Cart Total Items (0)

Cart

All Sports

অলস্পোর্ট ডেস্ক: দু’বারের অলিম্পিক পদকজয়ী মানু ভাকের আবারও প্রমাণ করলেন যে, তাঁর মানসিক স্থিরতা বা ধীরস্থির স্বভাব কেবল শুটিং রেঞ্জের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত। তবে, ভাকের তাঁর এই মার্জিত আচরণের জন্য যখন প্রশংসায় ভাসছেন, ঠিক তখনই ইন্টারনেট জুড়ে তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়েছেন এক সাংবাদিক। অলিম্পিক শ্রেষ্ঠত্ব উদযাপনের উদ্দেশ্যে আয়োজিত একটি মঞ্চে দাঁড়িয়ে ওই সাংবাদিক একজন শুটারকে নিয়ে প্রশ্ন না করে, এক কিশোর ক্রিকেট বিস্ময়কে নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন।

ঘটনাটি ঘটেছিল নয়াদিল্লিতে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে, যা ‘ন্যাশনাল রাইফেল অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া’-এর ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে ভারতের শুটিং জগতের সব সেরারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটির মূল উদ্দেশ্য ছিল এই খেলার সমৃদ্ধ ইতিহাসকে সম্মান জানানো—যার অন্তর্ভুক্ত ছিল প্যারিস ২০২৪ অলিম্পিকে ভাকেরের জেতা সেই ঐতিহাসিক দু’টি পদকের সাফল্যও।

অনুষ্ঠানের পরিবেশ হঠাৎ করেই বদলে গেল যখন এক সাংবাদিক দিনের মূল প্রসঙ্গ থেকে সরে গিয়ে ভাকেরকে প্রশ্ন করলেন—১৫ বছর বয়সী ক্রিকেটার বৈভব সূর্যবংশী সম্পর্কে তাঁর মতামত কী? উল্লেখ্য, এই বৈভব সূর্যবংশী সম্প্রতি আইপিএল-এ ঝড় তুলেছেন। সূর্যবংশী সম্প্রতি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ১০০০ রান পূর্ণ করা সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে রেকর্ড গড়েছেন এবং অভিষেকের পর থেকেই তিনি সংবাদমাধ্যমের চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন।

এই প্রশ্নটি ক্রীড়াপ্রেমী এবং সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মোটেও ভালো লাগেনি; তাঁরা দ্রুত ‘এক্স’ এবং ইনস্টাগ্রামে গিয়ে ওই সাংবাদিকের আচরণের তীব্র সমালোচনা শুরু করেন। নেটিজেনদের মূল অভিযোগ ছিল ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সেই চিরাচরিত “ক্রিকেট-কেন্দ্রিক” পক্ষপাতিত্ব নিয়ে—যা অলিম্পিয়ানদের সম্মান জানানোর জন্য বিশেষভাবে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানেও স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল।

‘‘বন্ধুরা, তিনি একজন অলিম্পিক পদকজয়ী। তাঁকে বৈভব সূর্যবংশী সম্পর্কে তাঁর মতামত জানতে চাওয়াটা তাঁর অর্জন এবং তাঁর খেলার প্রতি চরম অসম্মানজনক। এমনিতে তো ক্রিকেটই এই দেশের মানুষের প্রধান আবেগ। আপনাদের ক্রীড়া সম্পাদকদের সূর্যবংশীকে নিয়ে খবরের শিরোনাম বানানোর জন্য আর কোনও সেলিব্রিটির উদ্ধৃতির প্রয়োজন নেই। বরং, পরের বার বৈভব সূর্যবংশীকে মানু ভাকের সম্পর্কে প্রশ্ন করে দেখুন—তখন তিনি আপনাদের দিকে কেমন দৃষ্টিতে তাকান!’’—’এক্স’ প্ল্যাটফর্মে এভাবেই নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশিষ্ট ক্রীড়া ভাষ্যকার জয় ভট্টাচার্য।

‘‘মানুষ কেন তাঁকে একজন ক্রিকেটারের ব্যাপারে প্রশ্ন করছে? তাঁর জেতা দু’টি অলিম্পিক পদকের মূল্য পুরো আইপিএল-এর চেয়েও অনেক বেশি,’’—লিখেছেন আরেক ব্যবহারকারী।

প্রসঙ্গ পরিবর্তনের এই আকস্মিক ও বেমানান পরিস্থিতির মুখেও, ভাকের অত্যন্ত ধীরস্থির ও অবিচল চিত্তে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছেন—ঠিক সেই একই মানসিক দৃঢ়তা দিয়ে, যা তাঁকে প্যারিস অলিম্পিকে দু’টি ব্রোঞ্জ পদক জিতিয়েছিল। প্রশ্নটি এড়িয়ে যাওয়া কিংবা বিরক্তি প্রকাশ করার পরিবর্তে, তিনি একজন তরুণ বিস্ময়-প্রতিভা হিসেবে বেড়ে ওঠার পথে যেসব মানসিক চাপের মুখোমুখি হতে হয়, সে সম্পর্কে একটি অত্যন্ত পরিণত ও চিন্তাশীল উত্তর দিয়েছেন। ‘‘আমি বলব, যদি তার সঠিক মেন্টরশিপ থাকে, তার চারপাশের পরিবেশ ও সঙ্গ ভালো হয়, এবং তার আশেপাশের মানুষগুলোও ভালো হন—তবে বয়সটা কেবলই একটা সংখ্যা মাত্র। আর প্রতিভার কোনও বয়স হয় না। অসাধারণ সব কীর্তি ৬০ বছর বয়সেও যেমন ঘটে, তেমনি ৬ বছর বয়সেও ঘটতে পারে। তাই তার চারপাশের মানুষজন যদি তাকে সঠিকভাবে দিকনির্দেশনা দেন এবং যথাযথভাবে পথ দেখান, তবে আমি নিশ্চিত যে সে-ই হবে পরবর্তী বড় তারকা,’’ তিনি বললেন।

এই বিতর্কটি ভারতের ক্রীড়াঙ্গনে দীর্ঘদিনের চলে আসা একটি আলোচনার পালে নতুন করে হাওয়া দিয়েছে—আর তা হল ‘ক্রিকেটের ছায়া’ বা ক্রিকেটের একচ্ছত্র আধিপত্যের বিষয়টি। যদিও ভারত সরকার এবং বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা অলিম্পিক ক্রীড়াগুলোর জন্য অর্থায়ন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করেছে, তবুও সমালোচকদের মতে, গণমাধ্যমের মনোযোগের সিংহভাগই এখনও অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে কেবল ক্রিকেটারদের ওপরই নিবদ্ধ থাকে। তবে এটাও ঠিক, মানুষ যেটায় আকর্ষণ অনুভব করেন সংবাদ মাধ্যমকে তার উপরই বেশি ফোকাস করতে হয়। আর একজন ক্রীড়াবিদের অন্য একজন ক্রীড়াবিদের প্রতি সম্মানটাও এখানে উঠে এসেছে।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *