Cart Total Items (0)

Cart

All Sports
ফিলিপিন্স মহিলা ফুটবল দল

অলস্পোর্ট ডেস্ক: প্রথমার্ধে সারিনা বোল্ডেন হেডারের সুবাদে সহ-আয়োজক নিউজিল্যান্ডকে ১-০ গোলে হারিয়ে ফিলিপিন্স মহিলা ফুটবল দল মঙ্গলবার ঐতিহাসিক প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ জয়ের স্বাদ পেল। নিউজিল্যান্ড দ্বিতীয়ার্ধে সুযোগ তৈরি করেছিল এবং একটি গোল বাতিল হয় কিন্তু ফিলিপিন্স ওয়েলিংটনে ৩২,৩৫৭-র ভর্তি গ্যালারির সামনে নিজেদের গোলের ব্যবধান শেষ পর্যন্ত ধরে রাখল। পুরুষ বা মহিলা দল মিলে বিশ্বকাপের আসরে ফিলিপিন্সের এটিই প্রথম জয় এবং এই জয়ের সঙ্গে গ্রুপ ‘এ’ থেকে পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার রাস্তা খোলা থাকল। এই জয়ের পর আবেগের কান্নায় ভাসতে দেখা গেল দলের সবাইকে। মিডফিল্ডার সারা এগেসভিক বলেন, “আমরা যা অর্জন করেছি তা আমি বিশ্বাস করতে পারছি না। এর থেকেই প্রমানিত হয় যে বড় কিছু করা সম্ভব।”

রবিবার নিউজিল্যান্ডের শেষ গ্রুপ ম্যাচ সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে, একই দিনে ফিলিপিন্স মুখোমুখি হবে নরওয়ের। নিউজিল্যান্ডের চেক কোচ জিটকা ক্লিমকোভা বলেন, “দলের সবার জন্য এই হার খুবই হৃদয়বিদারক। আমরা জেতার জন্য খেলেছি এবং ফল আমাদের পক্ষে যায়নি। আমরা শেষ পর্যন্ত লড়াই করেছিলাম, কিন্তু তা যথেষ্ট ছিল না।”

ওয়েলিংটনে খেলা শুরুর আগে, ফিলিপিন্সের কোচ অ্যালেন স্ট্যাজসিক বলেছিলেন যে তাঁরা নরওয়ের বিরুদ্ধে ১-০ ব্যবধানে জয়লাভের পর যে নিউজিল্যান্ডের পার্টির আবহ ভেঙে দিতে চেয়েছিলেন। বিশ্বকাপের অভিষেক ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের কাছে ০-২ গোলে হার দিয়েই শুরু করেছিল ফিলিপিন্স।

নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচের ২৪ মিনিটে তাদেরই ঘরের দর্শকদের অবাক করে একমাত্র গোলটি করে ফিলিপিন্স। নিউজিল্যান্ড ফ্রি-কিক পাইয়ে দিয়েছিল ফিলিপিন্সকে। বোল্ডেন হোম ডিফেন্স থেকে ঝাঁপিয়ে পড়েন হেড করার জন্য। নিউজিল্যান্ড গোলরক্ষক ভিক্টোরিয়া এসনের সঙ্গে মুখোমুখি অবস্থাতেই তিনি হেড করেন, প্যারি তার উপর দিয়ে জালে বল জরিয়ে দেন।

সুইজারল্যান্ডের কাছে তাদের প্রথম হারের পর এটিই ছিল তাঁদের সেরা পারফর্মেন্স। বিশ্বে ৪৬তম স্থানে থাকা নিউজিল্যান্ডের থেকে ২০ ধাপ নিচে রয়েছে ফিলিপিন্স। এদিন নিউজিল্যান্ডের খেলায় আত্মবিশ্বাসের অভাব ছিল। যেভাবে তারা নরওয়ে ম্যাচ খেলেছিল সেই উচ্চতায় এদিনের ম্যাচ নিয়ে যেতে পারেনি।

বিরতিতে ম্যাচ ২-০ হতে পারত যদি ফিলিপিন্সের ফরোয়ার্ড ক্যাটরিনা গুইলো হাফ টাইমের হুইসেলের ঠিক আগে যদি মিস না করতেন। এছাড়াও দ্বিতীয়ার্ধে বেশ কয়েকটি হাফচান্সও পায় তারা। এক কথায় দিনটি কোনওভাবেই নিউজিল্য়ান্ডের ছিল না। বরং অনেকবেশি পরিমাণে ফিলিপিন্সের ছিল।

নিউজিল্যান্ড যে একদমই সুযোগ পায়নি তেমন নয়। দ্বিতীয়ার্ধে হানা উইলকিনসন হেডারটি বারের উপর দিয়ে উড়ে যায়। সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেন তিনি। তাঁর ফরোয়ার্ড সঙ্গি জ্যাকি হ্যান্ড পোস্টের বিপরীতে তাঁর অল্পের জন্য বাইরে যায়। ম্যাচ শেষের ২০ মিনিট আগে একটি গোল বাতিলও হয়। প্রাথমিকভাবে বোঝা না গেলেও রিপ্লে দেখে নিশ্চিত হওয়া যায় যে বিল্ডআপের সময় বল লাইনের বাইরে চলে গিয়েছিল।

শেষ মুহূর্তে নিউজিল্যান্ড আরও একবার ফিলিপিন্সের গোলের খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছিল। যে কোনও সময় সমতায় ফিরতে পারত তারা। কিন্তু ফিলিপিন্সের নিচ্ছিদ্র রক্ষণে তা আটকে যায়। এক কথায় এই দিন ফিলিপিন্সের ফুটবল ইতিহাসে সারাজীবন জ্বলজ্বল করবে।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *