Cart Total Items (0)

Cart

All Sports India

সুচরিতা সেন চৌধুরী: ইস্টবেঙ্গল যে রীতিমতো তেতে রয়েছে তা আরও একবার প্রমান হল সোমবার পঞ্জাব এফসির বিরুদ্ধে ম্যাচে। এদিন সৌভিক চক্রবর্তীকে অধিনায়ক করেই দল সাজিয়েছিলেন কোচ অস্কার ব্রুজোঁ। কিন্তু শুরুতেই ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখে বসেন সৌভিক। সেই জন্যেই কিনা জানা নেই, কারণ পরের ম্যাচই ডার্বি। ম্যাচের ২২ মিনিটেই জিকসনকে নামিয়ে তাঁকে তুলে নেন কোচ। আর তাতেই বেজায় চটে যান ইস্টবেঙ্গলের একমাত্র বাঙালি ফুটবলার সৌভিক। এই মরসুমে সৌভিক ছাড়া আর কাউকেই তেমনভাবে খেলতে দেখা যায়নি। কার্লেস কুয়াদ্রাতের সময়ে নিয়মিত প্রথম দলে না থাকলেও বেঞ্চে থাকতেন আরও এক বাঙালি সায়ন। তাঁর খেলা দিয়ে নজর কেড়ে নিয়েছিলেন তিনি। তবে অস্কারের সময় প্রায় বাঙালিহীন দল। সৌভিকও নিয়মিত সুযোগ পান না। তার পর তাঁকে অধিনায়ক করে নামিয়েও দ্রুত তুলে নেওয়া মোটেও মেনে নিতে পারেননি সৌভিক। বেঞ্চে ফিরে রীতিমতো রাগের প্রতিক্রিয়া দিতে থাকেন। সতীর্থরা কোনওরকমে সামলান তাঁকে। এত সব উত্তেজনার মধ্যেই জয়টা পাওয়া হল না ইস্টবেঙ্গলের। আসলে এই ম্যাচে জ্বলে উঠতেই ৭৫ মিনিট সময় নিয়ে ফেলল দল। যদিও একাধিকবার বাধা হয়ে দাঁড়াল তিনকাঠি। ঘরের মাঠে পঞ্জাবের বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্র করেই থামতে হল লিগ টেবলের এক নম্বর দলকে।

এক তো ম্যাচের আগের দিন যে বোমা ফাটিয়েছিলেন ইস্টবেঙ্গল কোচ অস্কার ব্রুজোঁ, তার উত্তাপ যে এতো দ্রুত কাটবে না তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। তার উপর সৌভিকের প্রতিক্রিয়া। সব মিলে ইস্টবেঙ্গল এখন রীতিমতো গ্রীস্মের রাজস্থানের তপ্ত বালিয়ারি। তার মধ্যেই আইএসএল-এর ইতিহাসে চ্যাম্পিয়নশিপের লড়াইয়ে এক নম্বরে এই প্রথম লাল-হলুদ ব্রিগেড। আর সেই সময়ই অস্কারের পর পর বিস্ফোরণ। সব মিলে অদ্ভুত একটা পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে রয়েছে কলকাতার একশো বছরের ক্লাব। আবার সঙ্গে রয়েছে একরাশ স্বপ্নও। যদিও সেই স্বপ্নকে সমর্থন করতে তেমনভাবে গ্যালারি ভরালেন না সমর্থকরা। তার মধ্যেই দুই অর্ধে ভালোই বেগ দিল পঞ্জাব এফসি।

ম্যাচ শুরুর পাঁচ মিনিটের মধ্যেই গোলের সুযোগ চলে এসেছিল পঞ্জাবের সামনে। ইস্টবেঙ্গল বক্সের বাইরে বল পেয়েছিলেন দানি রামিরেজ। ইস্টবেঙ্গল রক্ষণকে কাটিয়ে গোলে শট নিয়েছিলেন, যা বেরিয়েও গিয়েছিলেন গিলের নাগালের বাইরে কিন্তু সেই শট পোস্টে লেগে বেরিয়ে যায় বাইরে। ম্যাচ শুরুর প্রথম ১০ মিনিটের দখল থাকল পঞ্জাবের হাতেই। ১২ মিনিটে প্রথম গোলের লক্ষ্যে কিছুটা এগিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল যখন বাঁ দিক থেকে বিষ্ণুর শটের নাগাল পেলেন না বিপিন। এদিন গোলের নিচেও বেশ সচল দেখাল গিলকে। তার মধ্যেই ২৬ মিনিটে আরও একবার নিশ্চিত সুযোগ চলে এসেছিল পঞ্জাবের সামনে। সেই দানি রামিরেজেরই বক্সের বাইরে থেকে শট অল্পের জন্য বাইরে গেল। এর পর বিপিনের গোলমুখি শট বাঁচিয়ে দিলেন অর্শদীপ।

প্রথমার্ধের শেষের দিকে বলের উপর দখল বাড়ায় ইস্টবেঙ্গল। তবে পঞ্জাবের রক্ষণে আটকে যায় সব প্রচেষ্টা। প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য ভাবেই। ঠিক যতটা আক্রমণাত্মক ফুটবল আশা করা হয়েছিল ততটাও দেখা গেল না। তিন রক্ষণে দল নামিয়ে আক্রমণে জোড় দিতে চেয়েছিলেন অস্কার। আগের দিন সাংবাদিক সম্মেলনে এই কথাই বলেছিলেন পঞ্জাব কোচও। তবে প্রতিপক্ষকে ঘরের মাঠে শুরু থেকে চাপে রাখতে ব্যর্থ অস্কারে ছেলেরা। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুটা দেখে চেনা ইস্টবেঙ্গল মনে হলেও দ্রুতই ঘুরে দাঁড়ায় পঞ্জাব। ৫৩ মিনিটে লুংদিমের ক্রস থেকে শামির হেড দারুণ দক্ষতার সঙ্গে গিল বাঁচিয়ে না দিলে এগিয়ে যেতে পারত পঞ্জাব। এর পরও জেলকোভিচের শট মাথার উপর দিয়ে বাইরে পাঠান ইস্টবেঙ্গল গোলরক্ষক।

এদিন বিষ্ণুকেও কিছুটা মন্থর লাগল লেফট উইংয়ে। ৭৫ মিনিটের পর এক সঙ্গে তিনটি পরিবর্তন করে ফ্রেশ লেগ এনে খেলার গতি বাড়ানোর পথে হাঁটলেন অস্কার। যদিও তাতে কিছুটা দেরি হয়ে গেল। তার ঠিক এক মিনিট আগেই ইস্টবেঙ্গলের হয়ে সেরা সুযোগটি তুলে এনেছিলেন মিগুয়েল ফেরেরা। যখন চকিতে ডানদিক থেকে তাঁর বাঁ পায়ের জোড়াল শট প্রতিপক্ষ গোলকিপারকে দাঁড় করিয়ে রেখেই উড়ে গিয়েছিল গোলের দিকে। কিন্তু দুর্ভাগ্য তা পোস্টে লেগে ফেরে। এখানেই শেষ নয়, ৯০ মিনিটে রশিদের দূরপাল্লার শট পোস্ট লেগে ফেরে। শেষ বেলায় অনেকটাই জ্বলে ওঠার চেষ্টা করল ঠিকই কিন্তু গোলের মুখ খুলতে পারল না। এই ম্যাচ জিতে থাকলে অনেক ঠান্ডা মাথায় ডার্বি খেলতে পারত ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু ড্র করে কিছুটা চাপে পড়ে গেল অস্কারের দল। ১১ ম্যাচে ২২ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষেই থেকে গেল ঠিকই কিন্তু গোলশূন্যতা ভাবাবে অস্কারকে। হাতে রয়েছে মাত্র আর দুই ম্যাচ।

ইস্টবেঙ্গল এফসি: প্রভসুখন সিং গিল, লালচুংনুঙ্গা, কেভিন  সিবলে, আনোয়ার আলি (জয় গুপ্তা), মহম্মদ রাকিপ, সৌভিক চক্রবর্তী (জিকসন সিং), মিগুয়েল ফেরেরা, পিভি বিষ্ণু (নন্ধা কুমার),  বিপিন সিং, মহম্মদ রশিদ, ইউসুফ এজেজ্জারি (অ্যান্টন সোজবার্গ)

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *