ছবি: ডিএফবি টিম
অলস্পোর্ট ডেস্ক: আগেই রাউন্ড অফ ৩২য়ে যাওয়াটা নিশ্চিত করে ফেলেছিল জার্মানি। তাতে কোনও আত্মতুষ্টি বা শিথিলতা জার্মানির ফুটবলারদের মধ্যে এসে থাকাটা অস্বাভাবিক নয়। ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপেপ গ্রুপ ই-র শেষ ম্যাচে ইকুয়েডারের কাছে ১-২ গোলে জার্মানির হারের পর সেই প্রশ্নটাই উঠেছে। প্রথম ম্যাচে কুরাসাওকে ৭-১ গোলে হারানোর পর দ্বিতীয় ম্যাচে আইভরি কোস্টকে হারাতে কালঘাম ছুটেছিল জার্মানির। ইকুয়েডারের কাছে শেষ ম্যাচ হেরেই গেল। জার্মানি সোমবার বোস্টনে রাউন্ড অফ ৩২য়ে মুখোমুখি হবে ৮টি সেরা তৃতীয় স্থানিধিকারী দলের একজনের বিরুদ্ধে।
সেখানে ইকুয়েডার প্রথম ম্যাচটা আইভরি কোস্টের কাছে ০-১ গোলে হেরেছিল। দ্বিতীয় ম্যাচ গোলশূণ্য ড্র করে কুরাসাওয়ের সঙ্গে। জার্মানির সঙ্গে তাদের ম্যাচটা ছিল মরণ বাঁচনের। নক আউটে যাওয়ার আশা জিইয়ে রাখতে তারা শুরু থেকেই তাগিদ দেখিয়ে জার্মানির বিরুদ্ধে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে। এই জয়ে উচ্ছ্বসিত হয়ে ইকুয়েডারের প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়া শুধু দলের কোচ ও ফুটবলরাদের প্রশংসাই করেননি, দেশে একদিনের জাতীয় ছুটি ঘোষণা করেছেন।
স্বাভাবিকভাবেই ম্যাচের পর জার্মানির প্রচারমাধ্যমের কড়া প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে কোচ নাগেলসম্যানকে। ফুটবলারদের মধ্যে জেতার ইচ্ছার অভাব ছিল কিনা, এই প্রশ্নে নাগেলসম্যানের উত্তর, ‘ এসব বলা বন্ধ করুন। ফুটবলারদের মধ্যে কমিটমেন্টের অভাব কোথায় দেখলেন আপনারা? ওরা জেতার চেষ্টা করেছে আপ্রাণভাবে। হ্যাঁ, এটা ঠিক আমি দলে অনেক বদল ঘটিয়েছিলাম। গোল বাড়ানোর লক্ষ্যে। সেটা সবসময় যে ক্লিক করবে এমন নয়। করলে আপনারাই অন্য কথা বলবেন। কোচের কাজটা সবসময় কঠিন। কিন্তু আমি কখনও বলতে পারব না, ফুটবলাররা মাঠে নেমে সেরাটা দেয়নি।’ দলের ফুটবলার জোসুয়া কিমিচ ও উনদাভ ম্যাচ শেষে বলেছেন, ইকুয়েডারের ফুটবলারদের মধ্যে তাঁদের থেকেও বেশি খিদে ছিল ম্যাচ জেতার। এটা মানতে চাননি নাগেলসম্যান। বলেই দেন, তাঁর ফুটবলাররা ঠিক কথা বলেননি।
নাগেলসম্যানের মতে, ‘ শুরুতে গোল করে এগিয়ে যাওয়ার পর যে ধরনের সংগঠিত ফুটবল খেলা দরকার ছিল, সেটা দেখা যায়নি। দলের খেলায় শেপ ও শৃঙ্খলা নষ্ট হয়েছিল। এই হার থেকে আমাদের শিক্ষা নিয়ে তৈরি হওয়া জরুরি রাউন্ড অফ ৩২য়ের ম্যাচের জন্য। ইকুয়েডারের বিরুদ্ধে এগিয়ে গিয়েও আমরা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিলাম। বারবার পজিশন বদল করায় ছন্দপতন ঘটেছিল। বরং আমাদের উচিত ছিল শেপটা ধরে রাখা। সেটা হয়নি। ট্যাক্টিকাল ভুলের জন্যও ভুগতে হয়েছে ম্যাচে।’
কেন এত ফুটবলার বদল? নাগেলসম্যানের ব্যাখ্যা, ‘ ফুটবলারদের ঘুরিয়ে ফিরিয়ে সুযোগ দিতে ও লম্বা টুর্নামেন্টে খেলার ক্লান্তি থেকে ফুটবলারদের বাঁচাতে সাপোর্ট স্টাফদের সঙ্গে পরামর্শ করেই এই বদলের পথে হেঁটেছিলাম। ক্লান্তিটা ইকুয়েডার ম্যাচে কারও কারো মধ্যে চোখে পড়ছিল। তাছাড়া দলের বাকিদেরও এই আত্মবিশ্বাস জোগানো জরুরি ছিল খেলার সুযোগ দিয়ে, তারাও যথেষ্ট যোগ্য বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের দক্ষতা তুলে ধরতে।’
সোমবার বোস্টনে তাঁর প্রথম একাদশ কী হবে, তা নিয়ে এখনই মুখ খুলতে নারাজ নাগেলসম্যান। তাঁর বক্তব্য, প্রতিপক্ষ কে জানার পর রবিবারের প্রস্তুতি শেষে তিনি সেটা ঠিক করবেন।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
