ছবি: ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ ২০২৬
অলস্পোর্ট ডেস্ক: কিলিয়ান এমবাপের জোড়া ও ব্র্যাডলি বারকোলার এক গোলে নিউজার্সি স্টেডিয়ামে সুইডেনকে ৩-০ ফলে হারিয়ে ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় গেল ফ্রান্স। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে ঘরের মাঠে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে প্রিকোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে প্যারাগুয়েকে ১-০ গোলে হারিয়েছিল তারা। লরা ব্লঁর সোনালী গোলে অতিরিক্ত সময়ে। এবার আবার সেই পর্যায়ে এমবাপেদের সামনে প্যারাগুয়ে শনিবার ফিলাডেলফিয়ার মাঠে। আশা করে যায় ১৯৯৮য়ের মতো ফ্রান্স এই বাধা টপকে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌছবে।
শুরু থেকে দাপট দেখিয়ে নিউজার্সি স্টেডিয়ামের ৮০ হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে বিরতির ঠিক আগে গোল করে ফ্রান্স এগিয়ে দেন এমবাপে। তার আগে এমবাপে ও ওলিসের শট ক্রশপিসে লেগে ফিরেছিল। প্রথম গোলের পর এমবাপে রিজার্ভ বেঞ্চের দিকে ছুটে গিয়ে কোচ দিদিয়ের দেশঁকে জড়িয়ে ধরেন। নরওয়ের বিরুদ্ধে গ্রুপের শেষ ম্যাচে ফ্রান্সের রিজার্ভ বেঞ্চে ছিলেন না দেশঁ। মায়ের শেষকৃত্যে যোগ দেওয়ার জন্য দেশে ফিরে যাওয়ায়। ওলিসে নিজে গোল না করলেও, গোটা ম্যাচে তাঁর পারফরমেন্স নজর কাড়ে। তাঁর পাস থেকেই ৫৩ মিনিটে ফ্রান্সের দ্বিতীয় গোল করেন বারকোলা। ৭৪ মিনিটে এমবাপের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোলের পিছনেও ওলিসের অবদান।
এমবাপে জোড়া গোল করে ছুঁয়ে ফেললেন চলতি বিশ্বকাপে ৬ গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে থাকা মেসিকে। ফ্রান্সের অধিনায়ক এমবাপের বিশ্বকাপে মোট গোলের সংখ্যা ১৮। ২৭ বছর বয়সী ফ্রান্স তারকা এখন ঠিক এক গোলের পিছিয়ে লিওনেল মেসির থেকে। মেসির গোলসংখ্যা ১৯। দুই তারকা ফুটবলারদের লড়াইটা ভালই জমেছে। এখন দেখার মেসি ও এমবাপে তাঁদের পরের ম্যাচগুলো জিতে ও গোল করে নিজেদের রেকর্ড বাড়িয়ে নিয়ে কতটা যেতে পারেন। এমবাপে আরও একটি নজর গড়লেন। নক আউটে পর্বে ১০ গোল করে ব্রাজিলের দুই তারকা ফুটবলার রোনাল্ডো লিওনিডাসের ৮ গোলের রেকর্ড ম্লান করে দিলেন।
রেকর্ড গড়ায় পিছিয়ে নেই ফ্রান্সের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফুটবলার কাম কোচ দেশঁ। ৫৭ বছর বয়সী দেশঁ কোচ হিসেবে ১৮ ম্যাচ জিতে নয়া কীর্তি স্থাপন করেছেন। বিশ্বকাপে এত ম্যাচ জেতেননি। এর আগে নরওয়েকে হারিয়ে বিশ্বকাপে ১৭ ম্যাচ জেতার সুবাদে হেলমুট শোনের রেকর্ড ভেঙেছিলেন দেশঁ। তবে ওই ম্যাচে তিনি রিজার্ভ বেঞ্চে ছিলেন। মায়ের শেষকৃত্যে যোগ দেওয়ার কারণে। ১৪ বছর ফ্রান্স দলের কোচ হিসেবে সাফল্যের সঙ্গে কাটানো দেশঁর এটাই শেষ টুর্নামেন্ট দেশের হয়ে। এরপর তাঁর জায়গায় দায়িত্ব নেবেন জিনেদিন জিদান। দেশঁর সাফল্যের জুতোয় পা গলিয়ে ফ্রান্সের কোচ হিসেবে পারফরমেন্সের ধারাবাহিকতার কাজটা জিদানের পক্ষে মোটেই সহজ হবে না।
সুইডেন ম্যাচ জেতার পর দেশঁর প্রতিক্রিয়া,‘ বিশ্বকাপে আমাদের খেলার স্টাইল বদলাবো না। যেভাবে আগের ম্যাচগুলো আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলে এসেছি, সেটাই বজায় থাকবে। আমরা প্রতিপক্ষের জন্য বিপজ্জনক। ওদের চাপে ফেলার ক্ষমতা রাখি। সেই মনোভাব পরের ম্যাচেও বজায় থাকবে। বিশ্বকাপে ফেবারিট তকমা আমাদের গায়ে রয়েছে। এখনও পর্যন্ত সবকিছুই ঠিকঠাক চলেছে। তার মানে এই নয়, আমাদের কাজ শেষ হয়েছে। বাড়তি খুশি হওয়া বা সন্তুষ্টি আসার মতো কিছু করিনি আমরা। বরং আমাদের আবার নতুন করে শুরু করতে হবে। পরের ম্যাচের জন্য ফোকাস ঠিক রেখে প্রস্তুতি নিতে হবে। মনে রাখতে হবে শেষ ষোলোয় আমরা এমন একটা দলের বিরুদ্ধে খেলব, যাদের হারানো কিছু নেই। তাই তারা খোলামনে আমাদের ওপর ঝাঁপাবে। তাই আমাদের বেশি সতর্ক থাকতে হবে, যাতে ওরা আঘাত হানতে না পারে। গ্রুপ পর্যায়ে ১০ গোল করেছি আমরা। গোল আরও বাড়তি পারত মিসের সংখ্যা বেশি না হলে।’
প্যারাগুয়ের মুখোমুখি হওয়ার আগে ফ্রান্স দলে অল্পবিস্তর চোট সমস্যা আছে। স্ট্রাইকার মার্কাস থুরঁকে ওই ম্যাচে পাওয়া যাবে না ফিট নয় বলে। তবে এন’গোলো কন্তের রিজার্ভ বেঞ্চে ফেরা পাকা প্যারাগুয়ে ম্যাচে। উইলিয়ান সালিবা পিঠের ব্যথা নিয়েই সব ম্যাচ খেলছেন। কোচ দেশঁর মতে, সালিবার যতই সমস্যা থাক, তিনি মাঠে নামতে তৈরি রক্ষণকে ভরসা জোগাতে।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
