সুচরিতা সেন চৌধুরী: আরও একটা ডার্বি। আবারও মুখোমুখি ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান। আবার আইএসএল ফাইনাল। তবে এবার এই ম্যাচকে সরাসরি ফাইনাল বলে দেওয়া যাবে না কারণ এবার এক লেগের ম্যাচে, নেই কোনও ফাইনাল। তবে লিগ টেবিলের যা পরিস্থিতি তাতে এই ডার্বি কার্যত ফাইনাল। যে কারণেই অন্যমাত্রা পেয়েছে এবারের ডার্বি। এমনিতে ভারতীয় ফুটবলের সব থেকে উত্তেজক ম্যাচ এটি, তার পর যখন সেই ম্যাচই ফাইনালের রূপ নেয় তখন তা ঘিরে বাড়তি উন্মাদনা, বাড়তি প্রস্তুতি তো থাকবেই। আর প্রি-ম্যাচ সাংবাদিক সম্মেলনে এসে সেই কথাই শুনিয়ে গেলেন ইস্টবেঙ্গল কোচ অস্কার ব্রুজোঁ আর প্লেয়ার মহম্মদ রশিদ। এদিন সাংবাদিক সম্মেলনের শুরুতে প্রাক্তন ফুটবলার মোহন সিং ও প্রাক্তন মোহনবাগান সভাপতি টুটু বসুর জন্য এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
অস্কার বলছিলেন, “আমরা ক্রেসপো, মহেশ, সৌভিকের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্লেয়ারদের পাচ্ছি না। তবে সেটা কোনও অজুহাত হতে পারে না। আমরা আগামীকাল নতুন দল নিয়ে শুরু করব।” এক কথায়, সেরাটা দিতে হবে, অজুহাতের কোনও জায়গা রাখতে চান না অস্কার। তবে ডার্বির আগে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে রয়েছে ইস্টবেঙ্গল ব্রিগেড। একে তো লিগ টেবিলের শীর্ষে রয়েছে দল, আইএসএল-এর ইতিহাসে এই প্রথম চ্যাম্পিয়নশিপের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে লাল-হলুদ ব্রিগেড। সঙ্গে গোল পার্থক্যে এতটাই এগিয়ে রয়েছে যে এই ম্যাচ ড্র হলেও চ্যাম্পিয়নশিপের লড়াইয়ে এগিয়েই থাকবে ইস্টবেঙ্গল।
কিছুদিন আগেই আগামী মরসুমে ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে না থাকার কথা জানিয়ে দিয়েছিলেন অস্কার ব্রুজোঁ। তার কয়েকদিন পর ক্লাবের প্রাক্তনদের একহাত নিয়েছিলেন তিনি। তার পরই এই ডার্বি। এবং তার আগে নিজেকে ইস্টবেঙ্গলের ফ্যান বলে চিহ্নিত করলেন তিনি। সঙ্গে এও জানিয়ে দিয়েছিলেন দল ইতিবাচক মেজাজেই রয়েছে। তবে তাঁর ডার্বির আগে দলের সঙ্গে কথপোকথন নিয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, “আমার কোনও পরিকল্পনা নেই, তাই কোনও আলোচনাও নেই। আমি এখন খেলায় মনোযোগ দিতে চাই।”
তাঁর প্রথম দিকের ইস্টবেঙ্গল আর এই ইস্টবেঙ্গলের মধ্যে যে বিস্তর পার্থক্য তার তিনি বার বারই বুঝিয়ে দিয়েছেন। তার হাতে পরেই যে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাও আ একটা চ্যাম্পিয়নশিপের লড়াইয়ে জায়গা করে নিয়েছে তা বলতে ভোলেননি। দের বছর আগের যে সকালে ইস্টবেঙ্গলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিতে কলকাতায় পা রেখেছিলেন অস্কার সেদিনও ছিল ডার্বি। সেই শুরু। মাঝে অনেকগুলো ডার্বিতে দলের উন্নতি হয়েছে ধাপে ধাপে।
অস্কার বলছিলেন, “এই দলের মানসিক দিকটা ভালো ছিল না। এখন আমরা চ্যাম্পিয়নশিপের কথা বলছি। দের বছরে অনেক কিছু পরিবর্তন হয়েছে। এই দলের মানসিকতারই সব থেকে বড় পরিবর্তন হয়েছে।” এর সঙ্গে মোহনবাগান দলের পরিবর্তন নিয়েও কথা বলেছেন তিনি। বলছিলেন, “মোহনবাগান দলে পরিবর্তন নেই, শুধু কোচ বদলেছে।”
এর সঙ্গে নিজের দলের ভারতীয়দের জাতীয় দলে সুযোগ না পাওয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। বলছিলেন, “বিপিন, বিষ্ণু, রাকিপ যেমন ফুটবলার তাদের জাতীয় দলে থাকার কথা। জাতীয় দলের সবচেয়ে বেশি খেলোয়াড় মোহনবাগানে রয়েছে। তবে ওরা বেশি চাপে থাকবে কারণ ওদের ট্রফি ধরে রাখার লক্ষ্য থাকবে।”
এর সঙ্গে তিনি এও জুড়ে দেন, “আমরা শান্ত, আত্মবিশ্বাসী রয়েছি সঙ্গে এই ম্যাচের জন্য উত্তেজিত। ২২ বছর কোনও জাতীয় স্তরের ট্রফি নেই। তাই এটা শুধু চ্যাম্পিয়নশিপ নয়। এটা এএফসি-র যোগ্যতারও টুর্নামেন্ট। এই লড়াইয়ে এখনও সাতটা টিম রয়েছে।” তবে দুই স্প্যানিশ কোচের লড়াইয়ে এবারের ডার্বি যে অন্য মাত্রা পেতে চলেছে তা নিয়ে কোনও সংশয় নেই। যা আরও উসকে দিলেন অস্কার ব্রুজোঁ। বললেন, “আমরা দু’জনেই স্প্যানিশ কোচ, আমরা ড্রয়ের জন্য খেলি না আমরা আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলি শুধু জয়ের জন্য।”
