এখনও প্লে অফে ওঠার আশা দেখতে পারে কেকেআর। ছবি সৌজন্যে ট্যুইটার
অলস্পোর্ট ডেস্কঃ রাজস্থানের বিরুদ্ধে হেরেও কঠিন অঙ্কে এখনও প্লে অফে উঠতে পারে কেকেআর। কিন্তু পারমুটেশন-কম্বিনেশন অনুযায়ী অনেক যদি কিন্তুর ব্যাপার রয়েছে। ইডেন গার্ডেন্সে ৬.৫ ওভার বাকি থাকতে রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে নয় উইকেটে হারের পর প্লে-অফের ওঠার ক্ষেত্রে কেকেআরের সেই পারমুটেশন-কম্বিনেশন আরও কঠিন হয়ে গিয়েছে।
আইপিএলের প্লে-অফে ওঠার ক্ষেত্রে কেকেআরকে বাকি দুটি ম্যাচে জিততেই হবে চেন্নাই সুপার কিংস এবং লখনউ সুপার জায়েন্টস এর বিরুদ্ধে। তাহলে ১৪ ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট হবে। তবেই প্লে-অফে ওঠার কোনও সুযোগ থাকবে। একটি ম্যাচ হারলেই মোটামুটি বিদায় নিশ্চিত।
১১ ম্যাচে গুজরাটের ঝুলিতে আছে ১৬ পয়েন্ট। অর্থাৎ কেকেআরের ধরাছোঁয়ার বাইরে আছেন হার্দিক পান্ডিয়ারা। সেক্ষেত্রে কেকেআর চাইবে যে বাকি তিনটি ম্যাচেই (মুম্বই ইন্ডিয়ান্স, রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু এবং সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে জিতে যাক গুজরাট। তাতে নাইটদের কিছুটা সুবিধা হবে।
ধোনিদেরও ছুঁতে পারবে না কেকেআর। ১২ ম্যাচে সিএসকের পয়েন্ট ১৫। চেন্নাইয়ের যে দুটি ম্যাচ বাকি আছে, তার মধ্যে একটি ম্যাচে কেকেআরের বিরুদ্ধে নামবে। ওই লড়াইয়ে তো কেকেআরকে জিততেই হবে। সেই ম্যাচের যখন দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে নামবেন ধোনিরা, তখন চেন্নাইয়ের হয়ে গলা ফাটাবে কেকেআর। কারণ চেন্নাই যদি দিল্লিকে হারিয়ে দেয়, তাহলে প্লে-অফের এক কাঁটা উপড়ে যাবে। তবে দিল্লির নিজেরই হাল খারাপ। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের দলকেও অঙ্ক কষতে হচ্ছে।
কেকেআরকে হারানোর পর ১২ ম্যাচে সঞ্জু স্যামসনদের পয়েন্ট ১২। কেকেআরের প্লে-অফে ওঠার পারমুটেশন-কম্বিনেশনে রাজস্থানের বাকি দুটি ম্যাচের গুরুত্ব অত্যন্ত অপরিসীম। কারণ যে দুটি দলের বিরুদ্ধে খেলবে রাজস্থান, সেই দুটি দলও প্লে-অফের লড়াইয়ে আছে। সেই পরিস্থিতিতে কেকেআর চাইবে যে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকে হারিয়ে দিক রাজস্থান। কিন্তু পঞ্জাব কিংসের বিরুদ্ধে হেরে যাক।
সেক্ষেত্রে রাজস্থানের পয়েন্ট হবে ১৪। আরসিবিরও তাই হবে (বাকি দুটি ম্যাচে জিতলে)। আর তখন নেট রানরেটের নিরিখে পুরো বিষয়টা বিবেচনা করা হবে। আর নেট রানরেটের নিরিখে কেকেআরের থেকে অনেক এগিয়ে আছে রাজস্থান (০.৬৩৩)। সেখানে আরসিবি (-০.৩৪৫) এবং কেকেআরের নেট রানরেট (-০.৩৫৭) মোটামুটি একই জায়গায় আছে। কিছুটা বড় ব্যবধানে জিতলেই আরসিবির নেট রানরেট ছাপিয়ে যাবে কেকেআর।
তবে পঞ্জাবের বিরুদ্ধে রাজস্থান জিতে গেলেও খুব একটা সমস্যা হবে না কেকেআরের। কারণ প্লে-অফের ওঠার জন্য কেকেআরের কাছে একটি জায়গাই পড়ে থাকবে। বাকি ফলগুলি কেকেআরের পক্ষে গেলে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ দল হিসেবে প্লে-অফে উঠে যাবে। রাজস্থান ১৪ পয়েন্টে শেষ করলেও বিশেষ কোনও সুবিধা হবে না কেকেআরের। কারণ তৃতীয় এবং চতুর্থ দলকে সেই ‘এলিমিনেটর’-এ খেলতে হবে।
১১ ম্যাচে রোহিত শর্মাদের পয়েন্ট ১২। আজ যখন গুজরাটের বিরুদ্ধে নামবে মুম্বই, তখন হার্দিকদের হয়ে গলা ফাটাবে কেকেআর। মুম্বইয়ের বাকি দুটি ম্যাচেও (লখনউ সুপার জায়েন্টস এবং সানরাইজার্স হায়দরাবাদ) রোহিতদের হার চাইবেন নাইটরা। অর্থাৎ কেকেআর চাইবে যে বাকি তিনটি ম্যাচেই হেরে যাক মুম্বই। সেক্ষেত্রে ১২ পয়েন্ট হয়ে প্লে-অফের লড়াই থেকে ছিটকে যাবে।
১১ ম্যাচে গৌতম গম্ভীরদের ঝুলিতে আছে ১১ পয়েন্ট। একটি ম্যাচ কেকেআরের বিরুদ্ধে খেলবে লখনউ। সেই ম্যাচে অবশ্যই জিততে হবে কেকেআরকে। যে ম্যাচটি গ্রুপ পর্যায়ে কেকেআর এবং লখনউয়ের শেষ ম্যাচ। তার আগে সানরাইজার্স এবং মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে খেলবেন গম্ভীররা। কেকেআর চাইবে যে সানরাইজার্সের কাছে হেরে যাক লখনউ। মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে জিতে যাক। তাহলে ১৪ ম্যাচে লখনউয়ের পয়েন্ট হবে ১৩। তাহলে কেকেআরের নীচে শেষ করবে।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
