ছবি—বিসিসিআই এক্স
অলস্পোর্ট ডেস্ক: দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে সুপার আটের ম্যাচে ৭৬ রানের হারে আইসিসি টি২০ বিশ্বকাপের খেতাব ধরে লড়াইয়ে যে ভারতীয় দল কিছুটা পিছিয়ে পড়ছে, এটা মানছেন অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। একইসঙ্গে তাঁর জোরালো বক্তব্য, এই হার থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রতিযোগিতার বাকি ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া সেমিফাইনালে ওঠার আশা জিইয়ে রাখতে।
আইসিসির সাদা বলের টুর্নামেন্টে এতদিন পর্যন্ত ১৮ ম্যাচের জয়ের ধারা অব্যাহত ছিল। ২০২৪ টি২০ বিশ্বকাপে অপরাজিত থাকার পর চ্যাম্পিয়নশিপ ট্রফিতেও কোনও ম্যাচ হারেনি ভারত। এবার টি২০ বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হারের আগে শেষবার সাদা বলের ক্রিকেটে শেষবার ভারত হেরেছিল ২০২৩ সালে এই আমেদাবাদের মাঠেই অস্ট্রেলিয়ার কাছে একদিনের বিশ্বকাপের ফাইনালে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে রবিবারের ৭৬ রানে হারটা টি২০ বিশ্বকাপে ভারতের সবচেয়ে বড় হার। ১৬ বছর আগে ব্রিজটাউনে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ৪৯ রানে হারটা এতদিন পর্যন্ত ছিল বড় হার। সবধরনের টি২০ ফরম্যাটে ২০১৯ সালে নিউজিল্যান্ডের কাছে ওয়েলিংটনের মাঠে ৮০ রানে ভারতের হারটা এখনও সব হারকে ছাপিয়ে এগিয়ে আছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সুপার আটে এই বিপর্যয়ের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ম্যাচ শেষে ব্রডকাস্টারদের ভারতের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব বলেন, ‘ ১৮৮ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে পাওয়ার প্লেতে জয়ের ভিত গড়তে ব্যর্থ হলে, ম্যাচ জেতা সবসময়ই কঠিন হয়ে পড়ে। মনে করি একটু ভেবেচিন্তে আমাদের ব্যাট করা উচিত ছিল। ১৮০ থেকে ১৮৫ রান তাড়া করতে গিয়ে শুধুমাত্র পাওয়ার প্লেতে ম্যাচ জেতা সম্ভব নয়। কিন্তু পাওয়ার প্লেতে ম্যাচটা হারার সম্ভাবনা থাকে প্রবল। যেটা দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে আমাদের হয়েছে।আমরা পাওয়ার প্লেতে অনেক বেশি উইকেট খুইয়েছি। তারপর যে ছোট ছোট পার্টনারশিপ গড়ে তোলার প্রয়োজন ছিল আমাদের টার্গেটে পৌঁছতে, তা কখনওই পারিনি। এটা অবশ্য বলতে পারেন, খেলারই অঙ্গ। সবদিন সমান যায় না। অনেক অঙ্ক মেলে না।’
যশপ্রীত বুমরা ও আর্শদীপ সিংয়ের বোলিংয়ের দাপটে দক্ষিণ আফ্রিকা একসময় ২১ রানে ৩ উইকেট খুইয়ে ধুঁকছিল। সেখান থেকে ব্যাটিংয়ে হাল ধরে ডেভিড মিলার ও ডিওয়াল্ড ব্রেভিস জুটি দক্ষিণ আফ্রিকার রান তুলে নিয়ে যান ১৮৭-৭য়ে। এনিয়ে সূর্যকুমারের প্রতিক্রিয়া, ‘ আমি মনে করি ম্যাচের দখল আমাদের হাতেই ছিল শুরুতে। বোলারদের সৌজন্যে দক্ষিণ আফ্রিকার ৩ উইকেট ২১ রানে ফেলে দিয়ে। কিন্তু তারপর ৭ থেকে ১৫ ওভারের মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটাররা দারুনভাবে ঘুরে দাঁড়ায়। পরের দিকেও বড় রান তোলে ওভারে। তবু বলব বোলাররা তাদের ভূমিকা যথাযথ ভাবেই পালন করেছিল। কিন্তু আমরা ব্যাটাররা সেটা পারিনি। ১৮৮ রান তাড়া করতে নেমে যেভাবে ব্যাট করা উচিত ছিল, সেটা হয়নি শুরু থেকেই উইকেট পড়তে থাকায়। তবে যেটা হয়ে গেছে, সেটা নিয়ে আর ভেবে কোনও লাভ নেই। বরং এর থেকে শিক্ষা নিয়ে বাকি ম্যাচগুলো জিতে প্রথমে সেমিফানালে ওঠার আশাটা জিইয়ে রাখতে হবে। তারপর আবার নতুন করে ভাবা যাবে।’
সুপার আটে ভারতীয় দলের পরের ম্যাচ চেন্নাইয়ের মাঠে ২৬ ফেব্রুয়ারি জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে। ১ মার্চ ইডেনে ভারত মুখোমুখি হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
