স্পেন ১( মেরিনো) পর্তুগাল ০
মুনাল চট্টোপাধ্যায় : রাউন্ড অফ ৩২য়ে ক্রোয়েশিয়ার হারের পর কিংবদন্তী লুকা মদ্রিচকে বুকে জড়িয়ে সান্ত্বনা দিয়েছিলেন পর্তুগালের মেগাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। নরওয়ের কাছে হারের পর চোখের জল নিয়ে বিশ্বকাপ থেকে চিরকালের জন্য বিদায় নিতে হয়েছে ব্রাজিলের নেইমারকে। আর এবার স্পেনের কাছে হারের পর একইরকম বেদনা ও হতাশা নিয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চ থেকে চলে যেতে হল পর্তুগালের তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোকে।
২০২২ কাতার বিশ্বকাপে কোয়ার্টারফাইনালে মরক্কোর বিরুদ্ধে পর্তুগালের হারের পর কান্নায় ভেঙে পড়ে পড়ে মাঠে ছেড়েছিলেন রোনাল্ডো। ওই বিশ্বকাপে তিনি নিয়মিত ও পর্যাপ্ত সময় খেলার সুযোগ পাননি। কিন্তু এবার সেই অভিযোগ করার কোনও সুযোগ নেই রোনাল্ডোর। রবার্তো মার্টিনেজ কোচের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সবসময় রোনাল্ডোকে ব্যাক করে গিয়েছিলেন। রোনাল্ডোকেই দলের অধিনায়ক হিসেবে সামনে রেখে দল সাজিয়েছেন। পুরো সময় খেলার সুযোগ দিয়েছেন। তবু মেসি যেটা পেরেছেন বিশ্বকাপ জিততে, নেইমার, মদ্রিচের মতো রোনাল্ডোর বিশ্বকাপ জেতার স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল। ডালাস আর্লিংটনের মাঠে প্রিকোয়ার্টারফাইনাল ম্যাচে স্পেনের কাছে ৯১ মিনিটে ফেরান টোরেসের পাস থেকে সুপার সাব মিকেল মেরিনোর দেওয়া গোলে ছিটকে নিয়ে। ম্যাচ শেষে এই কারণে তাঁর চোখে ছিল জল। উদাস ভাবে আকাশের দিকে তাকিয়ে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে হাত নাড়তে নাড়তে মাঠে ছাড়েন সিআর সেভেন। ২০০৬ জার্মানি বিশ্বকাপে চতুর্থ স্থান পাওয়ার পর পর্তুগাল পরবর্তী বিশ্বকাপে নকআউট পর্যায়ে মাত্র এক ম্যাচ জিতেছে।
অত্যন্ত সাদামাটা মানের ম্যাচে পর্তুগাল গোলের সুযোগ যে পায়নি এমন নয়। রোনাল্ডো নিজেও পেয়েছিলেন। কিন্তু ৪১ বছর বয়সে তাঁর রিফ্লেক্স যে অনেকটাই কমে গেছে, সেটা স্পেন ম্যাচে প্রমাণ হয়েছে। স্পেনের মিকেল ওয়ারজাবাল গোল করা সুযোগ হাতছাড়া পর রোনাল্ডোর প্রচেষ্টা রুখে দিয়ে নিজের দলকে লড়াইয়ে রাখেন গোলকিপার উনাই সিমন। বিরতির ঠিক আগে রোনাল্ডোর আরও একটি প্রচেষ্টা রোখেন সিমন। পর্তুগালের নুনো মেন্ডিজের শট ক্রশপিসে লেগে ফেরে। এরপর রোনাল্ডোকে সেভাবে ম্যাচে নজরেই আসেনি। গোটা ম্যাচে রোনাল্ডো মোট ১৯বার বল টাচ করেছে। প্রথমার্ধে মাত্র ১২বার। ৮০ মিনিটের পর একবারও বল ছুঁতে পারেননি রোনাল্ডো। ৯০ মিনিটে রোনাল্ডো মাত্র তিনটি শট নিতে পেরেছিলেন।
২০২২ কাতার বিশ্বকাপে রোনাল্ডো মাত্র একটি গোল করেছিলেন, তাও আবার পেনাল্টি থেকে। সতীর্থ গঞ্জালো র্যামস কাতারে হ্যাটট্রিক করেছিলেন। মনে করা হয়েছিল কোচ রবার্তো মার্টিনেজ তাঁকেই বেশি করে ব্যবহার করবেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। উজবেকিস্তান ম্যাচে জোড়া গোল করা ছাড়া রোনাল্ডোর তেমন কোনও বড় ভূমিকা ছিল না দলের শেষ ১৬ পর্যন্ত যাওয়াতে। ক্রোয়েশিয়া ম্যাচে রোনাল্ডোর গোল এসেছিল পেনাল্টি থেকে। তাই রোনান্ডোকে পুরো সময় খেলিয়ে অন্যদের বসিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত ব্যাকফায়ার করেছে মার্টিনেজকে। পর্তুগালকে বিশ্বকাপ থেকে অকালে ছিটকে দিয়েছে।
অন্যদিকে, স্পেনের দল গঠন নিয়ে কোচ লুই দে লা ফুয়েন্তে দিকে কেউ কখনও আঙ্গুল তোলেনি। ম্যাচ চলাকালীন খেলোয়াড় বদল নিয়েও। পর্তুগাল ম্যাচে তাঁর বদলি ফুটবলাররাই শেষমুহূর্তে বাজিমাত করেছেন। পরিবর্তে হিসেবে মাঠে আসা ফাবিয়েন রুই বল বাড়িয়েছিলেন রড্রিকে। তিনি পাস দেন টোরেসকে। বল ধরে মিকেল মেরিনোকে মাপা পাস বাড়ান তিনি। মেরিনো ঠান্ডা মাথায় সেই বল পর্তুগাল গোলকিপার দিয়েগো কোস্তার পাশ দিয়ে জালে জড়িয়ে দেন। পর্তুগাল গোল শোধ করতে পারেনি নির্ধারতি সময়ে।
ম্যাচ শেষে স্পেন কোচ ফুয়েন্তে বলেন, ‘ মেরিনো কখনও আমাকে হতাশ করেনি। ও আমাদের ইওরো কাপ জিতিয়েছিল। ওর পজিশনে মেরিনো সেরা। এইধরনের ফুটবলার বেঞ্চে থাকা বড় প্রাপ্তি। ও অন্য যে কোনও দলের প্রথম দলে খেলার ক্ষমতা রাখে।’ পর্তুগালের নুনো মেন্ডিসের কড়া নজরে থাকায় লামিনে ইয়ামাল বিশেষ দাগ কাটতে পারেননি। সেটা অকপটে স্বীকার করেছেন ইয়ামাল। তবে শেষপর্যন্ত দলের জয়ে খুশি। কোয়ার্টারফাইনালে শুক্রবার লস এঞ্জেলসে সামনে বেলজিয়াম। তারা আমেরিকাকে ৪-১ গোলে হারিয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল তিন আয়োজক দেশ আমেরিকা, কানাডা ও মেক্সিকো বিশ্বকাপের লড়াইয়ের বাইরে চলে গেল।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
