অলস্পোর্ট ডেস্ক: ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে আছেন ১১ জানুয়ারি থেকে শুরু ভারত-নিউজিল্যান্ড একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সিরিজ ঘিরে। দু’দলই তাদের দল ঘোষণা করেছে। ভারতীয় দলে সকলের চোখ যখন থাকবে বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মার দিকে, তখন নিউজিল্যান্ড শিবিরে নজর কাড়ার অপেক্ষায় ২৩ বছর বয়সী লেগ স্পিনার আদিত্য অশোক। ভারতীয় বংশদ্ভূত, বর্তমানে নিউজিল্যান্ডের নাগরিক আদিত্যর অভিষেক ঘটার সম্ভাবনা এবার ভারতের মাটিতে দলে আর এক স্পিনার ইস সোধি না থাকায়।
২৩ বছর বয়সী নবীন লেগ স্পিনারের জন্ম তামিলনাড়ুর ভেলোরে ২০০২ সালের ৫ সেপ্টেম্বরে। যখন ৪ বছর বয়স, তখন আদিত্য অশোক পরিবারের সঙ্গে পাকাপাকিভাবে নিউজিল্যান্ড চলে যান। ওখানেই জুনিয়র স্তর থেকে নিউজিল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেট ধীরে ধীরে নিজের প্রতিভা মেলে ধরেন। সিনিয়র দলেও জায়গা করে নেন দক্ষতার জোরে। ২০২৩য়ে নিউজিল্যান্ডের হয়ে আন্তর্জাতিক আঙিনায় অভিষেকও ঘটে তাঁর। তখন থেকে তিনি দুটি একদিনের আন্তর্জাতিক ও টি২০ ক্রিকেট ম্যাচে অংশ নিয়েছেন। দু’টি ফরম্যাটেই পেয়েছেন ১টি করে উইকেট।
২০২৫-২৬ মরশুমে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট সেন্ট্রাল কন্ট্র্যাক্ট লিস্টের অন্তর্ভুক্তি ঘটেছে আদিত্য অশোকের। বোর্ড তাঁকে যথেষ্ট যোগ্য মনে করায়। নিউজিল্যান্ডের নাগরিকত্ব নিলেও ভারতে ঘন ঘন যাওয়া আসা আছে তাঁর পরিবারের সঙ্গে। গতবছর আইপিএলের দল চেন্নাই সুপার কিংস অ্যাকাদেমিতে অনুশীলন করেন তিনি। সেইসূত্রে ভারতের ক্রিকেট পিচ সম্পর্কে বেশ ভাল ধারনা আছে তাঁর। সেই অভিজ্ঞতা ভারতীয় ব্যাটারদের ঘায়েল করতে নিদর বোলিংয়ে প্রয়োগ করতে তৈরি আদিত্য। নিউজিল্যান্ড আসন্ন সিরিজের জন্য ব্রেসওয়েলকে অধিনায়ক নির্বাচিত করেছে। বর্ষীয়ান স্পিনার ইস সোধিকে এবার দলে না রেখে নবীন আদিত্য অশোকের ওপর বেশি নির্ভর করছে নিউজিল্যান্ড। মনে করা হচ্ছে তিনটি একদিনের ম্যাচে আদিত্যকে খেলতে দেখা যাবে ভারতের বিরুদ্ধে।
অতীতে ভারতের মাটিতে ৪০টি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে নিউজিল্যান্ড মাত্র জয় পেয়েছে ৮ ম্যাচে, হেরেছে ৩১ ম্যাচ। আদিত্য অশোকের লেগ স্পিনের জাদুতে নিউজিল্যান্ড সেই পরিসংখ্যানে কিছুটা উন্নতি ঘটাতে পারে কিনা,সেটা এখন দেখার। হাতে সুপারস্টার রজনীকান্তের সিনেমা ‘পারায়াপ্পার’ বিখ্যাত ডায়ালগের ট্যাটু আঁকা আদিত্যর। তামিল ভাষায় ডায়ালগ, ‘এন ভাজি থানি ভাজি’। যার অর্থ , ‘ আমরা পথ সবসময়ই একটু বিশেষ ধরনের।’ বেশ উত্তেজিত ভারতের মাটিতে বরোদা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুশীলন সারার সময়। আদিত্য বলেন, ‘ আমি মুখিয়ে আছি নিউজিল্যান্ডের হয়ে ভারতের মাটিতে প্রথমবার খেলার জন্য। এটা আমার কাছে একটা দারুন অনুভূতি হবে খেলার সুযোগ পেলে। এর আগে আমার দেশের যে সমস্ত মহান ক্রিকেটাররা এখানে খেলে গেছেন, তাঁদের কাছে ভারতের ক্রিকেটপ্রেমী মানুষের খেলার প্রতি ভালবাসা ও উন্মাদনার গল্প শুনেছি। এবার সেটা নিজে প্রত্যক্ষ করার সুযোগ পাব।’ আদিত্যর চোখে সর্বকালের সেরা লেগ স্পিনার শ্যেন ওয়ার্ন। তবে স্কুল জীবন থেকে ইস সোধিকে দেখে বড় হওয়া আদিত্য তাঁকেই আদর্শ হিসেবে মানেন। টি২০ বিশ্বকাপে ইস সোধি নিউজিল্যান্ড দলে থাকবেন।
আদিত্য জানিয়েছেন, খেলোয়াড় জীবনের পাশাপাশি মানুষ হিসেবে বড় হয়ে ওঠার প্রেরণা তিনি সবসময় পেয়েছেন তাঁর প্রয়াত দাদুর কাছে। দাদুর কাছ থেকে জীবনের মূল্যবোধ পাঠ পেয়েছেন তিনি। আদিত্য বলেন, যখন দাদুর বাড়িতে নানা বিষয়ে আলোচনা হত, তখন একবার রজনীকান্তের একটি সিনেমা চলছিল। সেটা দেখেই এই ট্যাটু করার কথা মাথায় আসা। অনেকেই এনিয়ে জানতে চায়। তবে ওই ডায়লগটা আমার মাথায় গেঁথে গিয়েছিল। দাদুর সঙ্গে সেদিনের কথপোকথনও। তারপরই আমার দাদু প্রয়াত হন। তাঁর সঙ্গে কথা বলা, সময় কাটানোটা আমার সারাজীবনের পাথেয় হয়ে থেকে গেছে। ভারতের মাটিতে নিজের সেরা দিয়ে দাদুর সুনাম অক্ষুন্ন রাখাই প্রধান লক্ষ্য, নিউজিল্যান্ডের মানুষের প্রত্যাশাপূরণের পাশাপাশি।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
