ছবি— কেকেআর এক্স থেকে
অলস্পোর্ট ডেস্ক: আইপিএল-এ দ্বিতীয় জয় পেল কলকাতা নাইট রাইডার্স। রবিবার লখনউ সুপার জায়ান্টসের ঘরের মাঠ একানা স্টেডিয়ামে খেলতে নেমেছিল কলকাতা। এই ম্যাচ এক কথায় কলকাতা ডার্বি হিসেবেই খ্যাত। কারণ লখনউয়ের মালিক সঞ্জীব গোয়েঙ্কা। সেই ম্যাচ জিততে চেয়েছিল দুই পক্ষই। সুপার ওভারে শেষ হাসি হাসল কলকাতা। দুই দলের কেউই খুব ভালো জায়গায় নেই। এই ম্যাচ খেলতে নামার আগে নয় নম্বরে ছিল লখনউ, কলকাতা ছিল ১০-এ। এক কথায় নিচের তলার সমানে সমানে লড়াই। এদিন টস জিতে প্রথমে কলকাতাকে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিলেন লখনউ অধিনায়ক ঋষভ পন্থ। প্রথমে ব্যাট করে শুরুটা মোটেও ভালো করতে পারেনি রাহানের দল। তবে শেষ বেলায় এসে দলের মান রাখেন রিঙ্কু সিং। শেষ যে ম্যাচে কলকাতা জিতেছিল সেখানেও রিঙ্কুর ভূমিকা ছিল নজরে পড়ার মতো। এদিনও তিনিই দলের ব্যাটিংকে এগিয়ে নিয়ে গেলেন। তাঁর ব্যাটে ভর করেই ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৫৫ রান তোলে কলকাতা। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৮ উইকেটে ১৫৫ রান তুলে ম্যাচ সুপার ওভারে পৌঁছে দেয় লখনউ। যেখানে লখনউ তিন বল খেলে ২ উইকেটে ১ রানই তুলতে পারে, যার জবাবে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে জয় তুলে নেন রিঙ্কু সিং।
এদিন ওপেন করতে নেমে টিম সিফার্ট রানের খাতাই খুলতে পারেননি। ভরসা দিতে পারেননি ওপেনার, অধিনায়ক অজিঙ্ক রাহানেও। মাত্র ১০ রান করে ফেরেন তিনি। এর পর তিন নম্বরে নামা অঙ্গকৃশ রঘুবংশীর বিতর্কিত আউট আরও বড় ধাক্কা দেয় কলকাতা শিবিরকে। এর পর রোভমান পাওয়েল ১ রান করে ফিরে যাওয়ার পর ক্যামেরন গ্রিনের সঙ্গে কলকাতা ইনিংসের হাল ধরেন রিঙ্কু সিং। তখন কলকাতার রান ৩১-৪। সেখান থেকে গ্রিনকে সঙ্গে করে দলের রানকে ৭৩-এ নিয়ে যান রিঙ্কু। গ্রিন ফেরেন ৩৪ রানে। এর পর অনুকূল রয় ০ ও রমনদীপ সিং ৬ রান করে ফিরে যান প্যাভেলিয়নে। ততক্ষণে দলের সেরা লড়াই দিতে শুরু করেছেন রিঙ্কু।
৫১ বলে সাতটি বাউন্ডারি ও পাঁচটি ওভার বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ৮৩ রান করে অপরাজিত থাকেন রিঙ্কু সিং। এর মধ্যে এক ওভারে পর পর চারটি ছক্কাও হাঁকান। এখানেই শেষ নয়, ফিল্ডিং করতে নেমে অসাধারণ ক্যাচ ধরে সবাইকে চমকে দেন তিনি। সব মিলে এদিনের ম্যাচে প্যাকেদ রিঙ্কুরই বাজিমাত। ৪ রানে অপরাজিত থাকেন সুনীল নারিন। ২০ বলে ১৫৫-৭ সম্মানজনক জায়গায় শেষ করে কলকাতা। লখনউয়ের হয়ে পাঁচ উইকেট নেন মহসিন খান। ১ উইকেট জর্জ লিন্ডের। জবাবে ব্যাট করতে নেমেআউদেন মারক্রাম শুরুটা ভালো করলেও তা যথেষ্ট ছিল না লখনউয়ের জয়ের জন্য। ৩১ রানে মারক্রাম ও ২ রানে মিচেল মার্শ ফিরে গেলে মাত্র ১৫৬ রানের লক্ষ্যে বড় ধাক্কা খায় সঞ্জীব গোয়েঙ্কার দল। কিন্তু শেষ বল পর্যন্ত লড়াই দিয়ে ম্যাচকে সুপার ওভারে নিয়ে যায় তাঁর ছেলেরা।
এর পর তিন নম্বরে নেমে দলের হাল ধরেন অধিনায়ক ঋষভ পন্থ। ৪২ রানের ইনিংস খেলে ফেরেন তিনি। লখনউয়ের হয়ে এটিই ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রান। এর পর নিকোলাস পুরান ৯, মুকুল চৌধরী ১ রানে ফিরে যান প্যাভেলিয়নে। আয়ুশ বাদোনি কিছুটা চেষ্টা করেন পাঁচ নম্বরে নেমে। তিনিও ফেরেন ২৪ রানে অনুকূল রয়ের অনবদ্য ক্যাচে। ৮ রানে ফেরেন জর্জ লিন্ডে। শেষ ওভারে জিততে হলে লখনউয়ের দরকার ছিল ১৭ রান। শেষ ওভারের দ্বিতীয় বলে হিম্মত সিং বাউন্ডারিতে ক্যাচ দিলেও ফিল্ড আম্পায়ার তা নো-বল দেওয়ায় রিভিউ নেয় কেকেআর। যদিও রিভিউ কেকেআর-এর পক্ষে যায়নি।
শেষ ওভারে কার্তিক ত্যাগি দুটো নো বল আর দুটো ফ্রি-হিট পাইয়ে দেন প্রতিপক্ষকে। তাতেই লখনউয়ের জন্য লক্ষ্যমাত্রা ৫ বলে ১২ রানে পৌঁছয়। হিম্মত সিং বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ৪ বলে ৮ রানের লক্ষ্যে পৌঁছে দেয় দলকে। কিন্তু পরের বলেই ১৯ রানে রিঙ্কুর হাতে ক্যাচ দিয়ে প্যাভেলিয়নে ফেরেন হিম্মত। এদিন চারটি ক্যাচ নেন রিঙ্কু। শেষ বলে লখনউয়ের দরকার ছিল ৭ রান। শেষ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচ ড্র করে সুপার ওভারে পৌঁছে দেন মহম্মদ শামি, ১১ রানে অপরাজিত থাকেন। এদিন কলকাতার হয়ে বল হাতে প্রায় সকলেই উইকেট তুলে নেন। অনুকূল রয়, বৈভব অরোরা, ক্যামেরন গ্রিন, সুনীল নারিন। জোড়া উইকেট নেন বরুণ চক্রবর্থী।
সুপার ওভারে লখনউয়ের হয়ে ব্যাট করতে নামেন নিকোলাস পুরান ও আইদেন মারক্রাম। কেকেআর-এর হয়ে বল হাতে দেখা যায় সুনীল নারিনকে। প্রথম বলেই বোল্ড হয়ে ফেরেন পুরান। তিন নম্বরে ব্যাট করতে নামেন ঋষভ পন্থ। তৃতীয় বলে ফেরেন মারক্রাম। আবার সেই রিঙ্কুর ক্যাচ, যদিও বড় ভূমিকা নেন পাওয়েল। প্রথম ক্যাচটি ধরেন তিনিই কিন্তু শরীরের ভারসাম্য ধরে রাখতে না পেরে সেই বল ছুড়ে দেন হাওয়ায়, আর তা মুষ্টিবদ্ধ করে এই ম্যাচে নিজের পঞ্চম ক্যাচটি নেন রিঙ্কু। সুপার ওভারে ২ উইকেটে মাত্র ১ রানই তুলতে পারে লখনউ, পুরো ওভারও খেলতে পারেনি লখনউয়ের ব্যাটাররা। সুপার ওভারে এটিই সর্বোনিম্ন স্কোর, এর আগে ছিল ২ রান। কলকাতার হয়ে ২ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নামেন রোভমান পাওয়েল ও রিঙ্কু সিং। লখনউয়ের বোলার ছিলেন প্রিন্স যাদব। প্রথম বলেই বাউন্ডারি হাঁকিয়ে জয় নিশ্চিত করেন সেই রিঙ্কু সিং, কেকেআর সহঅধিনায়ক। এদিনের ম্যান অফ দ্য ম্যাচ তিনিই।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
