Cart Total Items (0)

Cart

All Sports
আন্তর্জাতিক দাবা দিবস

সুচরিতা সেন চৌধুরী: সুদূর চক্রধরপুর থেকে বিশ্ব দাবার আসরে পৌঁছে যাওয়াটা যে সহজ ছিল না সেটা স্বাভাবিক। কিন্তু দীপ সেনগুপ্ত নিভৃতে বেড়ে উঠছিলেন ঝাড়খণ্ডের সেই গ্রামে। যেখানে চাইলেই হাতের মুঠোয় পাওয়া যায় না সব সুবিধা। কিন্তু কথায় আছে, প্রতিভাকে চেপে রাখা যায় না। তাই কোনও প্রতিবন্ধকতাই দীপের চলার পথে অন্ধকার নামিয়ে আনতে পারেনি। বরং দীপ বার বার জ্বলে উঠেছে। আর নিজেকে প্রমাণ করেছে। সেই দীর্ঘ সফরের কথাই উঠে এল তাঁর সঙ্গে আড্ডায়। পরবর্তী প্রজন্মকে এই কথোপকথন যে উৎসাহিত করবে তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

প্র: শুরু কী ভাবে?

১৯৯১ সাল। আমার বয়স তখন তিন সাড়ে তিন বছর হবে। তখন দেখতাম, বাড়িতে বাবা আর কাকা দাবা খেলতেন। সেটা দেখতে দেখতে আমি চালগুলো বুঝে গিয়েছিলাম। তখন একটা অদ্ভুত ঘটনা ঘটল। সেই সময় দিব্যেন্দু কাকু (বড়ুয়া) অলিম্পিয়াডে খুব ভাল খেলেছিলেন। তখন ওঁকে চক্রধরপুরে একটি সাইমালটেনিয়াস ম্যাচের জন্য ডাকা হয়। সেই সময় যখন উনি খেলছিলেন, বাবা আমাকে নিয়ে গিয়েছিল দেখার জন্য। তখন দিব্যেন্দু বড়ুয়া একটা বড় নাম। সেই সময় আমি এক জনকে তাঁর চাল বলে দিয়েছিলাম সে কোনটা খেলবে। সেটা আয়োজকদের এক জন জেনে ফেলেন। তার পর তিনি বাবাকে বলেন, আমাকে দাবা শেখানোর কথা।

প্র: তার পরেই কি শেখার শুরু?

হ্যাঁ তার পরেই আমি দাবা শেখা শুরু করি। অনেক বছর চক্রধরপুর থেকে কলকাতায় আসতাম দাবা শিখতে। সাঁতরাগাছিতে আরসি চট্টোপাধ্যায় থাকেন। তাঁর কাছে শিখতাম। সে দিন যখন চালটা বলেছিলাম, তখন কী ভেবে বলেছিলাম, জানি না। পরে বাবা বলেছিলেন, আমি যেটা বলেছিলাম সেটা অনেক ভাল ছিল। এ ভাবেই সবটা এগিয়ে গেল। সাঁতরাগাছিতে মাসে এক বার করে মা নিয়ে আসত দাদা আর আমেক। টানা ৭ থেকে ১০ দিন থাকতাম বেহালায় পিসির বাড়ি বা মুকুন্দপুরের মামাবাড়িতে। আবার ফিরে যেতাম। কলকাতায় পাকাপাকি ভাবে আসা ২০০৬-এ, যখন কলেজে ভর্তি হই।

প্র: চক্রধরপুরের মতো জায়গা থেকে দাবা খেলে সাফল্য পাওয়াটা তো সহজ ছিল না, কী ভাবে সম্ভব হল?

কঠিন ছিল। শুরুতে যদিও সমস্যা ছিল না। দাবাকে যে এতটা সিরিয়াসলি নেব তখনও সেটা ভাবিনি আমরা। কিন্তু ১৯৯৫, ১৯৯৬-এ যে জাতীয় স্তরের খেলাগুলো হল, সেখানে ভাল খেললাম, চ্যাম্পিয়ন হলাম— তার পরেই বাবা ঠিক করল, আমাকে দাবাটা আরও ভাল মতো শেখানোর। সেই সময় স্থানীয় যাঁরা ছিলেন, তাঁদের সঙ্গে অনুশীলন করতাম। নীরজ মিশ্র, শান্তনুদার কাছে শিখেছি। যখন যিনি সময় পেতেন তাঁর কাছে গিয়ে শিখতাম। কোনও নির্দিষ্ট ট্রেনার বা স্কুল ছিল না। কঠিন ছিল, কিন্তু হয়ে গিয়েছে।

প্র: দাবাকে পেশাদারিত্বের জায়গায় নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত কবে নিলে‌ন?

আমার জীবনের টার্নিং পয়েন্ট ছিল যে বার আমি অনূর্ধ্ব-১২ বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হলাম। সেটা ২০০০ সাল। তার আগে পর্যন্ত আমি ন্যাশনালে চ্যাম্পিয়ন হয়েছি, দ্বিতীয়, তৃতীয় তো হয়েইছি। তখনও এত গভীর ভাবে ভাবিনি। এটা পেশা হতে পারে সেটাই মনে করিনি। কিন্তু স্পেনে গিয়ে যখন চ্যাম্পিয়ন হলাম, সেটা একদম আলাদা অভিজ্ঞতা ছিল। বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়াটা কঠিন ছিল তখন। আমার আগে খুব বেশি হলে ভারত থেকে তিন-চার জনই হয়েছিলেন। আর এই জয়টাই আমার জন্য একটা বড় প্রেরণা ছিল। দেশে ফিরে যখন বুঝলাম, সত্যিই এটা অনেক বড় সাফল্য, তখনই সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলাম, এটাকে নিয়েই এগিয়ে যাব।

প্র: অনূর্ধ্ব-১২ থেকে গ্র্যান্ডমাস্টার— একটা দীর্ঘ যাত্রা। লড়াই কতটা ছিল? কী ভাবে এগোলেন?

কঠিন ছিল। চক্রধরপুরের মতো জায়গা থেকে এখানে পৌঁছনো! ২০০০ সালে যখন চ্যাম্পিয়ন হই, তখন সব থেকে সমস্যা দেখা দিল কম্পিউটার না থাকা। কোনও কিছুর রেকর্ড ছিল না গেমের। আমি কিছুই না জেনে খেলতে যেতাম। যা মনে হত, খেলে চলে আসতাম। কোনও প্রস্তুতি ছিল না। ছোটবেলার খেলা শেখাটার উপর ভরসা করেই নামতাম। সেই সময় ধারণাই ছিল না কোনও। জিতে ভাবতাম, প্রতিপক্ষকে চমকে দিয়েছি। পরে দেখলাম, ওই সব থিওরি, সবাই সব কিছু জানে। তবে আমি না-জেনে জানাদের হারিয়েছিলাম। তথ্য পেতাম না।

প্র: এই সমস্যা থেকে কবে বেরিয়ে এলেন?

আসলে সেই সময় ধীরে ধীরে দেশে টুর্নামেন্টের সংখ্যা বাড়তে থাকল। জাতীয়, আন্তর্জাতিক স্তরে অনেক বেশি করে টুর্নামেন্ট খেলতে শুরু করলাম। আইএম নর্ম পেলাম। দুটো নর্ম হল। তৃতীয় নর্মটা পেলাম ওয়ার্ল্ড জুনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপ খেলতে গিয়ে। সেই সময় চক্রধরপুরে রেলের এক অফিসার আমাকে তাঁর ল্যাপটপটা দিয়েছিলেন ব্যবহারের জন্য। সেই প্রথম আমার ল্যাপটপে অনুশীলন। এখানেই শেষ নয়। সেই ল্যাপটপ নিয়ে ওয়ার্ল্ড জুনিয়রে গেলাম। কিন্তু প্রথম দিনই সেটা খারাপ হয়ে গেল। এ রকম ইস্যুগুলো ঘুরে ফিরে আসত। তার মধ্যেই প্রতিপক্ষকে নতুন নতুন চালে মাত দিতাম। আর সেখানেই আমি শুধু আইএম নয়, প্রথম গ্র্যান্ডমাস্টার নর্মও পেলাম।

প্র: ২০০৫-এ আইএম হওয়ার পর জিএম হতে অনেকটা সময় লেগে গেল, কেন?

একদম তাই। ২০০৫-এ আইএম হয়ে যাওয়ার পর গ্র্যান্ডমাস্টার হওয়ার জন্য আমার আরও ভাল ট্রেনিং দরকার ছিল। যেটা চক্রধরপুরে সম্ভব ছিল না। ২০০৮-এ যখন জুনিয়র ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়ন হলাম, তার পর ‘স্পোর্টস অথরিটি অব ইন্ডিয়া’ থেকে একটা স্কলারশিপ পেলাম। সেই সময় আমি পোল্যান্ড গিয়ে ট্রেনিং করি। সেটা একটা বড় প্রাপ্তি ছিল আমার। তার পর এখানে দিব্যেন্দুকাকুর অ্যাকাডেমিতে সূর্যদার (গঙ্গোপাধ্যায়) ক্লাসগুলো পেতাম। যেটা আমাকে অনেক সাহায্য করেছে। ২০১০-এ ফাইনাল গ্র্যান্ডমাস্টার নর্ম পেলাম।

প্র: সূর্যশেখর, রাজ্যের দ্বিতীয় গ্র্যান্ডমাস্টার দিব্যেন্দু বড়ুয়ার পর তিনিই। তাঁর কতটা প্রভাব আপনার উপর পড়েছিল?

সূর্যদার কাছে যখন থেকে আমি ট্রেনিং শুরু করি তখন থেকেই ভাবনা-চিন্তার জগৎটাই বদলে যায়। এত জ্ঞান রয়েছে, আর এত কিছু উনি জানেন যে, যখন কথা বলেন, তখন মনে শুধু শুনেই যাই। যত বার আমি তাঁর কাছে শিখেছি, আমার জ্ঞান বেড়েছে। আমার শেষ গ্র্যান্ডমাস্টার নর্মের ক্ষেত্রে একটা মজার ব্যাপার ঘটেছিল। বহু বার শেষ নর্মের ক্ষেত্রে শেষ মুহূর্তে গিয়ে আটকে গিয়েছি। আমার আত্মবিশ্বাসটা নষ্ট হয়ে গিয়েছে। ফাইনাল নর্মের জন্য এক বার ফ্রান্সে গিয়েছি। আমার সামনে ২৬০০ রেটিংয়ের প্লেয়ার। সেই ম্যাচ আমি জিতলে বা ড্র করলেই হয়ে যাবে। কিন্তু তখন আমার মাথায় আগের পাঁচ বার না-পারার ভয়টা চেপে বসেছে। সেই সময় আমার এক বন্ধু সূর্যদার সঙ্গে কথা বলিয়ে দেয়। সেই সময় সূর্যদা জানতে চান, আমার প্রতিপক্ষ সম্পর্কে। আমি বলি। সেটা শুনে সূর্যদা বলেন, ‘‘ও এই প্লেয়ার, ওকে বলবি আমার সঙ্গে খেলতে। আমি ওকে ১০-০-তে হারিয়ে দেব।’’ এটা শুনে অদ্ভুত একটা আত্মবিশ্বাস কাজ করল। মনে হল, উনি যদি ১০-০ পারেন, আমি অন্তত ৫-০ পারব। শেষ পর্যন্ত ড্র করে নর্মটা পেলাম। এখনও কোনও সমস্যায় পড়লে সূর্যদার কাছেই যাই।

প্র: পড়াশোনায় ভাল হলে বাড়ি থেকে সব সময়ই একটা চাপ থাকে এডুকেশন নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার। তেমন কিছু ছিল?

আমি যখন ক্লাস টেন পাশ করেছিলাম, তখন আমার খুব ইচ্ছে ছিল সায়েন্স নিয়ে পড়ার। কিন্তু বাবা পরিষ্কার বলে দিয়েছিলেন, সেটা করলে দাবা খেলা সম্ভব হবে না। তাই কমার্স নিয়ে পড়তে হল। ১২ ক্লাসের ফল যেটা হয়েছিল, সেটা কল্পনাও করিনি। হঠাৎ বাড়িতে সাংবাদিকেরা এসে হাজির। আত্মীয়স্বজনেরা শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। আমি তখনও রেজাল্ট জানি না। জানার উপায়ও ছিল না, কারণ ওখানে একটাই কম্পিউটার সেন্টার ছিল, যেখানে গিয়ে দেখতে হত। তা-ও বেশির ভাগ সময়েই কাজ করত না। পর দিন সকালে আমি রেজাল্ট দেখি। তখনও বুঝিনি। আমার এক স্যর ফোন করে বললেন, আমি এত নম্বর পেয়েছি যেটা ওখানে কেউ কোনও দিনও পায়নি। পরে দেখলাম। রাজ্যে তৃতীয় হয়েছি। এক নম্বরের জন্য দ্বিতীয় হইনি। আমাকে বাড়ি থেকে এই নিয়ে কোনও দিন চাপ দেওয়া হয়নি। বরং দাবা নিয়েই এগোতে বলেছিল। তবে, যখন মুখ্যমন্ত্রী রাঁচীতে সংবর্ধনা দিলেন, তখন এক বার আমার নিজের মনে হয়েছিল পড়াশোনার লাইনেও এগোতে পারি। কিন্তু পর ক্ষণেই ভেবে নিই যে, দাবাটাই আমার জন্য সেরা চয়েস।

প্র: এই মুহূর্তে আপনার রেটিং ২৪০০-র ঘরে। লক্ষ্য একটা থাকেই, ২৬০০ ছাপিয়ে যাওয়ার। আপনি কী লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছেন?

আমার লক্ষ্যই ছিল ২৬০০ প্লাস রাখব। কিন্তু কোভিড হয়ে গেল। সেই সময় বড় একটা গ্যাপ হয়ে গেল। তখন অনেকটা রেটিং কমে গেল। আর তার পর যেটা হল, প্রাক্‌ কোভিড আর কোভিড পরবর্তী সময়ের মধ্যে একটা বড় পার্থক্য হয়ে গেল। গত কয়েক বছরে তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে। সেটার সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে আবার শুরু করতে কিছুটা সমস্যা হয়েছে। তবে আশা রাখছি। সবটা মানিয়ে নিয়ে আমি আবার লক্ষ্যে পৌঁছতে পারব।

প্র: কোভিড দাবার দুনিয়াটাকেই বদলে দিয়েছে। ঠিক কী কী পরিবর্তন এসেছে?

কোভিডের সময় বেশির ভাগ প্লেয়ার যেটা করেছে, অনলাইনে প্রচুর গেমস খেলেছে যা কিছুই বোর্ডে খেলেনি। অনলাইন খেলতে গিয়ে বা অনুশীলন করতে গিয়ে যা ভুল হচ্ছে, সেটা সেখানেই শুধরে নিচ্ছে। এই করে করে দারুণ অনুশীলন করেছে এবং নিজেকে প্রস্তুত করেছে। যার ফলে দ্রুত রেটিং বাড়িয়ে নিয়েছে। হঠাৎ যখন দু’বছর পর খেলছে, তখন সেটা কাজে লাগছে। যেমন ডি গুকেশ। আমিও ওঁর সঙ্গে খেলেছি। বুঝতেই পারিনি উনি এতটা বেগ দেবেন। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটা ড্র হয়। সেটা ২০২০-র ফেব্রুয়ারিতে ওঁর রেটিং ২৪০০-এর ঘরে। যখন ২০২১-এর ডিসেম্বর গুকেশ তখন ২৫০০ আর ২০২২-এ ও ২৬০০-র ঘরে। বিশাল একটা লাফ। এটাই হয়েছে এই সময়।

প্র: এর জন্য কি ক্লাসিক্যাল চেসের আগ্রহ কমে যাচ্ছে?

ক্লাসিক্যাল চেসের আগ্রহ কমছে না, কমছে দীর্ঘ খেলার আগ্রহ। এখন অনেক টুর্নামেন্ট র্যা পিড ফরম্যাটে চলে গিয়েছে। তো আমার মনে হয় ধীরে ধীরে সেটাই হবে। আমি র্যা পিড খেলতেই ভালবাসি কিন্তু আমি ভাল খেলি ক্লাসিক্যাল চেস।

প্র: আপনার পরবর্তী লক্ষ্য কী?

আমার এখন লক্ষ্য ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়ন হওয়া। আমি জুনিয়র, সাব-জুনিয়র সবেতেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। শুধু সিনিয়রে হইনি। দ্বিতীয়, তৃতীয় হয়েছি। কিন্তু অল্প কিছু পয়েন্টের জন্য বার বার হাতছাড়া হয়েছে। এ বার সেটাই চাই। এখন অত সহজও হবে না। কারণ প্রতিযোগিতার জায়গাটা অনেক বেড়ে গিয়েছে। বর্তমান প্রজন্মের প্লেয়াররা সবাই খুব ভাল জায়গায় রয়েছে। অনেকেরই রেটিং ২৬০০-র ঘরে। আমার জন্য সহজ হবে না।

প্র: আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কোনও বিশেষ টুর্নামেন্ট বা বিশেষ কাউকে হারানোর লক্ষ্য রয়েছে?

সব সময়েই থাকে। ওই পর্যায়ে গিয়ে খেলা, আর ভাল ফল করা। যেমন আমার অনেক দিনের ইচ্ছে, অনীশ গিরির সঙ্গে খেলা। আশা করি কখনও ওঁকে হারাতে পারব।

প্র: আপনার জীবনের কঠিন ম্যাচ বা সেরা ম্যাচ যদি বাছতে বলি তা হলে কোনগুলো থাকবে সেই তালিকায়?

কলকাতায় গোর্কি সদনে খেলা হয়েছিল কলকাতা ওপেন। পোল্যান্ডেরর ওয়েটাজেট বলে এক জন প্লেয়ার ছিলেন। ওঁর সঙ্গে জিতে দারুণ লেগেছিল। ওঁকে খুব চাপে রেখেছি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমি জিতি। দারুণ অভিজ্ঞতা।

প্র: গ্র্যান্ডমাস্টার হওয়ার পর সবার ক্ষেত্রেই দেখছি কোচিং একটা বড় সমস্যা। আপনি কি সেই সমস্যার মুখে পড়েছেন?

একদম পড়েছি। আমি গ্র্যান্ডমাস্টার হয়েছি ২০১০-এ। তার পর যদি সঠিক কোচিং পেতাম এত দিনে ২৬৫০ হয়ে যেতে পারতাম। আমি লাইভ রেটিংয়ে গিয়েছি ২৬০০-তে। কিন্তু ধরে রাখতে পারিনি। একটা পর্যায়ে পৌঁছনোর পর যে কোচিংটার প্রয়োজন হয়, সেটা পেলে দ্রুত উন্নতি করা যায়। নিজে থেকে করতে হলে সেটা খুব মন্থর হয়ে যায়। এটা ঠিক সময়ে পেলে বিষয়টাই আলাদা হবে।

প্র: কোচিং কি খেলার ক্ষতি করে?

এটা পুরোটাই নির্ভর করে কাকে কোচিং করাচ্ছে‌ন। যদি ছাত্র ভাল হয়, তা হলে যিনি কোচিং করাচ্ছেন তাঁরও লাভ হয়। তাঁরও খেলার উন্নতি হয়। যেমন নিহালকে শেখাচ্ছেন এন শ্রীনাথ। আমার মনে হয় নিহালকে শেখানোর পর শ্রীনাথের গেমের অনেক উন্নতি হয়েছে। উনি নিজেও এক জন গ্র্যান্ডমাস্টার। তাই আমার বিশ্বাস, ছাত্র ভাল হলে শিক্ষকেরও উন্নতি হয়।

প্র: অন্য রাজ্যের সঙ্গে বাংলার একটা বড় পার্থক্য হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে তামিলনাড়ু। এটা কি প্রতিভার পার্থক্য?

পার্থক্য রয়েছে। তবে অতটাও নয়। যেটা আলাদা করে দিচ্ছে দুটো রাজ্যকে, সেটা মানসিকতা। তামিলনাড়ুতে দাবাকে বিখ্যাত করে দেওয়া হয়েছে। আমি দেখেছি, ওখানকার প্লেয়ারদের স্থানীয় স্পনসর রয়েছে। সকলের কোনও কোনও টেক কোম্পানির সঙ্গে টাই আপ রয়েছে। আইএম, জিএম সবার জন্য স্পনসর রয়েছে। বিদেশে খেলতে গেলে তাঁরা পুরো সাপোর্ট পাচ্ছেন। যেটা আমার মনে হয় না বাংলায় রয়েছে। কোচিং নিতে গেলেও বিপুল খরচ, যেটা স্পনসরশিপ ছাড়া সম্ভব নয়। আর এখানেই পার্থক্যটা হয়ে যাচ্ছে। এটা বদলাতে হবে।

ভারতে বড় ইভেন্টের স্বপ্ন দেখেন তিনি। বিদেশে টুর্নামেন্ট খেলতে যাওয়ার ক্ষমতা অনেক ভারতীয় প্রতিভার নেই। তাঁরাই দেশের মধ্যে হলে সেটা খেলতে পারবেন। আর নিজেকে প্রমাণ করতে পারবেন। ভারতীয় দাবার ভবিষ্যৎকে এগিয়ে যেতে দেখতে চান দীপ সেনগুপ্ত। শুধু চাই একটু সমর্থন। তা হলে বাকিদের মতো দৌড়বে বাংলাও। নিজে এখনও খেলা নিয়েই থাকতে চান। তবে ভবিষ্যতে নিজের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তৈরিও করতে চান পরবর্তী দীপদের। আর সেটাই হবে ভারতীয় দাবাকে দীপের উপহার।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *