Cart Total Items (0)

Cart

All Sports India

সুচরিতা সেন চৌধুরী: রাত পোহালেই ঘরের মাঠে পঞ্জাব এফসি ম্যাচ। লিগ টেবলের শীর্ষে থেকে খেলতে নামছে ইস্টবেঙ্গল এফসি। আইএসএল-এ এই প্রথম লিগ টেবলের শীর্ষে লাল-হলুদ ব্রিগেড। শুধু তাই নয়, চ্যাম্পিয়নশিপের স্বপ্নও দেখছে এই প্রথম। আর ঠিক তখনই একগুচ্ছ বিতর্ক উঠে আসছে সামনে। প্রায় প্রতিদিনই একটা করে হাঁড়ি ভাঙছেন কোচ অস্কার ব্রুজোঁ। যার ফলে ফোকাস ম্যাচ থেকে সরে চলে যাচ্ছে সেই বিতর্কে। যদিও কোচ অস্কার বলছেন, এই মুহূর্তে তিনি শুধুই পঞ্জাব দেখতে পাচ্ছেন। তবে বার বার তার আগেই একটা করে বিতর্ক প্রায় ইচ্ছে করেই উসকে দিচ্ছেন তিনি। তার মধ্যেই অবশ্য পারফর্ম করছে তাঁর দল। হাতে রয়েছে আর তিনটি ম্যাচ। যার উপর নির্ভর করছে চ্যাম্পিয়নশিপ। শেষ ম্যাচের দিন এখনও ঠিক হয়নি। চ্যাম্পিয়নশিপের  লড়াইয়ে থাকা সব দলের ম্যাচ একই দিনে একই সময়ে দেওয়ার কথা ভাবছে ফেডারেশন। কারণ এবার কোনও ফাইনাল নেই। টেবল টপাররাই এবার চ্যাম্পিয়ন। এই অবস্থায় ইস্টবেঙ্গলের জন্য পঞ্জাব এফসি ম্যাচ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ম্যাচের আগের দিন পিভি বিষ্ণুকে সঙ্গে নিয়েই সাংবাদিক সম্মেলনে এসেছিলেন ইস্টবেঙ্গল কোচ অস্কার ব্রুজোঁ।

ইস্টবেঙ্গলের কোচ হিসেবে ৫০তম ম্যাচটি খেলতে নামছেন অস্কার। তার আগে মেনে নিচ্ছেন সোমবারের ম্যাচ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যখন পঞ্জাব এফসি কোচ পানাজিওতিস দিমপেরিস বলছেন, ইস্টবেঙ্গল ম্যাচ তাদের কাছে বিশেষভাবেই আলাদা তখন অস্কার বাকি সব ম্যাচের মতোই এই ম্যাচকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন। অস্কার বলছিলেন, ‘‘ওরা খুব কঠিন দল। আমরা সুপার কাপের সেমিফাইনালে ওদের বিরুদ্ধে খেলেছি। ভারসাম্যযুক্ত দল। তবে আমাদের জন্য সব ম্যাচই সমান গুরুত্বপূর্ণ। কালকের ম্যাচও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পঞ্জাব মরসুমের কঠিন দলগুলোর মধ্যে একটি।’’ সেখানে একই সুরে ইস্টবেঙ্গলের প্রশংসা করছেন  দিমপেরিস। বলছিলেন, ‘‘ইস্টবেঙ্গল অসাধারণ দল, অস্কারের মতো ভালো কোচ রয়েছে। আর সব থেকে বড় কথা ওদের বেঞ্চও খুব শক্তিশালী। পাশাপাশি ওরা ৩-৪-৩ ছকে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে।’’

তিনি ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদেরও প্রশংসা করেছেন। তিনি বলছিলেন, ‘‘আমি দেখেছি যেখানেই ইস্টবেঙ্গল খেলতে যায় সেখানেই তাদের সমর্থকরা পৌঁছে যায় আর এটা তো ঘরের মাঠে খেলা, সমর্থকরা তো থাকবেই। আমার এটা সম্পূর্ণ একটা আলাদা ম্যাচ, অন্যদের থেকে আলাদা, কঠিন ম্যাচ।’’ তবে এর সঙ্গে তিনি এও জানাতে ভোলেননি যে তারা প্রতিদিন উন্নতি করছে। বলছিলেন, ‘‘প্রতি মরসুমে পঞ্জাব আরও উন্নতি করছে। অনেক সময়ই এমন হয়েছে আমরা ভালো প্রতিপক্ষের থেকে ভালো ফুটবল খেলেছি কিন্তু ফল পাইনি। এখন আমরা শুধু আমাদের সেরা ম্যাচগুলো নিয়েই ভাবছি।’’

অস্কারের মাথায় অবশ্য ঘুরছে চ্যাম্পিয়নশিপের খুব কাছে পৌঁছেও দুটো ফাইনালে হেরে ট্রফি হাতছাড়া করার ভূত। তা তিনি স্বীকারও করে নিচ্ছেন। ‘‘আমরা দুটো ফাইনালে হেরেছি। টাইব্রেকারে হেরেছি। এখন আমাদের শুধুই ফোকাস পঞ্জাব ম্যাচ। কালকের ম্যাচের উপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। গতমরসুমে আমরা পঞ্চমস্থানে শেষ করেছিলাম। এবার মরসুমের শুরু থেকেই ড্রেসিংরুম দারুণ ভালো জায়গায় রয়েছে। আমি লাকি, আমি একটা দারুণ দল পেয়েছি। সব চ্যাম্পিয়ন প্লেয়ার রয়েছে সেখানে।’’

এদিকে তাঁর প্রতিপক্ষ কোচ ইস্টবেঙ্গলের বিদেশিদের থেকে এগিয়ে রাখছেন ভারতীয়দেরই। কোন কোন প্লেয়াদের দিকে নজর থাকবে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘‘আমি ইস্টবেঙ্গলের ভারতীয় ফুটবলারদের পছন্দ করি। বিষ্ণ, এডমুন্ড আরও অনেকে রয়েছে দলে। ওরা অসাধারণ ফুটবল খেলছে। ওরাই ইস্টবেঙ্গলের আসল শক্তি।’’ যদিও প্রতিপক্ষ কোচের মুখে নিজের নাম শুনে খুব বেশি প্রতিক্রিয়া দিলেন না ইস্টবেঙ্গলের ভারতীয় ব্রিগেডের অন্যতম পিভি বিষ্ণু। বললেন, ‘‘আমি শুধু আমার কাজ করে যাই। কোচ যা বলে সেটা মেনে চলার চেষ্টা করি।’’ পাশাপাশি তিনি বার বার কোচ বদলের সঙ্গে খেলার স্টাইল বদল প্রসঙ্গেও পরিষ্কার করেই বলে দেন যে, এটাই একজন পেশাদার প্লেয়ারের কাজ। বলেন, ‘‘একজন পেশাদার প্লেয়ারের এটাই কাজ। একজন প্লেয়ারকে কোচের স্টাইলের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। কোচের পরিকল্পনা থাকবে আর আমাদের সেটা কাজে লাগাতে হবে।’’

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *