Cart Total Items (0)

Cart

All Sports India

অলস্পোর্ট ডেস্ক: এই ম্যাচ জিততেই হতো ভারতকে। কারণ বিশ্বকাপের আরও একটা ফাইনাল, ভেন্যু সেই আহমেদাবাদ। ২০২৩ ওডিআই বিশ্বকাপের সেই হতাশার স্মৃতিকে বদলাতে চাইবে ভারতের টি২০ দল। তাই জিততেই হতো সেমিফাইনাল। প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। তার আগের দিনই কলকাতার ইডেন গার্ডেনে দক্ষিণ আফ্রিকাকে সহজেই হারিয়ে টি২০ বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনালে পৌঁছেছে নিউজিল্যান্ড। বৃহস্পতিবার ভারত বনাম ইংল্যান্ড ম্যাচের উইনারকে খেলতে হবে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে চ্যাম্পিয়নশিপের লড়াই। তার আগে এদিন মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে মেনস ইন ব্লুদের সমর্থন করতে কে ছিলেন না! রোহিত শর্মা, এমএস ধোনি থেকে রনবীর কাপুর, আলিয়া ভাট এমনকি পুরো আম্বানী পরিবার। ভর্তি ওয়াংখেড়ের সামনেই ইংল্যান্ডকে ৭ রানে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করল ভারত। যে ম্যাচ লেখা থাকবে সঞ্জু স্যামসন আর অক্ষর প্যাটেলের নামে।

ওয়াংখেড়ের পিচের স্বাভাবিক চরিত্র অনুযায়ী টস খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। য়ে টস জিতবে সে যে রান তাড়া করতে চাইবে তাও নিশ্চিত ছিল। ভারত টস হেরে হয়তো সে দিক শাপে বড়ই হয়েছিল। ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক টস জিতে প্রথমে ভারতকে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিলেন। যে দলের অনেকেই এই মাঠে খেলেই বড় ক্রিকেটার হয়েছেন। যদিও আবারও ব্যর্থ অভিষেক শর্মা। ভারতীয় দলের সৌভাগ্য, বাকি দলের কেউ না কেউ তাঁদের সেরাটা দিয়ে দলের জন্য ম্যাচ বের করতে আনতে সাহায্য করছে। যে কারণে অভিষেককে দলে রাখা নিয়ে যতই সমালোচনা হোক না কেন টিম ম্যানেজমেন্ট তাঁকে দল থেকে বাদ দেবে না তা নিশ্চিত। এদিনও তিনি সঞ্জু স্যামসনের সঙ্গে ভারতের হয়ে ওপেন করতে নেমেছিলেন। টিম ম্যানেজমেন্ট চাইছে, যেন আত্মবিশ্বাস না হারিয়ে ফেলে টি২০-এর সেরা ব্যাটার। এদিনও তিনি ৯ রান করে আউট হয়ে গেলেন।

আর তাঁর ব্যর্থতার মঞ্চেই সাফল্যের তুঙ্গে রয়েছেন সঞ্জু স্যামসন। যেন বলে বলে, নির্বাচকদের প্রতিটি অন্যায়ের জবাব দিচ্ছেন তিনি। সুপার আটের শেষ ম্যাচে তাঁর ব্যাটই ভারতকে জয় এনে সেমিফাইনালে পৌঁছে দিয়েছিল। এদিনও ভারতের সেরা ব্যাটার তিনিই। ৪২ বলে আটটি বাউন্ডারি ও সাতটি ওভার বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ৮৯ রান করলেন তিনি। তাঁকে যোগ্য সঙ্গত দিয়ে গেলেন ঈশান কিষাণ থেকে শিভম দুবে, হার্দিক পাণ্ড্যেরা। ঈশান যোগ করলেন ১৮ বলে ৩৯ রান। ভারতের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান শিভম দুবের ৪৩, হার্দিক ফিরলেন ২৭ রানে, তিলক ভর্মার সংযোজন ৭ বলে ২১। এছাড়া সূর্যকুমার যাদব করলেন ১১ রান। ২ রানে অপরাজিত থাকলেন অক্ষর প্যাটেল। শেষ বলে ব্যাট করতে নেমে রানের খাতা খোলার সুযোগ পেলেন না বরুণ চক্রবর্থী। ২০ ওভারে ভারত যখন থামল তখন ৭ উইকেটে ২৫৩ রান লেখা হয়ে গিয়েছে বোর্ডে। টি২০ ক্রিকেটে যে রান তাড়া করা নেহাৎই সহজ কাজ নয়।

ইংল্যান্ডের হয়ে দুটো করে উইকেট নিলেন উইল জ্যাকস ও আদিল রশিদ। এক উইকেট জোফরা আর্চারের। দুটো রান আউটও হল। যদিও ততক্ষণে ইংল্যান্ডের সামনে তৈরি হয়ে গিয়েছে রানের পাহাড়। সেই লক্ষ্যে শুরুটা মোটেও ভালো হল না ব্রিটিশদের। দুই ওপেনার ফিল সল্ট ৫ ও হ্যারি ব্রুক ২৫ রান করে ফিরে যান প্যাভেলিয়নে। তিন ‌নম্বরে নেমে অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক ৭ রান করে আউট হয়ে যান। ১৭ রান করে আউট হন টম ব্যান্টন। এর পর জ্যাকব বেথেলের সঙ্গে উইল জ্যাকের ইনিংস ইংল্যান্ডকে আবার লড়াইয়ে ফিরিয়ে আনে। যখন মনে হচ্ছে শেষ পর্যন্ত লড়াইকে নিয়ে যাবে এই জুটি তখনই ছন্দপতন ঘটায় একটা দুরন্ত যৌথ ক্যাচ। যে ক্যাচ লেখা থাকবে শিভম দুবের নামে কিন্তু এই ক্যাচের মূল কারিগর অবশ্যই অক্ষর প্যাটেল।

এদিন ব্যাট হাতে সঞ্জ স্যামসন নজর কাড়লেও শেষ বেলায় সব লাইম লাইট একাই ছিনিয়ে নিয়ে গেলেন অক্ষর প্যাটেল। যাঁকে দলে না রেখে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে হারের পর প্রভূত সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টকে। তিনি ফিরতেই নিজের সেরাটা দিয়ে ভারতের জয়ে ভূমিকা রেখে চলেছেন। অর্শদীপের বলে উঁচু করে মারতে গিয়ে বাউন্ডারি লাইনে অক্ষর প্যাটেলের হাতে ধরা পড়ে যান উইল জ্যাক (৩৫)। কিন্তু অক্ষর শরীরের নিয়ন্ত্রণ রাখতে না পেরে চলে যান বাউন্ডারির বাইরে। তবে তাঁর আগে সঠিক কাজটি করে যান সেখানেই দাঁড়িয়ে থাকা শিভম দুবের দিকে ক্যাচ ছুঁড়ে দিয়ে। এই ক্যাচ লেখা থাকবে টি২০ বিশ্বকাপের ইতিহাসে। এর আগে বুমরাহর বলে যেভাবে অনেকটা দৌঁড়ে গিয়ে শরীর ছুঁড়ে হ্যারি ব্রুকের ক্যাচ ধরলেন তাতে জন্টি রোডসকে মনে করালেন অক্ষর।

শেষ তিন ওভারে জিততে হলে ইংল্যান্ডের দরকার ছিল ৪৫ রান। এর মধ্যেই সেঞ্চুরি হাঁকালেন ইংল্যান্ডের জ্যাকব বেথেল, ৪৮ বলে ১০৫ রান করে ফিরলেন। যদিও তা তাদের ফাইনালে নিয়ে যেতে পারল না। তবে শেষ পর্যন্ত লড়াই দিয়ে ভারতকে চাপে রাখল ইংল্যান্ডের ব্যাটাররা। ভারতের হয়ে এদিন সবাই উইকেট পেলেন। জোড়া উইকেট নিলেন হার্দিক পাণ্ড্যে। অর্শদীপ সিং, যশপ্রীত বুমরাহ, অক্ষর প্যাটেল ও বরুণ চক্রবর্থী একটি করে উইকেট তুলে নিলেন। ২৫০-এর উপরও রান যে যথেষ্ট নয় তা এদিন বুঝিয়ে দিল ইংল্যান্ড। যতটা সহজ হবে মনে হয়েছিল ভারতের জয় ততটা মোটেও হল না। বোলাররা এদিন খুব সফল এটাও বলা যাবে না। বরং ব্যাটারদের সাফল্য আর অসাধারণ ফিল্ডিংই ভারতের জয়ের নেপথ্যের কারণ। শেষ ওভারে জিততে হলে ইংল্যান্ডের দরকার ছিল ৩০ রান, মানে পাঁচটা ছক্কা। তেমনটা হল না, তবে দুটো ছক্কা এল শেষ বেলায়। ইংল্যান্ড থামল ২৪৬-৭-এ। ভারতকে হারানোর লক্ষ্য থেকে মাত্র ৮ রান দূরে।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Captcha loading...