সুচরিতা সেন চৌধুরী: এ এক অদ্ভুত আবেগ। প্রতিদিন দলের সঙ্গে মাঠে নামছেন কিন্তু জানেন খেলতে পারবেন না।কবে পুরো সুস্থ হয়ে খেলতে পারবেন তা নিয়েও নিশ্চয়তা নেই। এই অবস্থায় আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি হবে এটাই স্বাভাবিক কিন্তু তিনি এক মুহূর্তের জন্যও নিজের আত্মবিশ্বাসকে কমতে দেননি, বরং নিজের কাজ করে গিয়েছেন ফিট হওয়ার জন্য। শেষ পর্যন্ত কাজে দিয়েছে সেই দাঁতচাপা লড়াই। লড়াই তো বটেই, ইডেন গার্ডেন্সে আইপিএল ২০২৪-এর প্রথম ম্যাচে হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে দলের প্রথম ম্যাচে জয়ে ভূমিকা রাখার পর থেকে আর তাঁকে ম্যাচো দেখা যায়নি। দলের কেউই তাঁর ফেরা প্রসঙ্গে কোনও সঠিক তথ্যও দিতে পারেননি। ১০ ম্যাচ বাইরে বসে থাকার পর যখন ফিরলেন তখন সেটা মোক্ষম সময়। দল প্লে-অফ নিশ্চিত করল।
তিনি নীতিশ রানা। গত মরসুমে শ্রেয়াস আইয়ারের চোটে হঠাৎ করেই দলের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিতে হয়েছিল। দল তেমনভাবে কিছু করতে পারেননি ঠিকই কিন্তু হঠাৎ আসা দায়িত্ব পালন করে গিয়েছেন শেষ পর্যন্ত। এবার সেই অধিনায়কত্বের চাপ ছাড়াই নিজের সেরাটা দেওয়ার সুযোগ ছিল ব্যাট হাতে। কিন্তু শুরুতেই সমস্যায় ফেলেছিল চোট। শেষ পর্যন্ত মাঠে ফিরলেন। শুধু ফিরলেন না দারুণভাবে ফিরলেন। তখন ৭৭ রানে দলের চার উইকেট চলে গিয়েছে। দলের কঠিন সময়ে ব্যাট হাতে ২৩ বলে ৩৩ রান করলেন। এই ফেরাটা তাঁর পাশাপাশি দলের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বলছিলেন, ‘‘গতরাতে আমি ঘুমোতে পারিনি। প্রচন্ড উত্তেজনা হচ্ছিল যেন প্রথম আইপিএল ম্যাচ খেলতে নামছি। এর সঙ্গে মনে হচ্ছিল এতদিন পরে খেলতে নামছি আমি কতটা ভাল খেলতে পারব। আমি ম্যাচের দিন সকাল ৮টার পর ঘুমোতে গিয়েছি।’’ নীতিশকে আরও একটি বিষয় তাড়া করছিল। তাঁর উপর যে বিশ্বাস টিম ম্যানেজমেন্ট রেখেছে তার সম্মান রাখা।বলছিলেন, ‘‘টিম ম্যানেজমেন্ট আমার উপর আস্থা রেখেছিল। ১০ ম্যাচ পর আমি দলে ফিরেছিলাম। একজন নিয়মিত প্লেয়ারকে বসিয়ে আমাকে জায়গা করে দেওয়া হয়েছিল। সব মিলে একটা চাপা টেনশন কাজ করছিল। শেষ পর্যন্ত দলের কঠিন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ৩৩ রান করতে পেরেছি, সেটা গুরুত্বপূর্ণ।’’
দলে ফিরে আজ যখন পিছন ফেরে সেই ২০-২২ দিনের লড়াই দেখেন নীতিশ রানা তখন নিশ্চই আঁতকে ওঠেন। তাঁকে দেখা যেত মাঠের মধ্যে একা একা বসে থাকতে দলের অনুশীলনের দিকে তাকিয়ে। কারণ শুরুতে অনুশীলন করার মতো অবস্থা ছিল না। মাঠে ফিরে সেই সময়ের কথা ভাগ করে নিলেন নীতিশ। বলছিলেন, ‘‘প্রথম ২০-২২ দিন আমি ব্যাট ছুঁতে পারিনি। তার পর একহাতে ব্যাট করা শুরু করি। আমি যখন একা বসে থাকতাম তখনও আমার মাথার মধ্যে খেলার পরিকল্পনা চলত।’’ চোটের সময় মনে মনেই ক্রিকেট খেলতেন নীতিশ। তৈরি করতেন নিজের স্ট্র্যাটেজি, ব্যাটিং পদ্ধতি।
সঠিক সময়েই দলে ফিরেছেন তিনি। ইতিমধ্যেই প্লে-অফে পৌঁছে গিয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। বাকি আর দুটো লিগ ম্যাচ। সোমবার আহমেদাবাদে কলকাতার সামনে শুভমান গিলের গুজরাট টাইটান্স। আর ১৯ মে গুয়াহাটিতে কেকেআর খেলবে রাজস্থানের বিরুদ্ধে। এর পরই প্লে-অফ। যেখানে নীতিশ রানার উপস্থিতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি এই ম্যাচে ব্যাট হাতে ফিরলেও তাঁর মুখে ছিল বোলারদের প্রশংসা। যাঁরা এবার বাজিমাত করেছেন। তাঁর কথাতেই যে বোলারদের কেকেআর নিয়েছিল তাঁরাই আজকে বাজিমাত করছেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম হর্ষিত রানা।
তিনি বলছিলেন, ‘‘একজন ভাল বোলার সব সময়ই ভালই। হর্ষিতকে যখন দেখেছিলাম মনে হয়েছিল ও পারবে। এমন কী বৈভবও (অরোরা) খুব ভাল বল করছে। অনেক প্লেয়ারই ট্রায়ালে আসে। সেখান থেকে কে খেলবে সেটা ম্যানেজমেন্টই সিদ্ধান্ত নেয়। এই প্লেয়ারদের দলে নেওয়ার কৃতিত্ব ম্যানেজমেন্টেরই।’’ পাশাপাশি তিনি দলের সাফল্যের জন্য কৃতিত্ব দিচ্ছেন কোচ চন্দ্রকান্ত পণ্ডিত ও গৈতম গম্ভীরকে। বলছিলেন, ‘‘এই বছর আমাদের দলের মূল কথা হচ্ছে একে অপরের উপর বিশ্বাস। সেটা গত কয়েকবছর ছিল না। আমরা ভাল ক্রিকেট খেলছি। এর কৃতিত্ব চান্দু ভাই ও গৌতম গম্ভীরের। তার সব থেকে বড় উদাহরণ আমি নিজে। ওরা কতটা আমার উপর আস্থা রেখেছিল।’’
তিনিও সবার ভরসার মান রেখেছেন তাঁর ব্যাটে। ১০ ম্যাচ পর মাঠে ফিরে প্রমান করে দিয়েছেন তাঁর উপর বিশ্বাস রাখাটা ভুল ছিল না। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দলে ফিরেছেন নীতিশ যা কেকেআর-এর জন্যও স্বস্তির। এবার চ্যাম্পিয়নের ট্রফি দেখছে কেকেআর ভক্তরা। সেখানে যে বড় ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত নীতিশ রানা তার প্রমান শনিবার মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে ম্যাচে প্রমান হয়ে গিয়েছে।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার
