সুচরিতা সেন চৌধুরী: এই প্রথম আইএসএল লিগ টেবলের শীর্ষে জায়গা করে নিয়েছে ইস্টবেঙ্গল। তিন নম্বরে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বি মোহনবাগান। মাঝে মাত্র দুটো ম্যাচ। তার পরই কলকাতা ডার্বি। এই মরসুমে একটিই ডার্বি খেলবে দুই দল। সিঙ্গল লেগের আইএসএল প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। ছোট লিগ বলেই হয়তো ওঠাপড়াটাও অনেক বেশি। সব দল সমানে সমানে লড়াই করছে আর সে কারণেই এই উত্থানপতন। তাই কোনও দলকেই হালকাভাবে নিতে নারাজ মোহনবাগানের জেসন কামিন্স। আর কোচ সার্জিও লোবেরা একটা মাচ পরেও দেখতে নারাজ। হাতে রয়েছে মাত্র চারটি ম্যাচ, সেই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে একটাই লক্ষকে পাখির চোখ করছেন মোহনবাগান কোচ। লিগ টেবলের শীর্ষে শেষ করা। সেই সুযোগ রয়েছে তাঁর দলের সামনে। আর অন্য কোনও ভাবনা দলের অন্দরে ঢোকাতে চাইছেন না তিনি। তাই ফোকাস এফসি গোয়া।
সার্জিও লোবেরা বলছিলেন, “এফসি গোয়ার বিরুদ্ধে তিন পয়েন্টই এখন ফোকাস। তারপর আমাদের দু’দিন পর ইন্টার কাশী ম্যাচ, তখন সেটা নিয়ে ভাবব।” বুঝিয়ে দিলেন ডার্বি নিয়ে এখনই কোনও কথা তিনি বলবেন না। “আমার হিসাব শুধু পরের দিন নিয়ে। ধাপে ধাপে এগনো,” যোগ করেন তিনি। তবে দলের জন্য সুখবর আপুঁইয়া ফিট, খেলার মতো জাযগায়ও রয়েছেন তিনি তবে পুরো ম্যাচ খেলতে পারবেন কিনা তা আরও দুটো ট্রেনিং সেশনের পরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন লোবেরা।
তবে গোয়ার তেতে ওঠা বালির গরমে বিকেল পাঁচটার ম্যাচ কতটা কঠিন হবে তার সবারই জানা। তবে সেটা কোনও অজুহাত হতে পারে না বলে মনে করছেন লোকেরা। তিনি বলেন, “আমি গোয়াকে খুব ভালো করে চিনি। সেখানে আমাদের ভালো স্মৃতি আছে। আমি জানি গরম আবহাওয়া কিন্তু এটা অজুহাত হতে পারে না। কারণ আমরা সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় খেলছি।”
আর সেই পেশাদারিত্বকেই এগিয়ে রাখছেন তিনি। একটা বিরতির পর খেলতে নামছে দল, এবার পর পর খেলতে হবে শেষ চারটি ম্যাচ। লোবেরা বলছিলেন, “আমরা আগামী ১২-১৩ দিনের মধ্যে চারটি ম্যাচ খেলতে যাচ্ছি। আমি সবসময় ইতিবাচক থাকার চেষ্টা করি। আপনার এই পরিস্থিতিতে পুরো দলকে দরকার। আর সেই দল নিয়ে আমি খুব খুশি।”
তবে সামনে যখন মোহনবাগান কোচ আর কয়েকদিনের মধ্যেই ডার্বি তখন যে ঘুরে ফিরে সেই প্রসঙ্গ আসবে তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। তবে নিজের জায়গায় লোবেরা ভীষণভাবে স্থির। যতোই প্রশ্ন কর না কেন উত্তর আসবে না, ” আমি ডার্বি সম্পর্কে কথা বলব না। আমি ডার্বির আগের দিন এই সম্পর্কে কথা বলব। তার আগে আমাদের আরও দুটো ম্যাচ আছে। সেদিকেই এখন আমার ফোকাস।”
তবে যতোই আত্মবিশ্বাসী হোক না কেন এফসি গোয়াকে হালকাভাবে নিচ্ছে না মোহনবাগান, সে তিনি কোচ লোবেরা হোক বা কামিন্স। লোবেরা বলছিলেন, “এফসি গোয়ার বিপক্ষে খেলা সবসময়ই কঠিন। ওদের শেষ ফলাফলের পর হয়তো কম চাপ নায়ে ওরা খেলবে। ওরা খুব ভালো এবং আমি এই চ্যালেঞ্জের জন্য উত্তেজিত।”
তবে সাফল্য এলেও অনেক উন্নতির জায়গাও রয়েছে দলে, বলে মনে করছেন কোচ। বলছিলেন , “শেষ দুই ম্যাচে আমরা ছয় পয়েন্ট পেয়েছি, আমরা খুশি কিন্তু উন্নতির জায়গাও রয়েছে। আমরা অনেক কিছুতে উন্নতি করতে পারি। আরও ক্লিনিকাল ফিনিশিং প্রয়োজন। আরও ভারসাম্য দরকার। যেমন মুম্বই ম্যাচে আমি দল নিয়ে খুশি ছিলাম না। তবে এখন শীর্ষস্থানের জন্য লড়াই করতে হবে।”
জেসন কামিন্স বলছিলেন, “আমরা পেশাদার। আমরা প্রতিদিন অনুশীলন করি। যখনই খেলা আসবে আমরা সেরাটা দিয়ে খেলব। আমি আরও বেশি সময় খেলতে চাইব। প্রতিবারই শতভাগ দিয়েছি। দল এবং অন্যান্য খেলোয়াড়দের সাহায্য করার জন্য আমি আমার সেরাটা দিতে পেরে খুশি। আমি সব পজিশনে খেলা উপভোগ করছি। খেলা উপভোগ করা আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।”
ড্রেসিংরুমেরও প্রশংসা করেন তিনি। বলেন, “আমরা একটি আশ্চর্যজনক ড্রেসিংরুমে আছি। সবাই আমরা পরিবারের মতো। তবে এবার লড়াই কঠিন, এবার লিগ টেবল বার বার পরিবর্তন হয়েছে. প্রতিটি খেলাই কঠিন। গোয়ার বিরুদ্ধেও ভালো ম্যাচ হবে।”
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
