Cart Total Items (0)

Cart

All Sports India

 

 

মুনাল চট্টোপাধ্যায়:‌ অন্যদিন ম্যাচ শেষে তিরিক্ষি মেজাজেই বেশি পাওয়া যায় ইস্টবেঙ্গল কোচ অস্কার ব্রুজোঁ। আর ইদানিং তো তিনি বক্তবের বোম ফাটানোতেই ব্যস্ত থাকছেন। তাই মনে হয়েছিল সোমবার পাঞ্জাব এফসির বিরুদ্ধে গোলশূণ্য ড্র করার পর লাল হলুদের হেড স্যারের মুখে আবার কোন বিষোদ্গারের বাণী হয়ত শোনা যাবে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়,পাঞ্জাব ম্যাচ শেষে প্রচারমাধ্যমের সামনে এসে নিজের বক্তব্য রাখলেন খুব শান্ত ভাবে। তাঁর মুখে রেফারিকে দোষারোপ করে কোনও মন্তব্যও শোনা গেল না। বরং অস্কার বলেই দিলেন, পাঞ্জাবের মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে ড্রয়ে তিনি অখুশি নন, এটাকে ইতিবাচক একটা ফল হিসেবেই দেখেছেন।

অস্কারের বক্তব্য, ‘‌পাঞ্জাব ম্যাচটা জিতে থাকলে ডার্বির আগে প্রতিপক্ষ মোহনবাগানকে আর একটু বেশি চাপে রাখা যেত। আমরাও ডার্বির আগে সুবিধাজনক অবস্থায় থাকতাম লিগ টেবিলে পয়েন্টের দিক থেকে ও মানসিকভাবেও। এখনও চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অঙ্কটা খুব কঠিন নয়। ডার্বি জিতলে সেটা সম্ভব ভালভাবেই। আর সেই লক্ষ্যেই ফুটবলাররা ডার্বিতে সেরা দিতে মাঠে নামবে। আইএসএলের শুরুতেই বলেছিলাম ধাপে ধাপে লক্ষ্যপূরণের দিকে এগোব। সেটাই করেছি। প্রথম লক্ষ্য ছিল লিগ টেবিলের ওপরের ৬য়ে থাকা। তারপর চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দিকে পা বাড়ানো। নইলে অন্তত লিগ টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে শেষ করা মোহনবাগানের পিছনে থেকে। কারণ আমাদের জানাই ছিল, অন্য কেউ চ্যাম্পিয়ন হলে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টায়ার টু-‌তে খেলার সুযোগ আমরা পাব না দ্বিতীয় হলেও। কিন্তু মোহনবাগান খেতাব জিতলে রানার্স হলেও ইস্টবেঙ্গল এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টায়ার টু-‌তে খেলবে। সেই লক্ষ্যপূরণের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে রয়েছি আমরা, ১১ ম্যাচে ২২ পয়েন্ট নিয়ে। হাতে রয়েছে শেষ ২ ম্যাচ। আশাবাদী লক্ষ্যপূরণ হবে।’‌

পাঞ্জাব ম্যাচ না জেতা নিয়ে কোচ অস্কারের বিশ্লেষণ, ‘‌ প্রতিপক্ষের শক্তি বুঝেই প্রথমার্ধের ৩০ মিনিট সতর্কতার খোলসে মোড়া ফুটবলে জোর দিয়েছিলাম। বলতে পারেন এটা ছিল আমার ট্যাক্টিকাল মুভ, যাতে পাঞ্জাব উইং ব্যবহার করে আমাদের বিপদে ফেলতে না পারে। সেটা সম্ভব হয়েছিল। প্রথমার্ধের শেষ মিনিট থেকে ফুটলারদের বাড়তি আক্রমণ শানানোর স্বাধীনতা দি। তাতেই পাঞ্জাব বেশ কোনঠাসা হয়ে পড়ে। দ্বিতীয়ার্ধের খেলার রাশটা পুরো ছিল আমাদের হাতে। প্রচুর গোলের সুযোগ এসেছিল। সেগুলো কাজে লাগালে খেলার ফল অন্যরকম হত। তাছাড়া দুটো বল পোস্ট ও ক্রশপিসে লাগায় গোল আসেনি। বলতে গেলে জেতা ম্যাচটা আমাদের হাতছাড়া হয়েছে। নইলে ডার্বির আগে আমরা আরও ভাল জায়গায় থাকতাম। তবে ডার্বি সবসময় অন্য চরিত্রের ম্যাচ। ফুটবলাররা নিজেরাও সেটা জানে। জেতার জন্য জান দিতে তৈরি ফুটবলাররা। তাই মোহনবাগানের পক্ষে ম্যাচটা সহজ হবে না, এটুকু বলতে পারি।’‌

ডার্বিতে অবশ্য মিডফিল্ডার শৌভিক চক্রবর্তীকে পাবেন না কোচ অস্কার, পাঞ্জাব ম্যাচে শৌভিক হলুদ কার্ড দেখায়। ইস্টবেঙ্গল কোচ বলেন, ‘‌ পাঞ্জাব ম্যাচের আগে শৌভিক ও সিবিলে সতর্ক করেছিলাম, যাতে কোনওভাবেই কার্ড না দেখে। দেখলে ডার্বি মিস হবে। খেলার উত্তেজনায় শৌভিক সেটা ভুলে কার্ড দেখে। ডার্বিতে খেলতে পারবে না বলে সাজঘরে ভীষণ ভাবে মুষড়ে পড়েছে। সিবিলে কার্ড না দেখায় ডার্বিতে ও আছে।’‌

অস্কার জানালেন, পাঞ্জাব ম্যাচ শুরুর ঠিক আগে গা ঘামানোর সময় সল ক্রেসপো চোট পান। পেশিতে টান ধরায় বসে যান। তাতে শেষমুহূর্তে টিম লিস্টে বদল আনতে হয়। অস্কারের মতে, সলের চোটের কারণে তাঁর পরিকল্পনায় বেশ কিছু বদলও আনতে হয়। সল ঠিক থাকলে এই ম্যাচে, বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে সলের উপস্থিতি ম্যাচের রং আরও বদলে দিত ইস্টবেঙ্গলের পক্ষে। গোটা দলের লড়াকু মনোভাবের পাশাপাশি কোচ অস্কার আলাদাভাবে প্রশংসা করেন গোলকিপার প্রভুসুখন গিল ও ডিফেন্ডার লালচুংনুঙ্গার। বলেন, সংক্ষিপ্ত লিগে কোনও কোনও ম্যাচে ব্যক্তিগত পারফরমেন্স ও দক্ষতা নজর কাড়ে, খেলায় প্রভাব ফেলে। পাঞ্জাব ম্যাচে প্রভুসুখন ও বেশ কিছু ম্যাচ পর মাঠে নামা লালচুংনুঙ্গা নিজেদের দায়িত্ব পালন করেছে প্রশংসনীয়ভাবে। গোলকিপার প্রভুসুখনের তিনটি অনবদ্য সেভ নজরকাড়া।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *