Cart Total Items (0)

Cart

All Sports India

 

অলস্পোর্ট ডেস্ক:‌ নেস্টরি ইরানকুন্ডার জীবনের উত্থান কাহিনী রূপকথাকেও হার মানাতে পারে। এ যেন গলি থেকে রাজপথে উঠে আসা এক ফুটবলারের লড়াইয়ের উপাখ্যান। তুরস্কের বিরুদ্ধে ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপে তুরস্কের বিরুদ্ধে প্রথম গোলটা আসে ইরানকুন্ডার পা থেকে। অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে বিশ্বকাপে ২০ বছর বয়সে সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতার নজির গড়েছেন তিনি। কিন্তু কোনওদিন যে তিনি এই জায়গায় পৌঁছবেন, সেটাই ভাবনার অতীত ছিল ইরানকুন্ডার আশেপাশের মানুষের।

বুরুন্ডিতে গৃহযুদ্ধের কারণে ইরানকুন্ডার বাবা ও মা পালিয়ে আশ্র‌য় নেন তানজানিয়ার কিগোমার শরণার্থী শিবিরে। সেখানেই জন্ম ইরানকুন্ডার। অল্পবয়সের বাবা-‌মার হাত ধরে শিশু ইরানকুন্ডা পৌঁছে যায় অস্ট্রেলিয়ার এডিলেডের উত্তরের এক অঞ্চলে। ভাবা যায়, দু’‌দশক পর শরণার্থী শিবিরে জন্মানো ছেলে ইরানকুন্ডা অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে বিশ্বকাপে তুরস্কের বিরুদ্ধে গোল করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন।

জন্মের আগে থেকেই ইরানকুন্ডার বাবা-‌মার বেঁচে থাকার তীব্র সংগ্রাম শুরু হয়েছিল। বুরুন্ডির গৃহযুদ্ধের মাঝে প্রাণ হাতে করে কোনওরকমে তানজানিয়ার শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছিলেন তাঁরা। সেখানে কিগোমায় প্রবল কষ্টের জীবনযাপনের মাঝে ২০০৬ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে জন্ম হয় ইরানকুন্ডার। শৈশবেই ইরানকুন্ডাকে নিয়ে তাঁর বাবা-‌মা চলে আসেন অস্ট্রেলিয়ার পার্থে। পরে তাঁদের ঠাই হয় এডিলেডে। সেখানেই ইরানকুন্ডার জীবনের মোড় ঘোরা শুরু হয়ে ফুটবল খেলার মধ্যে দিয়ে।

এডিলেডে বড় হয়ে ওঠার সময় ফুটবলে হাতেখড়ি ইরানকুন্ডার। তাঁর খেলায় স্পার্কটা লক্ষ্য করেন স্থানীয় কোচরা। ভয়ডরহীন খেলার পাশাপাশি তাঁর দুরন্ত গতি ও ড্রিবল করার ক্ষমতা ছেলেবেলাতেই প্রশংসা কেড়েছিল। স্থানীয় জুনিয়র ক্লাবে খেলতে খেলতেই ইরানকুন্ডা যোগ দেওয়ার সুযোগ পান এডিলেড ইউনাইটেড ফুটবল আকাদেমিতে। আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি তারপর থেকে। ২০২২ সালের জানুয়ারিতে মাত্র ১৫ বছর বয়সে এডিলেড ইউনাইটেডের হয়ে এ-‌লিগে খেলেন ইরানকুন্ডা। ওই লিগে তাঁর নজরকাড়া দক্ষতার কারণে বিশ্বের বড় বড় দল তাঁকে নিতে আগ্রহী হয়। শেষপর্যন্ত জার্মান পাওয়ার হাউস বায়ার্ন মিউনিখ তাঁর সঙ্গে চুক্তি করে। অস্ট্রেলিয়ার নবীন ফুটবলার হিসেবে বায়ার্ন মিউনিখের মতো দলে বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলারদের সঙ্গে সাজঘরে কাটানো ও খেলার সুযোগ ইরানকুন্ডাকে আরও পরিণত করে তোলে।

এটাই অস্ট্রেলিয়া জাতীয় দলে প্রবেশের দরজা খুলে দেয় ইরানকুন্ডার সামনে। অস্ট্রেলিয়া যুব দলে প্রতিনিধিত্ব করে সাফল্য পাওয়ার পর সিনিয়র জাতীয় দলের নির্বাচকদের নজরে পড়েন। তাঁরা বিশ্বকাপের অস্ট্রেলিয়া সিনিয়র দলে ইরানকুন্ডাকে নিতে দ্বিধা করেননি। তাঁদের সেই সিদ্ধান্ত যে নির্ভুল ছিল, সেটা প্রমাণ করে দিয়েছেন ইরানকুন্ডা অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে ২৭ মিনিটে তুরস্কের বিরুদ্ধে প্রথম গোল করে। অস্ট্রেলিয়ার কোচ ও সতীর্থরা মনে করছেন, এই তো সবে শুরু, আরও অনেক গোল আসবে ইরানকুন্ডার গোলখিদের কারণে।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *