অলস্পোর্ট ডেস্ক: বৃষ্টির জন্য খেলা বন্ধ হতে দেখেছি। খারাপ আলোর জন্যও বহুবার খেলা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু মেঘের জন্য খেলা বন্ধ এর আগে কোথাও হয়েছে কিনা জানা নেই। ভারতের মাটিতে এমন ঘটনা আগে হয়নি নিশ্চিত। এমনটাই ঘটল ওডিআই বিশ্বকাপ ২০২৩-এ ভারত বনাম নিউজিল্যান্ড ম্যাচে। এই ম্যাচ খেলতে দুই দল নেমেছিল ধর্মশালার হিমাচল প্রদেশ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে। এক কথায় বিশ্বের অন্যতম সুন্দর স্টেডিয়াম। তুষার শৃঙ্গে ঘেরা এই স্টেডিয়ামে যে মাঝে মাঝেই মেঘের দল হামলা চালাবে তা নিয়ে কোনও সংশয় নেই। পুরো ধর্মশালাই থাকে মেঘের দখলে। তা বলে সেই মেঘের দৌড়াত্মে খেলা বন্ধ হয়ে যাবে তা কে ভেবেছিল। কিন্তু বিশ্বকাপের ম্যাচে সেই ঘটনাও ঘটে গেল। এই ঘটনা অবশ্য লেখা থাকবে এইভাবে, ‘‘প্রতিকূল আবহাওয়ার জন্য খেলা বন্ধ।’’
১৫.৪ ওভারের খেলা চলছিল। ব্যাট করছিলেন বিরাট কোহলি ও শ্রেয়াস আইয়ার। ফার্গুসনকে শ্রেয়াস বাউন্ডারি হাঁকানোর পরই দেখা যায় মাঠ ঢেকে গিয়েছে মেঘে। ভারতীয় সময় তখন রাত সাড়ে সাতটা। কোনও দলই চাইবে না খেলা পুরোপুরি বন্ধ করে পয়েন্ট ভাগাভাগি করে নিতে। ফিল্ড আম্পায়াররা আলোচনার পর অবশ্য খেলা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন। প্লেয়াররা মাঠ ছেড়ে ফিরে যান ড্রেসিংরুমে। তবে বেশিক্ষণ খেলা বন্ধ রাখতে হয়নি। প্রকৃতির দয়ায় ১৫ মিনিট বন্ধ থাকার পরই খেলা শুরু করা সম্ভব হয়। এক কথায় অদ্ভুত কারণে খেলা বন্ধ রাখার নজির তৈরি হল ২০২৩ ওডিআই বিশ্বকাপে।
আরও একটি ঘটনা ঘটল এদিনের ম্যাচে। এটাও আগে কখনও হয়েছে কিনা তা ইতিহাস ঘেটে দেখতে হবে। খেলা মাঝ পথে থামিয়ে চলল লেজার শো। ভারতীয় ব্যাটিংয়ের ৩২ ওভারের খেলা শেষ হওয়ার পরই চলল মিউজিক আর আলোর খেলা। পুরো স্টেডিয়ামকে প্রাথমিকভাবে অন্ধকার করে দেওয়া হল। দু’মিনিটের লেজার শো শেষে আবার জ্বলে উঠল আলো। লেজার শো শেষে প্রথম বলেই এলবিডব্লু আউট হয়ে ফিরলেন লোকেশ রাহুল।
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় পাঁচহাজার ফিট উচ্চতায় অবস্থিত এই স্টেডিয়াম তৈরি হয়েছিল ২০০৩ সালে। ২৩ হাজার দর্শকাসন বিশিষ্ট এই স্টেডিয়ামে যদিও খুব বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ দেওয়া হয় না। তার অন্যতম কারণ অবশ্যই আবহাওয়া। এদিন মাঠে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর। তিনি আবার হিমাচলেরই মানুষ। হিমাচলে খেলার প্রসারে তাঁর বড় ভূমিকা রয়েছে। তাই বিশ্বকাপের ম্যাচ আয়োজনেও কোনও কার্পন্য করেননি তিনি। স্থানীয়রাও ভারতকে সমর্থন করতে এই ঠান্ডার মধ্যে গ্যালারি ভরিয়েছিলেন। দিনেরবেলা ধর্মশালার তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রির আশপাশে থাকলেও অন্ধকার নামতেই তা ১৩-১৪ ডিগ্রিতে নেমে যাচ্ছে। এদিনও এমনই ছিল হিমাচলের এই অঞ্চলের তাপমাত্রা।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার
