফিরতে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই জেরি, অ্যান্টন ও রশিদের জায়গায় শোভিক, এজেজারি ও মিগুয়েলকে নামিয়ে দেন। তার ফলও মেলে। মিগুয়েলের নাছোড়বান্দা মনোভাবের কারণে পেনাল্টি পেয়ে খেলায় সমতা ফেরায় ইস্টবেঙ্গল।

তবে তিন ব্যাক আনোয়ার, সিবিলে ও জিকসনের রক্ষণব্যুহের নড়বড়ে ভাব ও অস্কারের অতিরিক্তি সতর্কতায় মোড়া ফুটবলের জন্য মুম্বই প্রথমার্ধে ঘাড়ে চেপে বসেছিল। ৮ মিনিটে গোল করে এগিয়েও যায় মুম্বই। আকাশ মিশ্রর থ্রো বক্সের মাঝে পড়লে ইস্টবেঙ্গল ডিফেন্ডারদের অগোছালো মনোভাবের কারণ আলগা বল চলে যায় ফাঁকায় দাঁড়ানো ব্রেন্ডনের কাছে। তিনি সেই বলে শট নিয়ে গোল পাঠান ইস্টবেঙ্গল গোলকিপার প্রভুসুখনকে হার মানিয়ে। প্রথম গোল পেয়ে দ্বিতীয় গোলের জন্য ঝাঁপিয়েছিল মুম্বই। বিক্রমপ্রতাপ, ছাংতে অন্তত তিনটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট না করলে ইস্টবেঙ্গলের পক্ষে দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফেরা সম্ভব হত কিনা সন্দেহ।

অবশ্যষ কথায় আছে সবুরে মেওয়া ফলে। বিরতির পর মিগুয়েল ও এজেজারির পর এডমুন্ডের জায়গায় নন্দকুমারের অন্তর্ভুক্তি ইস্টবেঙ্গল আক্রমণের ঝাঁজ অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়। যেটা মুম্বই রক্ষণ সামাল দিতে পারেনি। ৫৭ মিনিটে মুম্বইয়ের জনি কাউকো নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকা বল বক্সের মাঝে ক্লিয়ার করার প্রচেষ্টায় পেছন থেকে তাড়া করে আসা মিগুয়েলকে রুখতে গিয়ে ফাউল করে বসেন। রেফারি ইস্টবেঙ্গলের অনুকূলে পেনাল্টি দিতে দ্বিধা করেননি। ৫৮ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান এজেজারি। ইস্টবেঙ্গলের হয়ে আইএসএলে এটা তাঁর ১০ নম্বর গোল।

ইস্টবেঙ্গলের জয়সূচক গোল আসে ৭১ মিনিটে নন্দকুমারের পা থেকে। নিজের অর্ধে আলগা বল পেয়ে ডানপ্রান্ত বরাবর গতি বাড়িয়ে নন্দকুমার মুম্বই বক্সের সামনে এসে কাট করে ভেতরে ঢুকে ডানপায়ে উঁচু কোনাকুনি শট নিলে তা মুম্বই গোলকিপার লাচেনপার হাতের নাগাল এড়িয়ে দ্বিতীয় পোস্টের কোন দিয়ে গোলে ঢুকে যায়। বিশ্বমানের গোল বললে ভুল হবে না। এই গোলের পর মিগুয়েলকে বক্সের মাঝে যেভাবে ধাক্কা মেরে ফেলেছিলেন কাউকো, তাতে ইস্টবেঙ্গলের আর একটা পেনাল্টি প্রাপ্য ছিল।

সমতা ফিরিয়ে হার বাঁচাতে শেষ ১৫ মিনিট চাপ বাড়িয়েছিল মুম্বই। একাধিক ইস্টবেঙ্গল বক্সে হানা দিলেও গোল তুলে নিতে পারেনি। ৯২ মিনিটে ছাংতের ক্রশে নিকুমের হেড পোস্টে লেগে ফেরায় মুম্বইয়ের হার বাঁচানো সম্ভব হয়নি। পুরো ৩ পয়েন্ট নিয়েই মাঠ ছাড়ে ইস্টবেঙ্গল।

ইস্টবেঙ্গল:‌ প্রভুসুখন, আনোয়ার, সিবিলে, জিকসন, বিপিন, সল(‌লালচুংনুঙ্গা)‌, রশিদ(মিগুয়েল)‌‌, বিষ্ণু, জেরি(‌শৌভিক)‌, অ্যান্টন(‌এজেজারি)‌, এডমুন্ড(‌নন্দকুমার)‌।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *