ছবি—আইসিসি এক্স
অলস্পোর্ট ডেস্ক: টি২০ বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সুপার আটের প্রথম ম্যাচে আহমেদাবাদে মুখোমুখি হয়েছিল ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকা। দলের সব থেকে দাপুটে ব্যাটার ফর্মে না থাকলেও লিগ পর্বের সব ম্যাচ জিতেই সুপার আটে পৌঁছেছে ভারত। যদিও দক্ষিণ আফ্রিকা যে সহজ প্রতিপক্ষ হবে না তা জানাই ছিল টিম ম্যানেজমেন্টের। যদিও শুরুতেই যেভাবে ধাক্কা খেল ভারতীয় ব্যাটিং তাতে দলের মাথায় চিন্তার ভাজ পড়াটা স্বাভাবিক। সেমিফাইনালের লক্ষ্যে যদি প্রথমেই ভারতীয় ব্যাটিং এভাবে ধাক্কা খায় তাহলে আত্মবিশ্বাসও নড়ে যেতে পারে দলের। সেই অবস্থায় প্রতিবারের মতো ত্রাতার ভূমিকায় পাওয়া গেল না দলের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবকেও। এদিন টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রথমে ব্যাট করে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৮৭ রান তোলে প্রোটিয়ারা। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৭৬ রানে হারের মুখ দেখতে হয় ভারতকে।
প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই দক্ষিণ আফ্রিকাকে ধাক্কা দিয়েছিল ভারতীয় বোলিং। ওপেন করতে নেমে অধিনায়ক আইদেন মারক্রাম ৪ ও কুইন্টন কে কক ৬ রান করে ফিরে যান প্যাভেলিয়নে। তিন নম্বরে ব্যাট করতে নেমে রায়ান রিকলটন ফেরেন ৭ রানে। প্রথম তিন ব্যাটার ফিরে যান দলগত ২০ রানে। সেখান থেকে দলকে ১০০ রানের গণ্ডি পার করতে সাহায্য করেন দেওয়াল্ড ব্রেভিস ও ডেভিড মিলার। ব্রেভিসের ব্যাট থেকে আসে ২৯ বলে ৪৫ রান। হাফসেঞ্চুরি করেন মিলার। ৩৫ বলে ৬৩ রানের ইনিংস খেলে দলের রানকে লড়াইয়ের জায়গায় নিয়ে যান তিনি। এর পর বাকিটা লড়াই করেন ছয় নম্বরে ব্যাট করতে নামা ত্রিস্তান স্তাবস। ২৪ বলে ৪৪ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। মার্কো জানসেন ২ ও করবিন বোশ ৫ রান করে ফেরেন।
২০ ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকা থামে ১৮৭-৭-এ। এদিন ভারতের হয়ে বল হাতে সফল যশপ্রীত বুমরাহ। ৪ ওভারে ১৫ রান দিয়ে ৩ উইকেট তুলে নেন তিনি। ২ উইকেট নেন অর্শদীপ সিং। একটি করে উইকেট বরুণ চক্রবর্থী ও শিভম দুবের। বোলাররা তাঁদের কাজ সাফল্যের সঙ্গেই করে দিলেও ১৮৮ রানের লক্ষ্যে নেমে শুরুতেই চাপের মুখে পড়ে যায় ভারতের ব্যাটিং। না এবারও ফর্মে ফেরা হল না অভিষেক শর্মার। যদিও শূন্য রান থেকে বেরিয়ে ১৫ রান করলেন। যদিও তার আগেই ফিরে গিয়েছেন ফর্মে থাকা ঈশান কিষাণ আর তিলক ভার্মা।
২৬ রানে তিন উইকেট চলে যায় ভারতের। ঠিক যেভাবে ২০ রানে তিন উইকেট হারিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। শুরুতেই নিজের এবং দলের রানের খাতা খোলার আগেই প্যাভেলিয়নে ফিরে যান ঈশান কিষাণ। তিন নম্বরে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ১ রান করে ফেরেন তিলক ভার্মা। চার নম্বরে ব্যাট করতে নামেন স্বয়ং ভারত অধিনায়ক। কঠিন সময়ে যখন পুরো দল ব্যর্থ তখন একা হাতে ম্যাচ বের করে নিয়ে যাওয়ার নজির রয়েছে ভারতের টি২০ অধিনায়কের। তেমনটা হল না। যদিও এদিন মনে করা হচ্ছিল রানে ফিরতে পারেন অভিষেক শর্মা। কিন্তু না, তেমনটাও হল না। তিনিও ফিরলেন ১৫ রানে, তবে দক্ষিণ আফ্রিকার বোশের দুরন্ত ক্যাচে। সূর্যকুমারের সংগ্রহ ১৮ রান। এদিন কোনও হিসেবই কাজে লাগল না ভারতের। ওয়াশিংটন সুন্দরও ফেরেন ১১ রানে। শেষ পর্যন্ত ভরসা ছিলেন হার্দিক পাণ্ড্যে ও শিভম দুবে।
কিন্তু পর পর সবাই হতাশ করে গেলেন ব্যাট হাতে। বড় রানের লক্ষ্যে বড় বড় শট নিতে গিয়েই দক্ষিণ আফ্রিকার ফিল্ডারদের হাতে ধরা পড়লেন ভারতের ব্যাটাররা। হার্দিক পাণ্ড্যে ফিরলেন ১৮ রানে। নেমেই রানের খাতা না খুলেই ফিরে গেলেন রিঙ্কু সিংও। ৮৮-৮ থেকে বাকি ৫ ওভারে আরও ১০০ রান করা এই ভারতীয় দলের জন্য অসম্ভব ছিল। এক কথায় ততক্ষণে হার দিয়ে সুপার আট শুরু করা নিশ্চিত হয়ে গিয়েছে ভারতের। এর মধ্যেই হ্যাটট্রিক করে ফেললেন কেশব মহারাজ। হার্দিক, রিঙ্কুর পর তিনি ১ রানে ফেরান অর্শদীপ সিংকে। তিনটি ক্যাচই বাউন্ডারি লাইনে নেন ত্রিস্তান স্তাবস।
অনেকটা লড়াই করেন শিভম দুবে। জোড়া ছক্কা হাঁকিয়ে দলকে ১০০ রানে পৌঁছতে সাহায্য করেন। তবে তা যথেষ্ট ছিল না। ৪২ রানে আউট হন তিনি। তাঁর জায়গায় নেমে প্রথম বলেই প্যাভেলিয়নে ফিরে খেলা শেষ করে দেন তিন উইকেটের মালিক যশপ্রীত বুমরাহ। ১৮.৫ ওভারে ১১১ রানে শেষ হয়ে যায় ভারতের ইনিংস। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে চার উইকেট নেন মার্কো জানসেন। তিন উইকেট নেন কেশব মহারাজ। দুই উইকেট করবিন বোশের। এক উইকেট আইদেন মারক্রামের। ভারতের জয় দেখতে হাজির হওয়া এক লাখের গ্যালারি এদিন হতাশ হয়েই মাঠ ছাড়ল।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
