Cart Total Items (0)

Cart

All Sports

অলস্পোর্ট ডেস্ক: ২০০৬ সালের পর এই প্রথম আর্সেনাল আবারও উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে জায়গা করে নিল। এমিরেটস স্টেডিয়ামে এক আবেগঘন রাতে, মিকেল আর্তেতার দল অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদকে ১-০ গোলে হারিয়ে ২-১ ব্যবধানে সামগ্রিক জয় নিশ্চিত করে এবং ইউরোপীয় শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট জয়ের আর মাত্র এক ধাপ দূরে পৌঁছে যায় দলটি।

বুকাও সাকার প্রথমার্ধের একমাত্র গোলটিই আর্সেনালকে তাদের ক্লাবের ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে পৌঁছে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট প্রমাণিত হয়। ম্যাচ শেষে কথা বলতে গিয়ে মিকেল আর্তেতা বলেন যে, তাঁর দল “ইতিহাস সৃষ্টি করেছে” এবং সেই রাতের অসাধারণ পরিবেশ তৈরির জন্য তিনি খেলোয়াড় ও সমর্থকদের উভয়েরই ভূয়সী প্রশংসা করেন।

‘‘এটি ছিল এক অবিশ্বাস্য রাত। আমরা সবাই মিলে আবারও ইতিহাস সৃষ্টি করেছি; এই ফুটবল ক্লাবের সঙ্গে জড়িত প্রতিটি মানুষের জন্য আমি এর চেয়ে বেশি আনন্দিত বা গর্বিত হতে পারতাম না,’’ আর্তেতা বলেন।

‘‘খেলার প্রতিটি মুহূর্তে, প্রতিটি পাসের সময় সমর্থকরা আমাদের পাশে ছিলেন। তাঁরা এই রাতটিকে বিশেষ ও অনন্য করে তুলেছিলেন; এই স্টেডিয়ামে আমি আগে কখনও এমন পরিবেশ অনুভব করিনি।’’

‘‘আমরা জানতাম, এই জয়টি সবার কাছে কতটা অর্থবহ। আমরা নিজেদের সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছিলাম; দলের ছেলেরা অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছে। দীর্ঘ ২০ বছর পর—এবং আমাদের ক্লাবের ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয়বারের মতো—আমরা আবারও চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে ফিরে এসেছি।” শেষ বাঁশি বেজে ওঠার পর এমিরেটস স্টেডিয়ামে এক অন্যরকম অনুভূতি ছড়িয়ে পড়ে। সমর্থকেরা গ্যালারিতেই থেকে গেলেন, খেলোয়াড়েরা সেই মুহূর্তটা পুরোপুরি উপভোগ করেন, এবং যে ক্লাবটি বছরের পর বছর ধরে ইউরোপের সেরা দলগুলোর তালিকায় ফেরার চেষ্টা করে আসছে, তাদের জন্য এই রাতটা ছিল এমন এক রাত যা নিয়ে মানুষ দীর্ঘকাল কথা বলবে,’’ বলেন আর্তেতা।

এর পুরস্কার হল ৩০ মে বুদাপেস্টে প্যারিস সেন্ট-জার্মেইন অথবা বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে ফাইনাল। এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো, আর্সেনাল এখন সেই একটি ট্রফি জেতার সুযোগ পেয়েছে যা এতদিন তাদের থেকে দূরে চলে গিয়েছিল।

অ্যাটলেটিকোর বিপক্ষে সেমিফাইনাল থেকে বেশিরভাগ মানুষ যেমনটা আশা করেছিল, ম্যাচটি ঠিক তেমনই ছিল। সংকীর্ণ জায়গা, প্রচুর ফাউল, দীর্ঘ বিরতি এবং শ্বাস ফেলার খুব কম সুযোগ। মাদ্রিদে ১-১ গোলে ড্র করার পর আর্সেনাল জানত যে, আক্রমণাত্মক দক্ষতার মতোই ধৈর্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ। অ্যাটলেটিকোরও কিছু ভালো মুহূর্ত ছিল, বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে, কিন্তু আর্সেনাল কখনওই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারায়নি। বিরতির ঠিক আগে সেই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তটি এসেছিল।

লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ডের নিচু শট ইয়ান ওবলাককে সেভ করতে বাধ্য করে, কিন্তু রিবাউন্ড বলটি সরাসরি বুকায়ো সাকার কাছে চলে আসে, যিনি দ্রুত জোরালো শটে গোল করে এমিরেটসকে জয়ের সরণিতে নিয়ে যান। ওই গোলটি স্টেডিয়ামের ভেতরের পরিবেশ পুরোপুরি বদলে দিয়েছিল।

বিরতির পর জুলিয়ান আলভারেজ এবং আঁতোয়ান গ্রিজম্যানের গোলে অ্যাটলেটিকো আরও চাপ সৃষ্টি করে, কিন্তু আর্সেনাল দুর্দান্তভাবে রক্ষণ করে। মাঝমাঠে ডেক্লান রাইস ছিলেন অসাধারণ, অন্যদিকে গ্যাব্রিয়েল এবং উইলিয়াম সালিবা শেষদিকে শান্তভাবে চাপ সামলেছেন।

সাকা পরে স্বীকার করেন যে এই বিশেষ মুহূর্তের চাপ উপেক্ষা করা অসম্ভব ছিল। ‘‘এটা এত সুন্দর, ভক্তদের কাছে এর যে তাৎপর্য, আমি এমনটা আগে কখনও দেখিনি। আপনি এই পর্যায়ে এসে চাপমুক্ত থাকবেন, তা হতেই পারে না। আমাদের চাপকে উপেক্ষা করে কাজটা সম্পন্ন করার দিকে মনোযোগ দিতে হবে। এটা একটা সুন্দর গল্প এবং আমি আশা করি এর শেষটা ভালো হবে,” বলেন সাকা।

এখন মূল চ্যালেঞ্জ হল—এটি নিশ্চিত করা যে, সেমিফাইনালের এই জয় যেন মসুমের আবেগীয় শিখর হয়েই থেমে না যায়।আর্সেনাল এখনও প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা দৌঁড়ে বেশ শক্ত অবস্থানেই রয়েছে; চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালের আগে ওয়েস্ট হ্যাম ইউনাইটেড, বার্নলি এবং ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে তাদের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ এখনও বাকি রয়েছে।

আর্তেতা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, যদিও আজকের রাতজুড়ে জয়ের উদযাপন চলবে, তবুও খুব দ্রুতই তাদের মনোযোগ পুনরায় লিগের লড়াইয়ের দিকে ফিরিয়ে আনতে হবে। “এটা দারুণ এক অনুভূতি। দলের সবাই এখন শক্তি, বিশ্বাস এবং সামগ্রিক পরিবেশের মধ্যে এক ইতিবাচক পরিবর্তন অনুভব করতে পারছে,” আর্তেতা বললেন।

“চলুন, আমরা এই মুহূর্তটি পুরোপুরি উপভোগ করি; তবে আগামীকাল থেকেই আমাদের আবার বর্তমানের বাস্তবতায় ফিরে আসতে হবে।” এই মরসুমের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে একমাত্র অপরাজিত দল হিসেবেই আর্সেনাল এখন ফাইনালে পা রাখছে—যাদের ঝুলিতে রয়েছে ১১টি জয় এবং ৩টি ড্র। টানা ১৪ ম্যাচ অপরাজিত থাকার এই রেকর্ডটি এখন এই প্রতিযোগিতায় ক্লাবটির ইতিহাসে সেরা পারফরম্যান্স।

আর আজকের রাতের মতো এমন একটি জয়ের পর, ক্লাবের অন্দরমহলে সবার মনে বিশ্বাস ও আস্থার যে জোয়ার উঠেছে, তা এখন যেকোনও সময়ের চেয়ে অনেক বেশি প্রবল।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *