Cart Total Items (0)

Cart

All Sports India

অলস্পোর্ট ডেস্ক: স্পেনের ফরোয়ার্ড লামিন ইয়ামাল শারীরিক সমস্যা কাটিয়ে উঠেছেন এবং আর্জেন্টিনার বিপক্ষে রবিবারের বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলার জন্য প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে স্পেনের ২-০ ব্যবধানের জয়ের পর ১৯ বছর বয়সী ইয়ামালকে খুঁড়িয়ে হাঁটতে দেখা গিয়েছিল এবং বৃহস্পতিবার তিনি দলের অনুশীলন সেশনে অংশ নিতে পারেননি। সিনহুয়া-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, দে লা ফুয়েন্তে বলেন, ‘‘সে বেশ জোরে আঘাত পেয়েছিল, যা ছিল খুবই যন্ত্রণাদায়ক। বাড়তি সতর্কতার অংশ হিসেবেই আমরা তাকে কিছুটা বিশ্রাম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। আজ অনুশীলনে সে ঠিকঠাক ছিল। সতীর্থদের সঙ্গে সে অনুশীলন করেছে। সে এখন সুস্থ এবং সেরা অবস্থায় আছে।’’

দে লা ফুয়েন্তে জানান, নিউ ইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে রবিবারের ম্যাচের আগে কোনও অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যা বা চোট ধরা পড়ার শেষ সুযোগ হবে শনিবারের চূড়ান্ত অনুশীলন সেশন।

তিনি বলেন, ‘‘এটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। যদি কোনও সমস্যা দেখা দেয়, তবে তা কাটিয়ে ওঠার মতো সময় আর পাওয়া যাবে না।’’

২০১০ সালে শিরোপা জয়ের পর এটিই হতে যাচ্ছে স্পেনের প্রথম বিশ্বকাপ ফাইনাল। অন্যদিকে, আর্জেন্টিনা টানা দ্বিতীয় এবং সব মিলিয়ে চতুর্থ শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামবে; এর আগে তারা ১৯৭৮, ১৯৮৬ এবং ২০২২ সালে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।

টুর্নামেন্টে অপরাজিত থেকে এবং মাত্র একটি গোল হজম করে ফাইনালে ওঠা স্পেনের কোচ দে লা ফুয়েন্তে বলেন, উভয় দলই যোগ্যতার ভিত্তিতে ফাইনালে উঠেছে এবং তাদের খেলার ধরনে বেশ মিল রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘‘রবিবার আমরা দারুণ একটি ম্যাচ দেখতে যাচ্ছি। আমার মতে, দু’টিই দুর্দান্ত দল—মনোভাব ও প্রতিভার দিক থেকে অনেক ক্ষেত্রেই তারা একে অপরের সদৃশ। আমার বিশ্বাস, স্পেন ও আর্জেন্টিনা—উভয় দলেরই এমন গেম প্ল্যান থাকবে যেখানে অন্য সবকিছুর ঊর্ধ্বে প্রাধান্য পাবে প্রতিভা ও সুন্দর ফুটবল।’’

ফাইনালে ওঠার পথে দল দু’টির যাত্রাপথ ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। স্পেন মূলত বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা (পজেশন-ভিত্তিক) খেলা এবং জমাট রক্ষণভাগের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে নিয়ন্ত্রণে রেখেছে; অন্যদিকে, আর্জেন্টিনা তাদের চারটি নকআউট ম্যাচের প্রতিটিতেই জয়ের জন্য শেষ মুহূর্তের গোলের ওপর নির্ভর করেছে।

দে লা ফুয়েন্তে বলেন, লিওনেল স্কালোনির দলের জন্য কোনও ব্যবধানই (স্কোরলাইনে পিছিয়ে থাকা) অসম্ভব কিছু নয়। তিনি বলেন, ‘‘তারা ম্যাচে পিছিয়ে থেকেও ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছে। তবে আমাদের জাতীয় দলের ইতিহাসেও এমন পরিস্থিতির নজির রয়েছে।’’

‘‘লিওনেল স্কালোনি এবং আমি—আমরা দু’জনেই অনেক ধারণা, মূল্যবোধ এবং নীতিতে বিশ্বাসী যা একটি দলকে এগিয়ে নিয়ে যায়। আমাদের মধ্যে মিল আছে এবং এটিই প্রমাণ করে যে শীর্ষস্থানীয় দলগুলোর ক্ষেত্রে এমন মানসিকতার প্রয়োজন। যখন প্রতিদ্বন্দ্বিতা খুব হাড্ডাহাড্ডি হয়, তখন ছোটখাটো বিষয় বা খুঁটিনাটিই পার্থক্য গড়ে দেয়।’’

দে লা ফুয়েন্তে স্বীকার করেছেন যে, আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে আটকানোর জন্য তিনি ‘ম্যান-মার্কিং’-এর  পরিকল্পনা করেননি। উল্লেখ্য, এবারের টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনার করা ১৯টি গোলের মধ্যে ১২টিতেই সরাসরি অবদান রেখেছেন মেসি।

সেভিয়ার যুব দলের কোচ থাকাকালীন আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই তারকার মুখোমুখি হওয়ার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথাও তিনি তুলে ধরেন। ৬৫ বছর বয়সী এই কোচ বলেন, ‘‘আমরা বার্সেলোনায় গিয়েছিলাম এবং মেসি নামের এক কিশোরের ব্যাপারে অনেক দারুণ কথা শুনেছিলাম। তাই তাকে ‘ম্যান-টু-ম্যান’ মার্কিং বা ব্যক্তিগত পাহারায় রাখার জন্য আমরা একজন খেলোয়াড়কে দায়িত্ব দিয়েছিলাম। কিন্তু ৭০তম মিনিটে আমি সেই মার্কারকে তুলে নিই, কারণ সে একটি হলুদ কার্ড পেয়েছিল। তখন খেলার ফল ছিল ০-০; কিন্তু এরপর মাত্র ১৫ মিনিটের ব্যবধানে মেসি আমাদের বিপক্ষে চারটি গোল করে বসে। তাই এবার আমরা আর ম্যান-টু-ম্যান মার্কিংয়ের কৌশল নেব না। তবে হ্যাঁ, আমাদের অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে এবং বিশেষ নজর রাখতে হবে।’’

দে লা ফুয়েন্তে আরও বলেন, ইয়ামালের উচিত নয় মেসির অনুকরণ করার চেষ্টা করা; বরং তার নিজের স্বাভাবিক খেলাটাই খেলা উচিত।

তিনি বলেন, ‘‘নিজের মনোভাব এবং খেলার ধরনের কারণে মেসি তরুণ খেলোয়াড়দের কাছে এক আদর্শ। লামিনকে তার নিজের মতোই থাকতে হবে। তাকে সহায়তা করার সর্বোত্তম উপায় হল তাকে তার মতো করেই বেড়ে উঠতে ও খেলতে দেওয়া, কারণ তার মধ্যে দারুণ সম্ভাবনা রয়েছে।’’

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *