মহম্মদ শামি। ছবি সৌজন্যে ট্যুইটার
অলস্পোর্ট ডেস্ক: বিশ্বকাপ ২০২৩-এ ভারতের তিনজন পেসার একসঙ্গে প্রথম একাদশে জায়গা পাবেন না এটাই স্বাভাবিক। বুমরাহ প্রথম একাদশে খেলবেন বলেই ধরে নেওয়া হচ্ছে। বাকি থাকল মহম্মদ সিরাজ এবং মহম্মদ শামি। তাঁদের দুজনের মধ্যে একজন খেলবেন অপরজন বাইরে বসবেন। এশিয়া কাপের ফাইনালে ছয় উইকেট নেওয়ার পর মনে হয়েছিল সিরাজই জায়গা করে নেবে প্রথম একাদশে। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে অসাধারণ বোলিং করলেন শামি। এদিন পাঁচ উইকেট নিয়ে দলকে অনেকটাই এগিয়ে দিয়েছিলেন তিনি।
ভাল ফর্মে থাকা সত্বেও বাইরে বসে থাকতে হতে পারে শামিকে। দলে থেকেও মাঠের বাইরে বসে থাকা কোনও ক্রিকেটারেরই ভাল লাগার বিষয় নয়। কিন্তু শামি এসব নিয়ে ভাবতে চান না। শুক্রবার প্রথম ওডিআইতে ভারত জেতার পর তিনি বলেন, ‘‘আমি যখন দলের হয়ে মাঠে খেলছি তখন কেউ মাঠের বাইরে রয়েছে। তাই যখন দল জিতছে আর তুমি বাইরে বসে আছো তখন দুঃখ পাওয়ার কিছু নেই।’’
ইতিমধ্যে ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট ইঙ্গিত দিয়েছে আসন্ন বিশ্বকাপে ফ্রন্ট লাইন পেসার হিসাবে দেখা যাবে মহম্মদ সিরাজ এবং যশপ্রীত বুমরাহকে। শুক্রবার অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে শামি ৫১ রান দিয়ে ৫ উইকেট তুলে নেন। তারপরেই তিনি জানান বাউন্সের ওপর অনেক ম্যাচ নির্ভর করে। তাই মাঝে মাঝে দলে পরিবর্তন ভাল।
বিতর্কে জড়ানোর আগেই শামি স্পষ্ট করে দিয়ে বলেন, ‘‘সবসময়ই প্রথম একাদশে থাকা যায় না। কারণ সবটাই নির্ভর করে দলের পরিকাঠামোর ওপর। তুমি যখন ভাল খেলা সত্বেও দলে থাকছ না তখন তোমার উচিত যে ক্রিকেটাররা দলের হয়ে খেলছে তাদেরকে সমর্থন করা। খারাপ লাগার কোনও দিক নেই। দল আমাকে যখন সুযোগ দেবে আমি তখন তা করতে রাজি।’’
তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন বিশ্বকাপের আগে দলের বড় কোনও পরিবর্তন ভাল। তিনি বলেন, ‘‘আপনারা দেখেছেন পরিবর্তন করার ফল আমরা পেয়েছি। বিশ্বকাপের আগে অনেক বেশি চাপ নেওয়া উচিত নয় যখন সবকিছুই ভাল যাচ্ছে এবং আমাদের ফলও ভাল হচ্ছে।’’
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের পর শামি খেলার মাঠ থেকে কয়েকদিনের বিরতি নিয়েছিলেন। এই কারণে তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরেও যাননি। তিনি বলেন, ‘‘৭-৮ মাস পরপর খেলার পর বিরতি নেওয়া সত্যিই দরকার। আমার তখন ছুটির দরকার ছিল। আমি আমার কোচ রাহুল দ্রাবিড় এবং অধিনায়ক রোহিত শর্মার সঙ্গে কথা বলে বিরতি নিয়েছিলাম। আমার বাড়িতে আমি প্র্যাকটিস চালিয়ে গিয়েছিলাম। দলে থেকে যে পরিশ্রম হত তার থেকেও আমি বেশি পরিশ্রম করেছিলাম।’’
স্টিভ স্মিথকে আউট করার পিছনে তাঁর কী কৌশল ছিল জানতে চাওয়ায় তিনি বলেন, ‘‘শুধু আমার বেসিকগুলি ঠিক করার চেষ্টা করেছি এবং অফ-স্টাম্পের ওপর বল করেছি। তারপর ব্যাটারের ভুল করার জন্য অপেক্ষা করেছিলাম। বিশ্বকাপেও যে একই ঘটনা হবে তা নয়। ব্যাটারদের পার্টনারশিপের ওপরও নির্ভর করে। কখনও কখনও, ছয় ওভারের স্পেলও বোলিং করতে হয় আবার কখনও মাত্র তিন ওভার বল করতে হয়।’’
সবশেষে তিনি বলেন, ‘‘গরমও একটা বড় ভূমিকা পালন করে। যখন কেউ অনেকদিন ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলে আসে তখন এটা তাদের ফিটনেসের ওপর তেমন প্রভার ফেলে না। কে কতটা পরিশ্রম করেছে তার ওপর নির্ভর করে।’’
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার
