ছবি : ফিফা ২০২৬ ওয়ার্ল্ড কাপ মিডিয়া
পর্তুগাল ৫( রোনাল্ডো-২, মেন্ডিস, নেমাতভ-আত্মঘাতী, রাফায়েল) উজবেকিস্তান ০
মুনাল চট্টোপাধ্যায়: ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে কঙ্গোর সঙ্গে ড্র করে চাপে পড়ে গিয়েছিল পর্তুগাল। সেই চাপ কাটিয়ে ফেলল তারা দ্বিতীয় ম্যাচে উজবেকিস্তানকে হিউস্টনের মাঠে ৫-০ গোলে হারিয়ে। সবচেয়ে বড় কথা, এই ম্যাচে পর্তুগালই শুধু জয়ের রাস্তায় ফিরল না, ছন্দে ফিরে ২ গোল করে নিজের ভক্তদের মনে আনন্দ দিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। বিশ্বকাপ না জেতার অধরা স্বপ্নপূরণের আশা জিইয়ে রাখতে রোনাল্ডোর এই পারফরমেন্স ও গোল পাওয়া খুব জরুরি ছিল।
ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো প্রথম ফুটবলার, যিনি ৬টি বিশ্বকাপে গোল করার কৃতিত্ব অর্জন করলেন। ৪১ বছরের রোনাল্ডো ইওরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ সহ গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টের শেষ ১০ ম্যাচে কোনও গোল পাননি। এমনকি ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপে কঙ্গোর বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে রোনাল্ডো গোল পাননি। ম্যাচটা ১-১ ড্র হয়েছিল। এতে রোনাল্ডো যেমন তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন, তেমন প্রশ্ন উঠেছিল পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্টিনেজের ভূমিকা নিয়ে। অনেকেই দু্যেছিলেন কঙ্গো ম্যাচে সাদামাটা খেলা রোনাল্ডোকে ৯০ মিনিট মাঠে রেখে দেওয়ার জন্য। পর্তুগাল কোচ মার্টিনেজ অবশ্য রোনাল্ডোর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। বলেছিলেন, গোল করে যখন ম্যাচ জেতা জরুরি, সেখানে দলের সেরা স্ট্রাইকারকে মাঠে বাইরে রাখা যায় নাকি? ধৈর্য ধরুন, রোনাল্ডো স্বমেজাজে ফিরবে।
মার্টিনেজের কথাই সত্যি হল। ছন্দে ফিরে সব সমালোচনার জবাব দিলেন সিআর সেভেন। মেসি যেখানে ইতিমধ্যেই ৫ গোল করে ফেলেছেন, এমবাপে, হালান্ডরা গোল করে দলকে ভরসা জোগাচ্ছেন, সেখানে রোনাল্ডো উজবেকিস্তান ম্যাচে গোল না পেলে, সমালোচনার সুনামির মুখে পড়তেন। ৬ মিনিটে পর্তুগালের ফাইভ স্টার পারফরমেন্সের প্রথম গোলটা আসে রোনাল্ডোর পা থেকেই। জোয়াও কনসেলোর নীচু ক্রশ বক্সে আসা মাত্র অসাধারন ক্ষিপ্রতা দেখিয়ে ডানপায়ের জোরালো শটে উজবেকিস্তানের জালের ভেতর পাঠান তিনি। ১৯৯৪ বিশ্বকাপে রাশিয়ার বিরুদ্ধে গোল করা ক্যামেরুনের ৪২ বছরের রজার মিল্লার পর রোনান্ডোই হলেন দ্বিতীয় সবচেয়ে বেশি বয়সের ফুটবলার, যিনি ৪১ বছর বয়সে বিশ্বকাপে গোল করলেন।
৩৯ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোল করে ব্যবধান বাড়ান রোনাল্ডো। ব্রুনো ফার্নান্ডেজের থ্রু অনুসরণ করে গতি বাড়িয়ে বলের দখল নিয়ে কোনাকুনি শটে উজবেকিস্তান গোলকিপার নেমাতভের পাশ দিয়ে গোলে বল জড়ান রোনাল্ডো। বিশ্বকাপে রোনাল্ডো ১০ গোল করে স্বদেশীয় ইউসেবিওকে টপকে গেলেন। ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে রোনাল্ডোর গোলসংখ্যা এখন ৯৭৫। পর্তুগালের তারকা ফুটবলার আগেই ঘোষণা করেছেন, সেই গোল সংখ্যা ১০০০ না হওয়া পর্যন্ত তিনি অবসর নেবেন না।
রোনাল্ডো ফর্মে ফেরা ও উপস্থিতি কতটা প্রতিপক্ষের ওপর প্রভাব বিস্তার করে সেটা বোঝা গেছে পর্তুগালের দ্বিতীয় গোল প্রাপ্তির সময়। ১৭ মিনিটে উজবেকিস্তান বক্সের ঠিক বাইরে ফ্রিকিক পেয়েছিল পর্তুগাল। ফ্রিকিক নেওয়ার জন্য বলের সামনে দাঁড়িয়েছিলন রোনাল্ডো। তাঁর পাশে হাল্কা মেজাজে দাঁড়িয়েছিলেন নুনো মেন্ডিস। গোলের সামনে দেওয়াল তুলে দাঁড়ানো উজবেকিস্তান ফুটবলাররা, এমনকি গোলকিপার ধরেই নিয়েছিলেন ফ্রিকিক নেবেন রোনাল্ডো। সেদিকে তাঁদের মন ছিল। কিন্তু সবাইকে অবাক করে আচমকা এগিয়ে গিয়ে নুনো মেন্ডিস বাঁপায়ে জোরালো শট নিলে, তা দেওয়ালের ধার ঘেঁষে গোলকিপারকে বোকা বানিয়ে গোলে ঢোকে।
বিরতিতে ৩-০ এগিয়ে থেকে সাজঘর গিয়েছিল পর্তুগাল। দ্বিতীয়ার্ধে তাদের আক্রমণের ঝাঁজ অব্যাহত ছিল। তাতেই ৬০ মিনিটে ফ্রিকিক থেকে আসা বল জোয়াও ফেলিক্সের পায়ে লেগে খুশানভের গায়ে ধাক্কা খেয়ে গোলকিপার নেমাতভের হাতে গেলে, তিনি তা ধরে রাখতে পারেননি। বল তাঁর হাতে লেগে গোলে যায়। রেফারি এটাকে আত্মঘাতী গোল দিয়েছেন। পর্তুগাল ৪ গোলে এগিয়ে থাকার সময় অন্তত তিনবার গোলের সুযোগ এসেছিল রোনাল্ডোর কাছে। দুটি ক্ষেত্রে তাঁর প্রচেষ্টা রুখে দেন উজবেকিস্তান গোলকিপার নেমাতভ। আর একবার রোনান্ডোর পায়ে লেগে উঁচু হয়ে বল গোলের ঢোকার মুখে লাইন থেকে ফেরান খুশানভ। ৮৭ মিনিটে উজবেকিস্তান কফিনে শেষ পেরেকটি পোঁতেন রাফায়েল লিয়াও। নেলসন সেমেদের মাইনাস বক্সের মাঝে এলে ডানপায়ের বাঁক খাওয়ানো শটে গোল পান তিনি।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
