অলস্পোর্ট ডেস্ক: ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর শেষ হওয়ার পর, ভারতীয় ক্রিকেট দল-এর পরবর্তী লক্ষ্য আয়ারল্যান্ড সফর, যেখানে তারকা পেসার যসপ্রীত বুমরাহর বহু প্রতীক্ষিত প্রত্যাবর্তন ঘটতে চলেছে। গত বছর থেকে তিনি দলের বাইরে। এই মুহূর্তে তাঁর পারফর্ম্যান্সের দিকে নজর রাখা হবে ভীষনভাবে। কারণ তাঁর পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে এশিয়া কাপ ২০২৩ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে ওয়ানডে বিশ্বকাপ ২০২৩-এর জন্য ভারতীয় ক্রিকেট দলের কৌশল নির্ভর করে। এশিয়া কাপের দল নির্বাচনের জন্য আরও বেশ কয়েকটি দিকেও নজর থাকবে নির্বাচকদের।
এশিয়া কাপের দল কম-বেশি ২০২৩ বিশ্বকাপ দলের কথা মাথায় রেখেই তৈরি করা হবে। যা অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে শুরু হবে। যদিও, বিশ্বকাপের ঠিক আগে ভারত একটি ওডিআই সিরিজ খেলবে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে। সেই সিরিজের উপরই মূল দল নির্ধারিত হবে।
ভারত অধিনায়ক রোহিত শর্মা সম্প্রতি উল্লেখ করেছেন যে মিডল অর্ডারের সমস্যা দলে এখনও রয়ে গিয়েছে। তিনি এটাও বলেছেন যে শুধুমাত্র অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রাই সুযোগ পাবে তার কোনও মানে নেই। ভারতীয় নির্বাচকরা কীভাবে দল নির্বাচন করতে পারেন, সেটা একবার দেখে নেওয়া যাক।
টপ-অর্ডার এবং কন্টিনজেন্সি প্ল্যান
রোহিত শর্মা, শুভমান গিল এবং বিরাট কোহলিকে এখনও পর্যন্ত সেরা তিন বলে মনে হচ্ছে। রোহিত এবং কোহলি হলেন সবচেয়ে সিনিয়র দুই ব্যাটার। তাঁদের সঙ্গেই গিল গত এক বছরে তাঁর জায়গা অনেকটাই তৈরি করে নিয়েছেন। কোহলি (২৭৫ ওডিআইতে ১২৮৯৮ রান) এবং রোহিত (২৪৪ ওয়ানডেতে ৯৮৩৭ রান) ভারতীয় দলে জোড়া রানমেশিন। অন্যদিকে গিলেন সাম্প্রতি ফর্ম এই মুহূর্তে খুব ভাল নয়। সুতরাং, নির্বাচকরা কি ব্যাক আপ প্ল্যান হিসাবে অন্য কোনও বিকল্পের কথা ভাবতে পারেন?
উইকেটরক্ষক-ব্যাটার ঈশান কিষানকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে টপ অর্ডারে চেষ্টা করা হয়েছিল এবং তিনি তার মর্যাদাও রেখেছেন। তাঁর বাঁ হাতি ব্যাটিং খেলায় অন্য মাত্রা যোগ করে।
দলের বড় সমস্যা নম্বর চার
সাম্প্রতিক অতীতে দেখা গিয়েছে এটি ভারতের সবচেয়ে নড়বড়ে জায়গা। ২০১৯ বিশ্বকাপের আগে ভারতের একই সমস্যা ছিল। অম্বাতি রাইডুকে চেষ্টা করা হয়েছিল কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিজয় শঙ্কর চূড়ান্ত দলে জায়গা পান। তা নিয়ে কম বিতর্ক হয়নি। এবার বিভ্রান্তি আরও বেশি। শ্রেয়াস আইয়ার যদি ফিট এবং ফর্মে থাকতেন, তাহলে তিনি চার নম্বরে খেলার জন্য এক নম্বর পছন্দ হতেন।
কিন্তু তিনি এবং কেএল রাহুল, দলে জায়গা পাওয়ার সম্ভাব্য প্রতিযোগী, শুধুমাত্র সোমবার দীর্ঘ চোট সারিয়ে সবে ম্যাচ প্র্যাকটিস শুরু করেছেন। রাহুল ভারতের হয়ে ওপেনিং করলেও চোট ও খারাপ ফর্মের কারণে সেই জায়গা হারান। এই অবস্থায় দু’জনের ফিটনেস ও ম্যাচের জন্য কতটা তৈরি তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান সঞ্জু স্যামসন এবং বাঁ-হাতি তিলক ভার্মা অন্য দুই বিকল্প দলের। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে স্যামসনের ঠান্ডায়-গরমে কেটে গিয়েছে। অন্যদিকে ভার্মা তাঁর প্রথম ভারতের হয়ে খেলায় সিরিজের প্রথম দিকে দুর্দান্ত ছাপ ফেলেছিলেন। রোহিত যে ভাবে নতুন প্রজন্মের কথা বলেছেন তাতে তিলক ভর্মা নজরে অবশ্যই থাকবেন। এছাড়া রয়েছে সূর্যকুমার যাদব। একজন টি২০ গ্রেট, তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন যে তাঁর ওয়ানডে ফর্ম ভাল নয়। তবুও, অন্যান্য বিকল্পের অভাব এবং ইনিংসের শেষভাগে গতি দেওয়ার ক্ষমতার কারণে যাদবের আরও সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
স্পিন সংমিশ্রণ
এটি নিয়ে অনেক কথা বলা হচ্ছে, তবে একটি স্পষ্ট প্রবণতা হল ভারতীয় নির্বাচকরা সব বাঁ-হাতিদের গুরুত্ব দিতে পারেন। চায়নাম্যান বোলার কুলদীপ যাদব নিজের জাত আবার চিনিয়েছেন। অন্যদিকে রবীন্দ্র জাদেজার অভিজ্ঞতাকে উপেক্ষা করা অসম্ভব। প্রশ্ন হচ্ছে স্পিনিং ট্র্যাকে, ভারত তিন স্পিনার নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেই তৃতীয় স্পিনার কে হবেন?
যুজবেন্দ্র চাহালের নাম প্রথমেই মাথায় আসে কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ওডিআই সিরিজে তাঁকে মোটেও দেখে নেওয়ার মতো সুযোগ দেওয়া হয়নি। অক্ষর প্যাটেল আর একটি বিকল্প এবং ভারতীয় দল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে তিন বাঁ হাতি স্পিনার নিয়ে গিয়েছিল।
পেস ব্যাটারি
বুমরাহর ফিচনেস যদি নির্বাচকদের নিশ্চিন্ত করতে পারে তাহলে পেস অ্যাটাক নির্বাচন অনেক সহজ হয়ে যাবে। মহম্মদ শামি এবং মহম্মদ সিরাজের সঙ্গে অন্য বিকল্প হিসেবে পেস আক্রমণের নেতৃত্বে ফিরবেন তিনি। মাঝে মাঝে নাম উঠছে ওমরান মালিকেরও তবে তাঁর বোলিং এখনও ততটা বিশ্বস্ত হয়ে উঠতে পারেনি যাতে বিশ্বকাপ দলে তাঁকে রাখা যেতে পারে। বাঁ-হাতি অর্শদীপ সিং ভাল বিকল্প হতে পারেন।
এই জাতীয় বিশেষজ্ঞ পেসারদের মধ্যে, শার্দুল ঠাকুরও নিজের জন্য জায়গা তৈরি করতে সক্ষম। তিনি সেই ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বোলিংয়েও চমক দিতে পারেন।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার
