Cart Total Items (0)

Cart

All Sports
কৌস্তভ চট্টোপাধ্যায়

সুচরিতা সেন চৌধুরী: দাবা অনেক কিছু দিয়েছে। দাবাই ভালবাসা। কিন্তু তাকে কেরিয়ার হিসেবে নিতে নারাজ কৌস্তভ চট্টোপাধ্যায় । তাই বেছে নিয়েছেন পড়াশোনাকেই। সঙ্গে চলবে দাবাও। উড়ে যাচ্ছেন বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে পরবর্তী পড়াশোনার জন্য। আপাতত চার বছরের বিদেশ-জীবন। তার পরেরটা এখনই ভাবতে চান না। দীর্ঘ আড্ডায় উঠে এল এমনই অনেক কথা…

প্রশ্ন: দাবার সঙ্গে পরিচয় কী ভাবে?

কৌস্তভ: খুব ছোটবেলায় বাবা আমাকে দাবার সঙ্গে পরিচয় করিয়েছিল। আমি সারা জীবন ইতিহাসের ভক্ত। যুদ্ধ নিয়ে জানতে খুব ভাল লাগে। দাবা খেলতে গিয়ে প্রথমে ঘুঁটিগুলো নিয়ে একটার সঙ্গে আর একটার যুদ্ধ করাতাম, ইমাজিন করতাম দুটো আর্মি ফাইট করছে। তখন বাবা আমাকে নিয়মগুলো শেখায়। সেটা শেখার পর দাবার যুদ্ধটাও ভাল লেগে গেল। প্রথম থেকে সাফল্যও পাওয়ায় দাবার ভক্ত হয়ে গেলাম।

প্রশ্ন: দাবা খেলার প্রেরণা আর আইডল কে?

কৌস্তভ: আমার মনে হয়, ম্যাগনাস কার্লসন সবারই আইডল। বিশেষ করে এই প্রজন্মের কাছে। বিশ্বনাথন আনন্দ ছোটবেলায় আইডল ছিলেন। কিন্তু যত বড় হয়েছি, তাঁর অবসরের সময় চলে এসেছে। তার পর থেকে ম্যাগনাস কার্লসনই। যাঁকেই জিজ্ঞেস করবেন, সেই দেখবেন কার্লসন বলবেন। আমাদের প্রজন্মের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। তার পর যদি বাংলার কথা বলেন, তা হলে সেটা দীপ্তায়নদা (ঘোষ)। বর্তমান প্রজন্মের সবার খেলার ধরন দীপ্তায়নদার উপর বেস করেই তৈরি হয়েছে। সে দিক থেকে দেখতে গেলে ম্যাগনাস কার্লসন আর দীপ্তায়নদা।

প্রশ্ন: দীপ্তায়নকে কখনও হারিয়েছেন?

কৌস্তভ: কখনও না। কিন্তু দীপ্তায়নদার সঙ্গে সব সময়েই খেলাটা উপভোগ করেছি। সেই সময় যখন ওর রেটিং ২৫০০-র উপরে। তখন ড্র করাও ছিল জয়ের মতো। এখনও জিতিনি।

প্রশ্ন: দাবাকে পেশা হিসেবে নেওয়ার ইচ্ছে আছে? কারণ আপনি তো এখন পুরোপুরি পড়াশোনায় মনোনিবেশ করতে চাইছেন?

কৌস্তভ: একটা সময় পর্যন্ত ভেবেছিলাম দাবাকে নিয়েই এগিয়ে যাব। কিন্তু কোভিডের সময় সেটা বড় ধাক্কা খায়।  টুর্নামেন্ট বন্ধ হয়ে যায়। তবে এখন অনলাইন দাবা খেলে অনেকেই সাফল্য পাচ্ছে। ভাল রোজগার করছে। তবে আমার মনে একটা ভয় হয়ে গিয়েছিল, আবার যদি কোভিডের মতো পরিস্থিতি আসে তখন কী হবে? দাবা সারা জীবন থাকবে, কিন্তু পড়াশোনা নয়। তাই আপাতত পড়াশোনাকেই বেশি গুরুত্ব দিতে চাইছি। সঙ্গে দাবাও চলবে।

প্রশ্ন: শুনলাম আপাতত দেশ ছেড়ে বিদেশে পাড়ি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, কেন?

কৌস্তভ: আমাকে আমেরিকার ডালাসের ‘ইউনিভার্সিটি অফ টেক্সাস’ থেকে ডাকা হয়েছিল গত বছর। চেজ প্রোগ্রামের জন্যই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। দাবা খেলার পাশাপাশি ওখানে আমি পড়াশোনাটাও চালিয়ে যেতে পারব। আর পুরোটাই ওদের খরচে। ওরাই পুরোটা স্পনসর করবে। সঙ্গে আমাকে বিভিন্ন জায়গায় দাবা টুর্নামেন্ট খেলতে পাঠাবে। আপাতত চার বছরের কোর্স। তবে মা-কে একা রেখে যাব, খুব মিস করব। কিন্তু আমি এই অফারটা মিস করে ভবিষ্যতে আফসোস করতে চাই না। চার বছর পড়াশোনাটা করে নিয়ে তার পর ভাবব, কী করব।

প্রশ্ন: ইউরোপ থেকে সদ্য তিনটি টুর্নামেন্ট খেলে ফিরেছেন শহরে, কেমন ছিল সেই অভিজ্ঞতা?

কৌস্তভ: এ বার দাবা খেলার পাশাপাশি লক্ষ্য ছিল বেড়ানো। দাবার অংশটা ভালই ছিল, সব টুর্নামেন্ট থেকেই রেটিং বেড়েছে। আমার শেষ জিএম নর্ম ওখানেই হয়েছে। ২৭০০ জিএম-এর সঙ্গে ড্র করেছি। যাঁর নাম হান্স নেম্যান। তিনি বিখ্যাত হয়েছেন কার্লসন ম্যাগনাসকে হারানোর জন্য। গুকেশের সঙ্গে খেলেছি, যদিও হেরেছি। তবে ওর সঙ্গে অনেক ক্ষণ খেলেছি। অনেক ২৫০০-২৬০০ জিএম-এর সঙ্গে খেলেছি। পাশাপাশি দারুণ বেড়ানো হয়েছে স্পেন, ফ্রান্স আর নরওয়ে।

প্রশ্ন: আমাদের দেশে বা রাজ্যে দাবায় একটা পর্যায়ে চলে যাওয়ার পর কোচিংয়ের একটা অভাব দেখা যায়, সেটা কতটা সমস্যার?

কৌস্তভ: আমি ব্যক্তিগত ভাবে কোচিংটাকে খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করি না। কারণ, আজকাল অনলাইনে প্রচুর তথ্য পাওয়া যায়। তা ছাড়া বড় বড় দাবা প্লেয়ারদের লেখা বই রয়েছে। এখন তো ম্যাগনাসও অনলাইনে দাবা শেখা‌ন। আমার মতে, কোচিংয়ের খুব একটা গুরুত্ব নেই। ইচ্ছে থাকলে খুব সহজেই এগিয়ে যাওয়া যায়।

প্রশ্ন: তবুও দাবা খুব খরচসাপেক্ষ একটা খেলা?

কৌস্তভ: দাবা সত্যিই খুব খরচ সাপেক্ষ। একটা পর্যায় পর্যন্ত সামান্য খরচেই চালানো যায়। কিন্তু যত উঁচুতে উঠবে, তত খরচ বাড়বে। কারণ, একটা সময়ের পর উন্নতি করতে হলে ইউরোপে গিয়েই খেলতে হবে। ভারতে খেললে, এত জুনিয়র প্লেয়ারদের সঙ্গে খেলতে হবে যে, বলার নয়। ২২০০-২৩০০ পর্যায়ে ভারতে প্রচুর জুনিয়ার প্লেয়ার রয়েছে। তাঁদের উন্নতি করতে হলে ইউরোপেই যেতে হবে। যেমন ধরুন, আমি ইউরোপে একটা টুর্নামেন্টে খেলতে গেলাম সেখানে আমার দেড় লাখ টাকা খরচ হল। এটা আমি বার বার যেতে পারব না। এমন টুর্নামেন্ট যদি দেশে হত বা এশিয়ার মধ্যে হত তা হলে অনেক কম খরচে সেরা টুর্নামেন্টগুলো খেলা যেত।

প্রশ্ন: পরবর্তী লক্ষ্য কী?

কৌস্তভ: আমেরিকায় গিয়ে পড়াশোনায় যতটা ভাল করা যায়, সেটা করব। দাবার দিক থেকে আমি ২৬০০ রেটিংয়ে পৌঁছতে চাই। এ বছর ওয়ার্ল্ড জুনিয়র খেলছি। আশা করছি, সেখানে সামনের সারিতেই থাকব। শেষ করার চেষ্টা করব সেরা পাঁচ বা তিনে। সেরা পাঁচটা প্র্যাকটিক্যাল, সেরা তিনে পৌঁছনো কঠিন। তবে চেষ্টা করব।

প্রশ্ন: আনন্দের পর অনেকে গ্র্যান্ডমাস্টার হলেও সেই পর্যায়ের কাউকে এখনও পেলাম না, কেন?

কৌস্তভ: তামিনলাড়ু, মহারাষ্ট্রের সাফল্যের পরিমাণ অনেক বেশি। ওদের অনেক ফান্ড বেশি। সেটা কিছুটা প্রভাব ফেলে। প্রজ্ঞানন্দ বা গুকেশ অন্য প্রতিভা। ওঁদের বাদ দিলে বাকি সব জায়গায় প্রতিভার কোনও পার্থক্য নেই। যেমন আমি, মিত্রাভ, আরণ্যক— ওদের মতোই সমান প্রতিভা। ওদের মতো আমরা বাইরে খেলার সুযোগ কম পাই। আর তাতেই আমাদের উত্থান থেমে যায়। মিত্রাভর উদাহরণ যদি দিই, ওকে এখন সাধারণ টুর্নামেন্ট খেলতে হবে। ভারতে খেলে খেলে এগোতে হচ্ছে। সে কারণে লক্ষ্যটা চলে যায়। গ্র্যান্ডমাস্টার হয়েই আত্মতুষ্ট হয়ে যায়। তার পর আর সুপার জিএম-এর চেষ্টাই করে না। সুযোগের অভাবে এ রকমই হয়।

প্রশ্ন: সে দিক থেকে দেখতে গেলে তুমি ভাগ্যবান?

কৌস্তভ: আমি যদি দাবাকে কেরিয়ার হিসেবে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইতাম, তা হলে আমাকেও এই সমস্যার মুখে পড়তে হত। যে হেতু আমি পড়াশোনায় বেশি মন দিচ্ছি, তাই আমাকে এই সমস্যাটার মুখোমুখি হতে হচ্ছে না। তার সঙ্গে আমার মা গেজেটেড অফিসার হওয়ায় কিছুটা সুবিধে হয়। অনেক সাপোর্ট করে আমাকে, অসাধারণ মা আমার, তাই আমাকে বিশেষ ভাবতে হয় না। সে দিক থেকে দেখতে গেলে আমি ভাগ্যবান তো বটেই।

প্রশ্ন: আপনার লক্ষ্য তো ইউরোপের লিগগুলোতে খেলা। সব থেকে ভাল কোনটা?

কৌস্তভ: স্পেনের যত টুর্নামেন্ট সবগুলোই খুব ভাল। আমি সেরা ফল স্পেনের টুর্নামেন্টেই করেছিলাম। সেখানকার আয়োজকরা খুব ভাল ভাবে আয়োজন করে‌ন। একটা নিয়মে বাঁধা থাকে সবটা। সেখানে সেরা এবং শক্তিশালী প্লেয়ারদেরই আহ্বান জানানো হয়। দুর্বল প্লেয়ারদের কোনও জায়গা নেই। এখানে খেলা খুব কাজে দিয়েছে, দারুণ উপলব্ধি হয়েছে। নিজেকে আরও উন্নত করতে পেরেছি।

প্রশ্ন: গ্র্যান্ডমাস্টার হয়ে যাওয়ার পরেও দাবাকে কেরিয়ার হিসেবে নিতে চাইছেন না কেন?

কৌস্তভ: ভারতে যদি দাবা কেরিয়ার হিসেবে নিতে হয়, তা হলে আমি যাঁদের চিনি তাঁরা সকলেই কোনও না কোনও চাকরিতে যুক্ত, রেল বা ইন্ডিয়ান অয়েলের মতো জায়গায়। সঙ্গে তাঁরা কোচিং করান। দাবা আর তখন প্রাথমিক পছন্দ থাকে না। খেলাটা স্বাভাবিক ভাবেই কমে যায়। যার ফলে দাবা সাইড প্রফেশনই হয়ে যায়। তার থেকে ভাল, পড়াশোনা করে দাবাকে হবি বানিয়ে নেওয়া।

প্রশ্ন: পরবর্তীতে সেই ঝুঁকিটা কি আপনি নেবেন?

কৌস্তভ: এটা খুব বেশি ঝুঁকির হয়ে যাবে। ভারতের মতো জনবহুল দেশে প্রচুর ভাল দাবা প্লেয়ার রয়েছে, জিএম রয়েছে। যে কোনও টুর্নামেন্টে সবাই খেলে। সেখানে হয়তো প্রথম পুরস্কার তিন লাখ। কিন্তু তার পরের ধাপটাই হল ১০ হাজার। একটা রাউন্ডের উপর দুম করে এতটা নেমে যাওয়াটা খুবই অনিশ্চিত একটা বিষয়। এ রকম অনিশ্চয়তার মধ্যে কেউই থাকতে চাইবে না। তবে আমি দাবাকে খুব ভালবাসি। আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে। তবে এটা হবি হিসেবেই ভাল। হতাশ হতে চাই না।

প্রশ্ন: খেলা শেখানোর কোনও ইচ্ছে আছে?

কৌস্তভ: আমি অনেক বারই ভেবেছিলাম কোচিং করব। মিত্রাভও আমাকে বলেছিল, ও ভবিষ্যতে একটা অ্যাকাডেমি করতে চায়। আমি কয়েক জনকে অনলাইন কোচিং করিয়েছি। কিন্তু বাংলায় কেউই এখনও আমার কাছে অনলাইন কোচিং করেনি। মূলত বাইরের লোকেরাই আমার কাছে কোচিং নেয়। কারণ, ওরা আমার প্রাপ্য টাকাটা দিতে পারে। অন্য দিক থেকে দেখতে গেলে, আমি যদি আমার মূল্যটা কমিয়ে দিই, তা হলে সেটা নিয়ে বেশি দূর এগোতে পারব না। যদি পারিশ্রমিকটা বেশি থাকে তা হলে আবার বাংলার কেউ সেই ক্লাস নিতে পারবে না।  আমি চেষ্টা করি একটা সামঞ্জস্য রাখার। তবে এখনও পর্যন্ত যাঁরা করেছেন তাঁরা আমেরিকার। আর ভারতের মধ্যে মহারাষ্ট্রের। যাঁরা সেই পারিশ্রমিকটা দিতে পারবেন।

প্রশ্ন: ভবিষ্যতে আর কী ভাবে পরবর্তী প্রজন্মকে সাহায্য করতে চান?

কৌস্তভ: আমি অবশ্যই বাংলার দাবার উন্নতিতে কাজে লাগতে চাই। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মেয়েদের মধ্যে কিন্তু অনেক প্রতিভা রয়েছে। যেমন মৃত্তিকা মল্লিক, স্নেহা হালদার। ছেলেদের মধ্যেও রয়েছে। ওদের তুলে ধরার জন্য আমি কিছু করতে চাই।

প্রশ্ন: পশ্চিমবঙ্গে কারও কাছে কখনও আপনি কোচিং নিয়েছেন?

কৌস্তভ: শুরু করেছিলাম অ্যালেখাইন চেজ ক্লাব দিয়ে। তার আগে সিটিজেন্স ফোরামে যেতাম। তার পর দিব্যেন্দু বড়ুয়া চেজ অ্যাকাডেমিতে যোগ দিই। এখন মাঝে মাঝে সেখানে যাই। ২০১৫-১৬ থেকে আমি আর টানা কোনও কোচিং কারও কাছে নিইনি। আমার মনে হয় সেটার আর দরকার পড়ে না।

প্রশ্ন: আনন্দের সঙ্গে কখনও দেখা, কথা বলা বা খেলার সুযোগ হয়েছে?

কৌস্তভ: আমার দাবায় সব থেকে মনে রাখার মতো অভিজ্ঞতা আনন্দের সঙ্গেই। তিনি যখন কলকাতায় এসেছিলে‌ন, আমি আমন্ত্রণ পেয়েছিলাম। সেখানে তিনি খেলেছিলেন, আমিও খেলেছিলাম। কিন্তু হেরে যাই। তার পর প্রশ্ন-উত্তর পর্বের জন্য ডাকা হয়েছিল। সেখানে আমিও ছিলাম। আমি নিউট্রিশন নিয়ে প্রশ্ন করেছিলাম। তখন উনি আমাকে উচ্ছে খেতে বলেছিলেন। সেই সময় আমি খুব মোটা ছিলাম। এটা একটা দারুণ মনে রাখার মতো দিন ছিল। তার পর আর দেখা হয়নি।

প্রশ্ন: দাবার মতো খেলায় ফিজিক্যাল ফিটনেস কতটা জরুরি?

কৌস্তভ: দাবায় দুটো অধ্যায় রয়েছে। একটা সময় ফিটনেস লাগে না। আমি প্রচুর মোটা ছিলাম। সেই সময় আমার কোনও সমস্যা হয়নি। কিন্তু একটা জায়গায় পৌঁছনোর পর যখন দাবা খেলাটা আরও কঠিন হয়ে যায় বা ঘণ্টার পর ঘণ্টা মুখোমুখি বসে থাকা, চাপ তৈরি হওয়া— সেই সময়গুলোকে সামলানোর জন্য ফিজিক্যাল ফিটনেস খুব প্রয়োজন। আনফিট বডি নিয়ে সাত ঘণ্টা টানা এক জায়গায় বসে থাকা সম্ভব নয়। পিঠে ব্যথা হতে শুরু করবে, টেনশন হবে। এই সবগুলো সামলে দিতে পারে শরীর চর্চা।

প্রশ্ন: আপনার দীর্ঘতম ম্যাচ কত ক্ষণের ছিল?

কৌস্তভ: বাংলাদেশ লিগে আমি দীর্ঘতম ম্যাচ খেলেছিলাম। সেটা ছিল সাড়ে সাত ঘণ্টা। আমার উল্টো দিকে ছিলেন ভারতের এক জন জিএম এসএল নারায়ণন। ওর ২৬০০-র উপর রেটিং। এটাই আমার দীর্ঘতম ম্যাচ। ১৫০-এর উপর মুভ হয়েছিল। যদিও হেরেছিলাম।

হার হোক অথবা জয়—সব কিছু নিয়েই কথা বলে যেতে পারেন অনর্গল। ঠিক ততটাই নিশ্চিত নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে। আপাতত বিদেশ পাড়ি দিলেও অবশ্যই বাংলার দাবার জন্য কিছু করতে চান। করাতে চান কোচিংও। বয়সটা নেহাৎই কম কিন্তু জীবনযুদ্ধ অনেকটাই বড় করে দিয়েছে এই গ্র্যান্ডমাস্টারকে। কলকাতায় থাকলে মা-এর উপর নির্ভরশীল হলেও কৌস্তভের দর্শন অনেককেই ভাবাবে।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুকটুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *