তিতাস সাধু
অলস্পোর্ট ডেস্ক: তিতাস সাধু এশিয়ান গেমসে মহিলাদের ক্রিকেটে একা হাতে শ্রীলঙ্কা বধ করেছেন এবং দলকে সোনা জিততে সাহায্য করেছেন। এদিন ভারতের অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর তৃতীয় ওভারে বাংলার মেয়ের হাতে বল তুলে দেন। প্রথম বলেই শ্রীলঙ্কার ওপেনিং জুটি ভাঙেন তিতাস। চার ওভার বল করে মাত্র ছয় রান দিয়ে ম্যাচে তিন উইকেট ছিনিয়ে নেন তিনি। প্রাক্তন ভারতীয় খেলোয়াড় ঝুলন গোস্বামীর কাছে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন তিনি। ঠিক যেমন ঝুলন একসময় ভারতের জন্য খেলেছিলেন, এখন তাঁরই পথ অবলম্বন করছেন তিতাস।
তিতাসের বাবা রণদীপ সাধু এক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘‘বাংলার যেকোনও ক্রিকেটারের মতোই তিতাস, ঝুলন গোস্বামী এবং রুমেলি ধরকে (অলরাউন্ডার এবং মিডিয়াম পেসার) অনুসরণ করেছে। সে প্রায়ই গোস্বামীর মতো ইনসুইঙ্গার অনুশীলন করত। যখন সে ক্রিকেট খেলা শুরু করেছিল, তিতাস ভাল আউটসুইঙ্গ করত। তিতাস আমার এবং কোচ প্রিয়ঙ্কর মুখোপাধ্যায়ের অধীনে তার ইনসুইং-এর উন্নতি করে। ও সবসময় সিনিয়র স্তরে ভারতের হয়ে খেলার স্বপ্ন দেখত এবং চিনে ভারতীয় ক্রিকেট দলের হয়ে সোনা জেতা তাঁকে আরও অনুপ্রাণিত করবে। পুরো পরিবারের জন্য ও পাশাপাশি ভারতীয় ক্রিকেটের জন্যেও এটি খুব বড় পাওনা। ও এই মুহূর্তটিকে সবসময় মনে রাখবে।’’
কলকাতা থেকে ৪০ কিলোমিটার উত্তরে চূঁচুড়াতে থাকেন সাধু পরিবার। সেই জায়গায় একটি স্টেডিয়াম ও অ্যাকাডেমির মালিক তারা। তিতাস ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ড দিয়ে শুরু করলেও পরে ফুটবলে চলে যান। তার বাবার অ্যাথলেটিক্স কোচ পিনাকী কর্মকারের অধীনে প্রশিক্ষণ নেন এই তরুণী। পরবর্তী সময়ে তিনি ক্রিকেটের প্রেমে পড়েন।
‘‘আমি একজন রাজ্য পর্যায়ের ক্রীড়াবিদ ছিলাম এবং তিতাস আমার কোচের অধীনে প্রশিক্ষণ নিত। অল্প বয়সে অ্যাথলেটিক্সে আসার কারণে তাঁর শক্তির পাশাপাশি স্ট্যামিনার দিকেও মনোযোগ দেয় সে। স্টেডিয়ামে, ম্যানুয়াল স্কোরশিট সামলানোর ফলে তাঁর স্থানীয় খেলার প্রতি আগ্রহ জন্মায়। এবং এটি তাঁকে ফিল্ড পজিশনের পাশাপাশি খেলা সম্পর্কে জানতে সাহায্য করে। তিতাস অ্যাকাডেমিতে আমার বাবা অহিন্দ্র কুমার সাধুর কাছে ফুটবল খেলত এবং বাবার প্রশিক্ষণে ও ক্রমশ টিম গেমের গুরুত্ব সম্পর্কে বুঝতে শেখে। একবার আমরা ছুটিতে ছিলাম। আমার কাছে একটি ফুটবল এবং টেনিস বল ছিল। প্রথমে ফুটবল খেলার পর দূর থেকে ওকে গোলপোস্ট লক্ষ্য করে টেনিস বল দিয়ে সেখানে বল করতে বললাম। ও সেটা সহজেইকরল। তখনই আমি ওকে ফাস্ট বোলার হিসাবে প্রশিক্ষণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম,’’ সিনিয়র সাধু বলেন।
বেঙ্গল স্পিডস্টার, যাকে প্রাথমিকভাবে ২০১৯-২০ মরসুমে অনূর্ধ্ব-১৯ সম্ভাব্য দলে রাখা হয়েছিল, পরের বছর অধিনায়ক রুমেলি ধরের অধীনে বেঙ্গল সিনিয়র দলে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। কোচ শিব শঙ্কর পালের তত্ত্বাবধানে বল করতেন তিতাস। গত বছর, সাধু বেঙ্গল টি-টোয়েন্টি মহিলা দলের হয়ে পাঁচ ম্যাচে সাত উইকেট নিয়েছিলেন বিসিসিআই সিনিয়র মহিলা টি-২০ ট্রফিতে। এরপরই তিনি এবছর আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ মহিলা বিশ্বকাপ দলে জায়গা করে নেন। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ফাইনালে দুই উইকেট-সহ মোট ছয় উইকেট নিয়েছিলেন এবং ফাইনালে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেছিলেন।
‘‘আমি সবসময় চেয়েছিলাম সে একজন পেস বোলার হোক। একজন ফাস্ট বোলারকে যে কঠোর পরিশ্রম করতে হয় সে সম্পর্কে তিতাস কখনও কোনও অভিযোগ করেনি। কেরিয়ারের শুরুতে ঝুলনের অধীনে খেলা শেখা প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে তাঁকে অনেক সাহায্য করেছে। আমরা ও কব্জির কাজ নিয়েও প্রশিক্ষণ দিয়েছি এবং যা তাকে পিচের অবস্থার পাশাপাশি ব্যাটারের পদ্ধতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে সাহায্য করেছে। বল স্টাম্পের উপরে কোথায় আঘাত করবে তা বুঝতে পারে। ও প্রায়ই পুরুষদের সঙ্গে অনুশীলন করে এবং এটি এশিয়ান গেমসের আগে তাঁকে অনেক সাহায্য করেছে,’’ সাধু আরও বলেন।
তিতাসের কোচ প্রিয়ঙ্কর মুখোপাধ্যায় খুশি তিতাসের এই সাফল্যে।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার
