অলস্পোর্ট ডেস্ক: কলকাতায় এই ম্যাচের উত্তেজনাই আলাদা। তার উপর ৬ এপ্রিল ম্যাচ রামনবমীর জন্য পিছিয়ে ৮ এপ্রিল করা হয়েছে। যে কারণে একটু হলেও ধাক্কা খেয়েছে দর্শক সংখ্যা। এক তো দুপুরের ম্যাাচ তাও আবার সপ্তাহের শুরুতে কাজের দিন। যে কারণে দর্শক সংখ্যায় কিছুটা পিছিয়ে থাকল ইডেন গার্ডেন। ৪৫ হাজারের মতো দর্শক এদিন কলকাতা বনাম লখনউ ম্যাচ দেখল গ্যালারিতে বসে। একদিন আগেই আইএসএল সেমিফইনালে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মোহনবাগানকে সমর্থন করতে হাজির হয়েছিলেন লখনউ অধিনায়ক ঋষভ পন্থ। আর দিন মোহনবাগানের বেশ কয়েকজন বিদেশিকে দেখা গেল ক্রিকেট মাঠে। কারণ অবশ্যই দুই দলের অন্যতম মালিক সঞ্জীব গোয়েঙ্কা। তাঁর সামনেই শেষ পর্যন্ত লড়াই দিয়ে কলকাতার ঘরের মাঠ থেকে জয় ছিনিয়ে নিয়ে গেল লখনউ।
মঙ্গলবার টস জিতে প্রথমে লখনউকে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিলেন কেকেআর অধিনায়ক অজিঙ্ক রাহানে। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে প্রথম তিন ব্যাটারের দাপটে নির্ধারিত ওভারে মাত্র তিন উইকেট হারিয়ে ২৩৮ রানে পৌঁছে যায় নবাবেব শহর। যে লক্ষ্যে পৌঁছতেব্যর্থ হোম টিম। যার পিছনে দলের বোলিং ব্যর্থতা অনেকটাই দায়ী। এদিন লখনউয়ের হয়ে ওপেন করতে নেমেছিলেন আইদেন মারক্রাম ও মিচেল মার্শ। ৯ রানে ওপেনিং জুটিতে বড় রানের ঠিকানা লেখা ছিল। মারক্রাম ৪৭ রানে প্যাভেলিয়নে ফিরে যাওয়ার পর মার্শের সঙ্গে ব্যাট করতে নামেন নিকোলাস পুরান। তিনিই শেষ পর্যন্ত ক্রিজে টিকে থেকে দলের রানের গতি ধরে রাখেন।
৪৮ বলে ছ’টি বাউন্ডাটি ও পাঁচটি ওভার বাউন্ডারি হাঁকয়ে ৮১ রানের ইনিংস খেলেন মিচেল মার্শ। তিন নম্বরে নেমে ৩৬ বলে সাতটি বাউন্ডারি ও আটটি ওভার বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ৮৭ রান করে অপরাজত থাকেন পুরান। এছাড় ৬ রান করে আউট হন আব্দুল সামাদ। ৪ রানে অপরাজিত থাকেন ডেভিড মিলার।নাইটদের হয়ে দুই উইকেট নেন হর্ষিত রানা। এক উইকেট আন্দ্রে রাসেলের। গত ম্যাচের তারকা বোলার বৈভব অরোরার ভাড়ার এদিন শূন্য। চমক দেখাতে পারেননি দলের মিস্ট্রি বোলার বরুণ চক্রবর্থীও। শূন্য হাতে ফিরতে হয় সুনী নারিন, স্পেনসার জনসনদেরও।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে লক্ষ্য থেকে মাত্র ৪ রান পিছেনই থামতে হল কলকাতা নাইট রাইডার্সকে। কুইন্টন ডে কক ও সুনীল নারিনের জুটি দলের ভিত গড়ে দিতে পারেনি। কুইন্টন মমাত্র ১৫ রানে ফিরে যান। এর পর তিন নম্বরে নেমে অনেকটা লড়াই দেন অধিনাযক রাহানে। নারিনের ১৩ বলে ৩০ রানের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ব্যাটে ঝড় তোলেন রাহানে। ৩৫ বলে ৬১ রানের ইনিংস খেলেন। কেকেআর-এর হয়ে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রান এটিই। এর পর কিছুটা চেষ্টা করেন সহঅধিনাযক ভেঙ্কটেশ আইয়ার। ৪৫ রান করে আউট হন। ১৬৬ রানে দলের প্রথম চার ব্যাটসম্যান ফিরে গেলে আআার কেউ তেমনভাবে দলের হাল ধরতে পারেননি।
রমনদীপ সিং ১, অঙ্গকৃশ রঘুবংশী ৫ ও আন্দ্রে রাসেল ৭ রান করে আউট হয়ে যান। ১৬৬-৪ থেকে ১৮৫-৭ হয়ে যাওয়ার পর নিজের বিগ হিটিংয়ের সাহায্যে চেষ্টা করেন রিঙ্কু সিংও। কিন্তু ততক্ষণে অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে রান। ১৫ বলে ছ’টি বাউন্ডারি ও দু’টি ওভার বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ৩৮ রান করে অপরাজিত থাকেন রিঙ্কু। ১০ রানে অপরাজিত থাকেন হর্ষিত রানা। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ২৩৪-৭-এ থামে কেকেআর। এদিন বল হাতে উইকেট পেলেন লখনউয়ের সব বোলারই। দুটো করে উইকেট তুলে নেন আকাশ দীপ ও শার্দূল ঠাকুর। একটি করে উইকেট আভেশ খান, দিগভেশ রাঠি ও রবি বিষ্ণোইয়ের।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার
