Cart Total Items (0)

Cart

All Sports

 

অলস্পোর্ট ডেস্ক:‌ প্লেঅফ ফাইনালে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে টাইব্রেকারে ১-‌৪ গোলে হেরে ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ খুইয়েছে ইতালি। এই নিয়ে পরপর ৩টি বিশ্বকাপের মূল পর্বে যেতে পারল না ইতালি। তারজন্য বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার ফুটবলারদের কৃতিত্বের থেকেও বেশি করে আলোচনায় এক বল বয়ের নাম। ১৪ বছরের বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার আফান সিজমিচ। এই বল বয় এখন বসনিয়ার মানুষের কাছে নায়কের সম্মান পাচ্ছে। টিভিতে ও অন্যান্য প্রচারমাধ্যমে সাক্ষাতকার দিয়ে বেড়াচ্ছে। তাকে নিয়ে ছবি তোলা হচ্ছে জেনিকার সেই মাঠে, যেখানে ম্যাচ জিতে আফানের দেশ বিশ্বকাপে গেছে। আফান বলছে, টাইব্রেকার শুরুর আগে গোলের ধারে তোয়ালে দিয়ে লুকিয়ে রাখা ইতালির গোলকিপার জিয়ানলুইজি ডোনারুম্মার প্রতিপক্ষের পেনাল্টি রোখার কৌশলের রিপোর্ট শিট সরিয়ে দিয়ে কীভাবে নিজের দেশকে জিততে সাহায্য করেছে।

বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার টাইব্রেকারে ম্যাচ জিতে ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ প্রাপ্তির জন্য আফানের ভূমিকা সত্যি কতটা কার্যকরী, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা নানা মতে ভাগ হলেও, বসনিয়ার মানুষ মনে করেন, তাঁদের দলের এই সাফল্যের পিছনে আফানের অবদান আছে। কারণ টাইব্রেকারে ওই রিপোর্ট কার্ড খুঁজে না পেয়ে ইতালির গোলকিপার ডোনারুম্মা ফোকাস হারিয়ে ফেলেন। ৪টি শটের একটিও রুখতে পারেননি। সেখানে ইতালির তিন ফুটবলার গোল করতে ব্যর্থ হন পোস্টে ও বাইরে শট মেরে। আর এই কারণে আফানকে বিশ্বকাপে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার ম্যাচে দলের দূত হিসেবে নিয়ে যাবেন সমর্থকরা নিজেদের খরচে।

আফানের ভাষায়, ‘‌ প্রথমে একটু দ্বিধা ছিল মনে। ডোনারুম্মার তোয়ালের নীচে চাপা পড়ে থাকা একটা কাগজ দেখে সন্দেহ হয়েছিল। দেখেছিলাম, ডোনারুম্মা ওই কাগজটা মন দিয়ে পড়ছে। তারপর আবার ঢাকা দিয়ে রেখে দিয়েছিল। তখনই ভাবছিলাম, এই কাগজটা যদি সরিয়ে নি, তাহলে দলকে কোনওভাবে সাহায্য করতে পারি। তারপরই ঠিক করে ফেলি, যা হবার হবে, কাগজটা তো আগে সরিয়ে ফেলি। কাগজটা নিয়ে আমি দূরে সরে যাই। তারপর টাইব্রেকারের শুরু হতেই দেখেছিলাম, কাগজটা খুঁজে না পেয়ে ডোনারুম্মা ফুঁসছিল। ওর ফোকাস নড়ে গিয়েছিল। একটাও শট রুখতে পারেনি ইতালির গোলকিপার।’‌

কাজটা কি অনৈতিক ছিল না?‌ আফান কি ঠিক কাজ করেছেন?‌ এটা কি খেলোয়াড়োচিত কাজ হল?‌ আফানের সাফাই, ‘‌ আমরা যদি ইতালির মাঠে খেলতাম, তাহলে ওদের কেউ এমনটা করতেও পারত আমাদের গোলকিপার নিকোলা ভাসিলের সঙ্গে। দলের জয়ের জন্য এটুকু চলে।’‌

আফান সিজমিচ এখন ওই রিপোর্ট কার্ডটা সঙ্গে নিয়ে ঘুরছেন সর্বত্র। একটি প্লাস্টিক কভারে মুড়ে। স্মারক হিসেবে নিজের কাছে এখন রাখলেও, আফানের বক্তব্য, সে এটি নীলাম করবেন, আর তার থেকে সংগৃহীত অর্থ চ্যারিটিতে ব্যবহার করবেন। সিজমিচ নিজেও ফুটবল খেলেন সেলিকা জেনিক ক্লাবে। স্বপ্ন দেখে সেও একদিন বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা জাতীয় দলের জার্সি গায়ে চাপাবে।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *