Cart Total Items (0)

Cart

All Sports

অলস্পোর্ট ডেস্ক: সর্ব কনিষ্ঠ ফিডে রেটিং দাবাড়ু হিসেবে ইতিহাসে নাম লিখিয়ে ফেলল কলকাতার এই খুদে। দিব্যেন্দু বড়ুয়া অ্যাকাডেমির এই ছাত্রের বয়স সাড়ে তিন। আর এই বয়সেই সে বিশ্ব ফিডে রেটিংয়ে জায়গা করে নিল। গত মে মাসে কলকাতায় আয়োজিত চেস ফর ইউথে সবার নজর কেড়ে নিয়েছিল এই খুদে অনীশ সরকার। তখনই তাঁকে ‘দাবার ওয়ান্ডার বয়’ বয়ে চিহ্নিত করেছিলেন গ্র্যান্ডমাস্টার দিব্যেন্দু বড়ুয়া। মাত্র পাঁচ মাসেই সেই কথা সত্যি প্রমানিত করে দিল অনীশ।

বাংলার তথা ভারতের দ্বিতীয় গ্র্যান্ডমাস্টার দিব্যেন্দু বড়ুয়া তাঁর সর্ব কনিষ্ঠ ছাত্রের এই সাফল্যে রীতিমতো গর্বিত। নিজেই সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে সে কথা জানান তিনি। সঙ্গে তিনি অনীশকে শুভেচ্ছা জানিয়ে লেখেন, ‘‘আশা করব ওর পা মাটিতেই থাকবে এবং নিজের স্বপ্নকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দিকে মনোনিবেশ করবে। ওর এই যাত্রায় আমরা সব সময় ওর পাশে থাকব।’’

অনীশ যখন ফিডে রেটিংয়ে নিজের নাম খোদাই করে ফেললেন তখন তাঁর বয়স ৩ বছর ৮ মাস ১৯ দিন। চেস ফর ইউথের আসরে অনীশ দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন বাংলার দুই গ্র্যান্ডমাস্টার সূর্যশেখর গঙ্গোপাধ্যায় ও নীলোৎপল দাস। ওর সঙ্গে তিন তারকা দাবাড়ুকে খেলতেও দেখা যায়। অনীশের অবশ্য সে সব দিকে কোনও ভ্রুক্ষেপ ছিল না। বরং সে ডুবে ছিল দাবার বোর্ডে। কখনও কালো ঘুঁটি তো কখনও সাদা ঘুঁটি নিয়ে খেলে যাচ্ছিল। টেবলের অপর প্রান্ত থেকে শুধু তার মাথাটুকু কোনওক্রমে দেখা যাচ্ছিল।

সেই সময় অনীশের মা বলেছিলেন, ‘‘বাড়িতে যেমন সবাই দাবা খেলে তেমনই খেলতে গিয়ে দেখলাম ওর খুব আগ্রহ। তাই ভর্তি করে দিলাম অ্যাকাডেমিতে। ও উপভোগ করে খেলাটা।’’ তিন বছর বয়সে যখন অনীশকে অ্যাকাডেমিতে ভর্তি করা হয় তখনও সে ‘এ বি সি ডি’ শেখেনি। কিন্তু দাবার বোর্ডের উপর যা লেখা থাকত তা পড়ে ফেলতে পারত। এর পর একদিনে ‘এ থেকে এইচ’ পর্যন্ত মুখস্ত করে ফেলেছিল। তার পর ‘কে আর এস শিখে বলেছিল, ‘বাকিগুলো ইউসলেস’।

সেন্ট জেমস স্কুলের  নার্সারিতে পড়ে অনীশ। তখনও কথা পরিষ্কার নয়, প্রশ্নের উত্তরে নাম ছাড়া আর কিছুই বলার আগ্রহ নেই তার। তবে ওই ৬৪ ঘরের সামনে দাঁড়ালে একদম বদলে যায় অনীশ। সেই অনীশই আজকে ইতিহাস রচনা করল। গর্বিত করল বাংলা তথা ভারতকে।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *