Cart Total Items (0)

Cart

All Sports India

 

‌মুনাল চট্টোপাধ্যায়:‌ ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপের শুরু থেকেই আক্রমণের মুখে পড়তে হয়েছে আর্জেন্টিনা ফুটবল দলকে। সমালোচকদের দল বারবার মেসি ও তাঁর দলের জয়কে খাটো করে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। এটা বলে আর্জেন্টিনাকে জিততে সাহায্য করছেন রেফারিরা বিশ্বকাপের অন্যতম সংগঠক ফিফার অঙ্গুলি হেলনে। আটলান্টার মাঠে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-‌১ গোলে হারিয়ে টানা দু’‌বার ফাইনালে পৌঁছে মেসি সেইসব সমালোচকদের এক হাত নিয়েছেন। তাঁর সাফ কথা, ‘‌ এটা ফ্লুক নয়। আর কেউ হাতে করে কিছু তুলে দেয় না, সবটাই অর্জন করতে হয় খেটে।’‌

৫৫ মিনিটে অ্যান্টনি গর্ডনের গোলে ৫৫ মিনিটে ইংল্যান্ড এগিয়ে যাওয়া পর্যন্ত আর্জেন্টিনাকে তার চেনা ছন্দে পাওয়া যায়নি। এমনকি লিওনেল মেসিকেও নয়। কিন্তু সেমিফাইনালে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় হয়ে যাবে তাঁর দলের, আর সেটা ঠেকাতে হবে এটা উপলব্ধি করেই মেসি খোলস ছেড়ে বেরুলেন। আর চেনা মেজাজে ফিরে ইংল্যান্ডের কফিনে পেরেক ঠুকে দিলেন জোড়া গোলের পেছনে অসামান্য অবদান রেখে। ৮৫ মিনিটে মেসির পাস থেকে এনজো ফার্নান্ডেজের গোল। আর সংযুক্তি সময়ের ২ মিনিটে অর্থাৎ ৯২ মিনিটে তাঁর তোলা বলেই হেডে লওতারো মার্টিনেজের জয়সূচক গোলে বাজিমাত। মেসি বুঝিয়ে কেন তিনি সর্বকালের সেরা ফুটবলার। মেসির সামনে এখন পরপর দু’‌বার বিশ্বকাপ জেতার হাতছানি ফাইনালে স্পেনকে হারিয়ে। আর সেটা যদি পারেন, তাহলে মেসি ছাপিয়ে যাবেন মারাদোনাকেও। কারণ এই কৃতিত্ব মারাদোনারও নেই।

রেফারির পক্ষপাতিত্বে আর্জেন্টিনা জিতছে, একাংশ মানুষের এই বক্তব্যে মেসি মর্মাহত ও অখুশি ছিলেন। তাঁর মতে, ‘‌ঈর্ষার থেকে একদল মানুষ একথা বলছেন। আমাদের জয়ে কারও যদি মনে আঘাত লাগে, লাগুক। আমরা গত চারবছর ধরে সেরা। বিশ্বে নিজেদের জায়গাটা ধরে রেখেছি। এটা যদি কারও ভাল না লাগে, আমরা কী করতে পারি। এইমুহূর্তে বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে প্রমাণ করেছি, আমরা বিশ্বের দু’‌টি সেরা দলের মধ্যে একটি। আর এটা পড়ে পাওয়া চোদ্দ আনা নয়। বা কেউ আমাদের দয়া করে সেই জায়গায় পৌঁছে দেয়নি। রীতিমতো মাঠে সেরা দিয়ে সেটা অর্জন করেছি। পরপর দু’‌বার ফাইনালে উঠতে খুব কম দলই পারে। আমাদের দলটা পেরেছে।’‌

এট ছিল দেশের জার্সিতে ৩৯ বছর বয়সী মেসির ২০৫তম ম্যাচ। কিন্তু মজার কথা হল ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম। মেসির ঝাঁজালো মন্তব্য, ‘‌ কিছু লোক নখ দাঁত বের করে বসেছিল আমাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়বে বলে। ইংল্যান্ডের সঙ্গে আমরা হারলে, তারা উল্টোপাল্টা, অযৌক্তিক কথা বলত। কিন্তু তাদের আমরা সেসুযোগ দিইনি। আমরা জানি, আমরা অন্যদের থেকে অনেক ভাল মাঠের খেলায়। ইংল্যান্ডের সঙ্গে ম্যাচে বেশ কিছু অন্য বিষয় জড়িয়ে ছিল। পুরোন কিছু ঐতিহাসিক সমীকরণ। সেগুলো মাথা রেখেই ম্যাচটা খেলতে হয়েছে, জয় ছিনিয়ে নিতে।’‌ মেসির কথায় ইঙ্গিতটা না বোঝার কারণ নেই। তাঁর মাথায় আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যে অতীতে ফকল্যান্ড যুদ্ধের পাশাপাশি ৮৬ বিশ্বকাপে মারদোনার ‘‌হ্যান্ড অফ গডের’‌ গোল বিতর্ক ছিল।

ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে জয়টা মেসি উৎসর্গ করেছেন প্রবাদপ্রতিম মারাদোনাকে। ৪০ বছর আগে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে মারাদোনার ‘‌হ্যান্ড অফ গড গোল’‌ নিয়ে আজও চর্চা হয়। বিশেষ করে ইংল্যান্ডের সমর্থকরা আর্জেন্টিনার কাছে সেই হারটা এখনও মানতে পারেন না। তবে ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে বিতর্কহীন জয়ের পর ইংল্যান্ডের বা অতিবিরোধী আর্জেন্টিনা সমর্থকও কোনও খুঁত খুঁজে বের করার সুযোগ পাচ্ছেন না। মেসির প্রতিক্রিয়া, ‘‌ দ্বিধাহীন ভাষায় বলছি, মারাদোনা ওপর থেকে সব দেখছেন, ও আমাদের এই সাফল্য উপভোগ করেছেন। কারণ এই দিনটা মারাদোনার জন্য একটি বিশেষ দিন। তিনিও এমন একটা জয় চেয়েছিলেন নিশ্চয়ই ওপর থেকে। তাঁর আশীর্বাদ আমাদের সঙ্গে ছিল। আগামীদিনেও থাকবে। মারাদোনার জন্য এই জয়টা আমাদের দলের তরফে বিশেষ উপহার।’‌

ফাইনালে ওঠার পর আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি জোর গলায় বলেছেন, ‘‌ মেসি বিশ্বের সেরা ফুটবলার। ও ফুটবলের সম্রাট। আমার জানা নেই, মেসি আর কী করতে হবে নিজেকে সর্কালের সেরা ফুটবলার হিসেবে প্রমাণ দিতে। অন্য দলের যাই থাকুক, তাদের একটা মেসি নেই, যা আমার আছে।’‌

সবমিলিয়ে বিশ্বকাপে মেসির গোল সংখ্যা ২১। চলতি বিশ্বকাপে ৮ গোল করে কিলিয়ান এমবাপের সঙ্গে গোল্ডেন বুট জেতার দৌড়ে রয়েছেন আর্জেন্টিনার ফুটবল রাজপুত্র। নিউ জার্সিতে ফাইনালে স্পেনের বিরুদ্ধে মেসি গোল করে এমবাপেকে টপকে যান, নাকি ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তৃতীয় ও চতুর্থ স্থান নির্ধারণের খেলায় এমবাপে গোল সংখ্যা বাড়িয়ে নেন, সেটাই এখন দেখার।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *