অলস্পোর্ট ডেস্ক: সোমবার আলোচনা শেষে অধিনায়ক রোহিত শর্মা এবং বিসিসিআই নির্বাচক প্রধান অজিত আগরকর এশিয়া কাপ ২০২৩-এর জন্য ভারতীয় ক্রিকেট দল দল ঘোষণা করে দিলেন। কেএল রাহুল, শ্রেয়াস আইয়ার এবং যশপ্রীত বুমরাহরা দলে ফিরেছেন। রাহুলের ব্যাক-আপ হিসাবে সঞ্জু স্যামসনকে ভাবা হয়েছে। ৩০ অগস্ট থেকে শুরু হতে চলেছে এশিয়া কাপ। শ্রীলঙ্কায় ভারতের প্রথম ম্যাচ ২ সেপ্টেম্বর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের বিপক্ষে। এশিয়া কাপের জন্য নির্বাচিত এই দল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে চলেছে ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপেও। কারণ এটি কমবেশি বিশ্বকাপের স্কোয়াডেরও একটি ধারণা দেবে।
এশিয়া কাপ ২০২৩-এর নির্বাচিত ভারতীয় দল: রোহিত শর্মা (অধিনায়ক), হার্দিক পাণ্ড্যে (সহ-অধিনায়ক), শুভমান গিল, বিরাট কোহলি, তিলক ভর্মা, কেএল রাহুল (উইকেটরক্ষক), ঈশান কিষান (উইকেটরক্ষক), শ্রেয়াস আইয়ার, সূর্যকুমার যাদব, রবীন্দ্র জাদেজা, যশপ্রীত বুমরাহ, মহম্মদ শামি, মহম্মদ সিরাজ, শার্দুল ঠাকুর, কুলদীপ যাদব, অক্ষর প্যাটেল, প্রসিধ কৃষ্ণ।
এশিয়া কাপে ঘোষিত ভারতীয় দলের সদস্যদের ২০২২ থেকে পারফর্ম্যান্স কেমন দেখে নেওয়া যাক একঝলকে:
রোহিত শর্মা (অধিনায়ক)- ভারতের অধিনায়ক এবং একজন দুর্দান্ত ওপেনার। ২০২২ থেকে শর্মা ১৭টি ওয়ানডে-তে ৪৫.১৪ গড়ে ৬৩২ রান করেছেন।
শুভমান গিল- গত এক বছরে তিনি তাঁর কেরিয়ারের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছেছেন। জানুয়ারি ২০২২ থেকে, তিনি ২৪টি ওডিআই খেলে, ১৩৮৮ রান করেছেন, গড় ৬৯.৪০।
বিরাট কোহলি- তিনি সম্ভবত দলের সবচেয়ে স্বয়ংক্রিয় খেলোয়াড়। ২০২২ থেকে এখনও পর্যন্ত মোট ২১টি ওডিআই খেলেছেন এবং ৩৮.৩৬ গড়ে ৭২৯ রান করেছেন।
তিলক ভর্মা- ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে টি২০ সিরিজে তাঁর অভিষেক অন্তত প্রতিশ্রুতিশীল ছিল। সাতটি টি২০-তে এখনও পর্যন্ত তিনি ১৭৪ রান করেছেন এবং একটি উইকেটও নিয়েছেন।
কেএল রাহুল (উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান)- তাঁর ঊরুতে চোট লাগার কারণে মে মাস থেকে তিনি মাঠের বাইরে ছিলেন। গত এক বছরে তিনি ১৬টি ওয়ান ডে খেলেছেন এবং ৩৬.৬৯ গড়ে ৪৭৭ রান করেছেন রাহুল।
ঈশান কিষান (উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান)- তিনি উইকেট কিপিং করেন, ওপেন করেন, মিডিল অর্ডারেও খেলেছেন এবং একজন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। মোটকথা একজন অলরাউন্ডার হয়ে উঠছেন ঈশান। ২০২২ থেকে এখনও পর্যন্ত তিনি ১৫টি ওডিআই খেলেছেন, ৪৮.৭৬ গড়ে ৬৩৪ রান রয়েছে তাঁর ঝুলিতে।
শ্রেয়াস আইয়ার- তিনিও সদ্য চোট থেকে ফিরে এসেছেন। ২০২২ থেকে, তিনি ২০টি ওডিআই খেলে ৫১.১২ গড়ে ৮১৮ রান করেছেন।
সূর্যকুমার যাদব- তাঁর ওডিআই ফর্ম খুব ভাল জায়গায় নেই। তিনি ২৩টি ওডিআই খেলে ২০.৩৬ গড়ে ৩৮৭ রান করেছেন।
হার্দিক পাণ্ড্যে (সহ-অধিনায়ক)- ভারতের সেরা ফাস্ট বোলিং অলরাউন্ডার। এক বছরে ১৪টি ওয়ানডেতে, পাণ্ড্যে ৩৪.৫৪ গড়ে ৩৮০ রান করেছেন এবং ১৬টি উইকেট নিয়েছেন।
রবীন্দ্র জাদেজা- পাণ্ড্যে এবং জাদেজা বর্তমানে ভারতের সেরা অলরাউন্ডার। জাদেজা ২০২২ থেকে মাত্র নয’টি ওয়ানডে খেলেছেন, ১৪৯ রান করেছেন এবং ছয় উইকেট নিয়েছেন।
যশপ্রীত বুমরাহ- চোটের কারণে দীর্ঘ ১১ মাস মাঠের বাইরে ছিলেন তিনি, কিন্তু তারপরেও তাঁর খেলায় একটুও মর্চে পড়েনি। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টি২০ সিরিজে নিজের ফর্ম দেখাচ্ছেন তিনি। গতবছর থেকে পাঁচটি ওয়ানডে-তে তিনি ১৩টি উইকেট নিয়েছেন।
মহম্মদ শামি– তাঁর অসাধারণ বোলিং ক্ষমতাকে কখনওই উপেক্ষা করা যায় না। ২০২২ থেকে ১১টি ওডিআই খেলে তিনি ১৪টি উইকেট নিয়েছেন।
মহম্মদ সিরাজ- সম্ভবত গত দুই বছরে ভারতের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পেস বোলার হলেন সিরাজ। ২৩টি ওয়ানডে-তে ৪৩টি উইকেট ব্যাগে পুড়েছেন তিনি।
শার্দুল ঠাকুর- আর একজন ফাস্ট বোলিং অলরাউন্ডার শার্দুল, প্রথম একাদশের বড় নাম। ২০২২ থেকে ২৩টি ওয়ানডে-তে তিনি ২০৮ রান করেছেন এবং ৩৬ উইকেট নিয়েছেন।
কুলদীপ যাদব- এই চায়নাম্যান বোলার ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে ভারতীয় দলকে সাফল্য এনে দেওয়ার পিছনে বড় ভূমিকা নিয়েছিলেন। এক বছরে মোট ১৯টি ওডিআই খেলেছেন এবং ৩৪টি উইকেট নিয়েছেন কুলদীপ।
অক্ষর প্যাটেল- রবীন্দ্র জাদেজার মতো অলরাউন্ড ক্ষমতা রয়েছে তাঁর। যে কোনও সময়ে তাঁর বল ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারে। ঝুলিতে তাঁর ১৪টি ওয়ান ডে। মোট ২৩২ রান করেছেন এবং ১৩টি উইকেট নিয়েছেন।
প্রসিধ কৃষ্ণ- সম্প্রতি চোট থেকে ফিরে আসা সত্ত্বেও দল ভরসা রাখছে তাঁর উপর। ২০২২ থেকে তিনি ১১টি ওয়ানডে খেলে ১৯ উইকেট নিয়েছেন।
সঞ্জু স্যামসন (ব্যাকআপ)- ভাল খেলোয়াড়। তিনি ২০২২ থেকে এখনও পর্যন্ত ১৩টি ম্যাচে ৫৫.৭১ গড়ে ৩৯০ রান করেছেন।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার
