অলস্পোর্ট ডেস্ক: দিল্লি ক্যাপিটালসের বিপক্ষে ম্যাচ-জয়ী ইনিংস খেলার পর, পঞ্জাব কিংসের প্রধান কোচ রিকি পন্টিং অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ারের প্রশংসায় কোনও কার্পণ্য করেননি। একটি রেকর্ড ব্রেকিং রান তাড়ার পর, পন্টিং জানান যে আইয়ারের নেতৃত্বগুণই ছিল সেই মূল কারণ, যার জন্য আইপিএল নিলামে পঞ্জাব কিংস (পিবিকেএস) তাঁকে দলে নিতে সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়েছিল। ম্যাচ শেষে কথা বলার সময়, আইয়ারের ব্যক্তিত্ব এবং রান তাড়া করে ম্যাচ শেষ করার দক্ষতা—উভয়কেই তাঁর বৈশিষ্ট্য হিসেবে তুলে ধরেন রিকি পন্টিং।
‘‘সে একজন অসাধারণ মানুষ, এবং এটিই সেই কারণগুলোর একটি যার জন্য নিলামে আমি তাকে দলে পেতে এতটা জোর দিয়েছিলাম। আমি জানতাম যে, আমরা যখন এই দল এবং ফ্র্যাঞ্চাইজিকে নতুন করে গড়ে তোলার চেষ্টা করছি, তখন সে আমাদের জন্য একজন দুর্দান্ত নেতা হিসেবে আবির্ভূত হবে,’’ পন্টিং বলেন।
‘‘একটি বিষয় আমি নিশ্চিতভাবে জানি যে, রান তাড়ার সময় যদি সে শেষ পর্যন্ত ক্রিজে টিকে থাকে, তবে আমরা খুব বেশি ম্যাচে হারব না। এমনকি আজকের রাতেও, আমি একাদশ বা দ্বাদশ ওভারের দিকে মাঠে নেমেছিলাম, তাকে কাছে ডেকে বলেছিলাম—’তুমি যদি শেষ পর্যন্ত ক্রিজে থাকো, তবে আমরা এই ম্যাচটি জিতবই।’ এবং সে আবারও সেটাই করে দেখাল। এর পুরো কৃতিত্ব তারই প্রাপ্য; পাশাপাশি দলের বাকি সব খেলোয়াড়েরও কৃতিত্ব প্রাপ্য, যারা তার ওপর পূর্ণ আস্থা রেখেছিল,’’ তিনি আরও যোগ করেন।
গত ২৫ এপ্রিল দিল্লি ক্যাপিটালসের বিপক্ষে ২৬৫ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করে পঞ্জাবকে আইপিএল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় জয় এনে দেওয়ার পরেই পন্টিং এই মন্তব্যগুলো করেন।
২৬৫ রানের মতো একটি কঠিন লক্ষ্য তাড়া করার সময়ও পঞ্জাব কিংস দলের মধ্যে বিন্দুমাত্র উদ্বেগের ছাপ দেখা যায়নি—আর ড্রেসিংরুমের ভেতরে এই মানসিকতা নিশ্চিত করেছিলেন স্বয়ং আইয়ার। কেএল রাহুলকে ১৫২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলতে এবং নিতিশ রানাকে ৯১ রান যোগ করে দিল্লিকে ২৬৪/২ স্কোরে পৌঁছে দিতে দেখার পরেও, আইয়ারের তাঁর সতীর্থদের প্রতি বার্তা ছিল, সহজ ও শান্ত থাকার।
সেই মানসিক স্বচ্ছতার প্রতিফলন মাঠেও তাৎক্ষণিকভাবে দেখা যায়। প্রভসিমরান সিং এবং প্রিয়াংশ আর্য ইনিংসের শুরুতেই এক বিধ্বংসী আক্রমণ শানান; মাত্র ৬.৫ ওভারের মধ্যে কোনও উইকেট না হারিয়েই তারা ১২৬ রান তুলে ফেলেন এবং রান তাড়ার কাজটিকে অনেকটাই সহজ করে দেন।
জয়ের মঞ্চ প্রস্তুত হয়ে যাওয়ার পর, আইয়ার ইনিংসের নিয়ন্ত্রণ নিতে ক্রিজে নামেন। তিনি শুরুর দিকের সেই ঝড়ো গতির সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার চেষ্টা করেননি; বরং অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার সৱঙ্গে রানের গতিপথ নিয়ন্ত্রণ করে এবং হাতে উইকেট রেখে পঞ্জাবকে জয়ের সঠিক পথে ধরে রাখেন। মাঠের মাঝখানে তাঁর উপস্থিতি পিবিকেএস-কে চাপ সামলে নিয়ে শক্তিশালীভাবে ইনিংস শেষ করতে সাহায্য করেছিল; এর মাধ্যমেই টি২০ ইতিহাসের সর্বোচ্চ সফল রান তাড়ার রেকর্ডটিও ছুয়ে ফেলতে সাহায্য করে।এই জয় পঞ্জাবের এই মরসুমের দুর্দান্ত সূচনাকে আরও সুদৃঢ় করেছে, কারণ ছয়টি ম্যাচের মধ্যে পাঁচটিতে জয় নিয়ে তারা এখনও অপরাজিত রয়েছে।
আইয়ারের এই ইনিংসটি ছিল চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যেও নিখুঁত নিয়ন্ত্রণের এক অনন্য নিদর্শন। তিনি ৩৬ বলে ৭১ রান করে অপরাজিত থাকেন; তিনটি চার ও সাতটি ছক্কার সাহায্যে তিনি রান তাড়ার পুরো দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন, আর তাঁর পাশে থেকে বাকিরা তাঁকে সঙ্গ দিয়ে যান। বিষয়টি কেবল সংগৃহীত রানের সংখ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং সেই রানগুলো ঠিক কোন সময়ে এসেছিল—সেটাই ছিল আসল কথা। তাঁর মারা প্রতিটি বাউন্ডারি নিশ্চিত করেছিল যে, দিল্লি যেন আর কখনওই ম্যাচে ফিরে আসার সুযোগ না পায়।
ভাগ্যের সহায়তা পাওয়ার মুহূর্তও ছিল। কুলদীপ যাদবের বলে দু’বার ক্যাচ ফসকে গিয়েছিল আইয়ারের—দু’বারই ক্যাচটি ফেলেছিলেন পরিবর্ত ফিল্ডার করুণ নায়ার; তখন আইয়ারের ব্যক্তিগত রান ছিল যথাক্রমে ২৮ ও ৩৫। এই সুযোগ হাতছাড়া করার জন্য দিল্লিকে চড়া মূল্য দিতে হয়; প্রথমবার জীবন পাওয়ার পর আইয়ার একাই আরও ৪৩ রান যোগ করেছিলেন।
এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তিনি শেষ পর্যন্ত ক্রিজে টিকে ছিলেন। আর পন্টিং যেমনটা উল্লেখ করেছেন, ঠিক এই জায়গাতেই আইয়ার সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক হয়ে ওঠেন।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
