Cart Total Items (0)

Cart

All Sports

সুচরিতা সেন চৌধুরী: ফিফা গ্রীষ্মকালীন ট্রান্সফার উইন্ডো ৩১ অগস্ট বন্ধ হয়ে গিয়েছে, যার ফলে আপাতত বিশ্ব জুড়ে কোনও দলই যেমন ফুটবলার নিতে পারবে না তেমনই কোনও ফুটবলার এক দল ছেড়ে অন্য যেতে পারবে না। ইন্ডিয়ান সুপার লিগের (ISL) ডামাডোলের মধ্যেই এই ট্রান্সফার উইন্ডোতে বেশ কিছু আদান-প্রদান হয়েছে। কেউ ছেড়ে দিয়েছে, কেউ নিয়েছে। যার মধ্যে কলকাতা ফুটবলের সব থেকে বড় বিদায় যেমন ইস্টবেঙ্গলের দিমিত্রিয়স দিয়ামান্তাকস, তেমনই সব থেকে চর্চিত নতুন বিদেশি মোহনবাগানের রবসন রোবিনহো। ফিফা ট্রান্সফার উইন্ডোর শেষ বেলায় বাংলার ফুটবলে চাঞ্চল্য তৈরি করে এই দুটো ঘটনা। যদিও ফ্রি এজেন্টদের জন্য দরজা খোলা রয়েছে। যাঁদের সঙ্গে কোনও দলের চুক্তি নেই, তাঁদের যে কেউ যখন ইচ্ছে দলে নিতেই পারে।

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে মাস্টার রাইটস চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে ইন্ডিয়ান সুপার লিগকে ঘিরে অনিশ্চয়তা রয়েছে। অনেক ক্লাব গ্রীষ্মকালীন ট্রান্সফার উইন্ডোর সময় সতর্কই থেকে। তবে, সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের শুনানির পর, এআইএফএফ-কে ফুটবল ক্যালেন্ডারকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং আইএসএল-এর বাণিজ্যিক অংশীদার নির্বাচন চূড়ান্ত করার নির্দেশ দেওয়ায় দলগুলো খানিকটা অক্সিজেন পেয়েছে। পুরোপুরি বন্ধ থাকা দল নির্বাচনে কিছুটা তৎপড়তা দেখা গিয়েছে। এই পটভূমিতে, কলকাতার দুই জায়ান্ট মোহনবাগান এবং ইস্টবেঙ্গল সক্রিয় পদক্ষেপ নিয়েছে এবং দলকে শক্তিশালী করার পথে হেঁটেছে।

এফসি গোয়া এবং নর্থইস্ট ইউনাইটেড এফসির মতো অন্যান্য ক্লাবগুলিও সুসংগঠিত স্কোয়াড গঠন করতে পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে, ট্রান্সফার উইন্ডো বন্ধ হওয়ায়, স্পটলাইট ফ্রি এজেন্টদের দিকে ঝুঁকে পড়েছে, যাদের এখনও উইন্ডোর বাইরে কোনও দলের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হতে পারেন।  ক্লাবগুলি যারা এই উইন্ডোতে বড় পদক্ষেপ নিতে পারেনি তাদের জন্য এটি একটি সুবর্ণ সুযোগ।

এই পরিস্থিতিতে সব থেকে মূল্যবান ফ্রি এজেন্টদের দিকে একবার নজর দেওয়া যাক—

১. দিমিত্রিয়স দিয়ামান্তাকস— তর্কাতীতভাবে ফ্রি-এজেন্ট তালিকার সবচেয়ে বড় নাম, দিমিত্রিয়স দিয়ামান্তাকস, যাঁর সঙ্গে সম্প্রতি ইস্টবেঙ্গলের সম্পর্ক ছিন্ন হয়েছে। গ্রীক স্ট্রাইকার ২০২২/২৩ মরসুমে কেরালা ব্লাস্টার্সের সঙ্গে তাঁর ভারতীয় ফুটবেঁ যাত্রা শুরু করেছিলেন এবং ২০২৪/২৫ মরসুমে ইস্টবেঙ্গলে যোগ দেন। ভারতে দিয়ামান্তাকসের দুর্দান্ত পারফর্মেন্স ছিল কেরালার হয়ে। সব মিলে ৭৬টি ম্যাচে, ৪০টি গোল এবং ১১টি অ্যাসিস্ট রয়েছে তাঁর ঝুলিতে, মোট ৫১টি গোল অবদান রেখেছিলেন তিনি। তিনি ইস্টবেঙ্গলের সাম্প্রতিক ডুরান্ড কাপেও খেলেছিলেন, যেখানে তিনি তিনটি গোল করেছিলেন, তার মধ্যে দুটো ডার্বিতে। তার ক্লিনিক্যাল ফিনিশিং এবং খেলা ধরে রাখার ক্ষমতা তাকে অভিজ্ঞ গোল-স্কোরার করে তুলেছিল। এই মুহূর্তে যে কোনও আইএসএল দলের জন্য সেরা পছন্দ হয়ে উঠতে পারেন তিনি।

২. কনর শিল্ডস— চেন্নাইয়িন এফসির প্রাক্তন খেলোয়াড় কনর শিল্ডস দ্বিতীয় সর্বাধিক মূল্যবান ফ্রি এজেন্ট হিসেবে জায়গা করে নেবে। গত দুই মরসুমে, শিল্ডস ৪৯টি ম্যাচে ৬টি গোল করেছেন এবং ১২টি অ্যাসিস্ট করেছেন। তাঁকে আলাদা করে তুলেছে তার খেলার দক্ষতা, ২০২৪/২৫ মরসুমে তিনি মাত্র ২১টি আইএসএল ম্যাচে ৭৬টি সুযোগ তৈরি করেছিলেন এবং লিগের সর্বোচ্চ অ্যাসিস্ট প্রদানকারী হিসেবে শেষ করেন। যে কোনও ক্লাব যারা একজন বহুমুখী আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার বা উইঙ্গার খুঁজছেন তারা এই স্কটিশ খেলোয়াড়কে নিয়ে ভাবতেই পারেন।

৩. নিকোলাওস কারেলিস— গ্রীক ফরোয়ার্ড নিকোলাওস কারেলিস মুম্বই সিটি এফসির সঙ্গে একটি দুর্দান্ত মরসুম কাটিয়েছেন, ২০২৪/২৫ মরসুমে ২২টি ম্যাচে ১১টি গোল করেছেন এবং তিনটিটি অ্যাসিস্ট করেছেন। দুর্ভাগ্যবশত, মরসুমের শেষের দিকে চোটের কারণে তাঁর খেলার সময় সীমিত হয়ে যায়, কিন্তু সুপার কাপের সময় তিনি ফিরে আসেন, যেখানে তিনি একটি গোল এবং একটি অ্যাসিস্ট করেন, যা মুম্বইকে সেমিফাইনালে পৌঁছাতে সাহায্য করে। ক্যারেলিস এখনও একজন প্রমাণিত পারফর্মার এবং যদি তিনি ফিট থাকেন তবে তিনি যে কোনও দলের জন্য গেম চেঞ্জার হিসেবে জায়গা করে নিতে পারেন।

৪. কার্ল ম্যাকহাগ— অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার কার্ল ম্যাকহাগ ভারতীয় ফুটবলে নিজের জায়গা দৃঢ় করে থাকা আরেকজন হাই-প্রোফাইল ফ্রি এজেন্ট। এই আইরিশম্যান ২০১৯/২০ মরসুমে এটিকে দিয়ে তাঁর আইএসএল যাত্রা শুরু করেন এবং এটিকে মোহনবাগান এবং পরে মোহনবাগান সুপার জায়ান্টেও তিনি ছিলেন ক্লাবের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। ২০২৩ সালে, তিনি এফসি গোয়ায় চলে যান, যেখানে তিনি দুই মরসুম কাটান। এই মিডফিল্ড তাঁর ধারাবাহিকতা এবং গতির জন্য পরিচিত, ম্যাকহাগ ভারতীয় ফুটবলে ১৩৮টি ম্যাচ খেলেছেন, ৮টি গোল করেছেন এবং ন’টি অ্যাসিস্ট রয়েছে তাঁর নামে। ৩২ বছর বয়সে, তাঁর অভিজ্ঞতা এবং কৌশলগত সচেতনতা এখনও তাকে স্থিতিশীলতা এবং নেতৃত্বের সন্ধানকারী যে কোনও ক্লাবের জন্য মূল্যবান সম্পদ করে তুলতে পারে।

৫. রায়ান এডওয়ার্ডস— একজন রক্ষণাত্মক নেতা, রায়ান এডওয়ার্ডস ২০২৩/২৪ মরসুমে আইএসএল-এ যোগদানের পর থেকে চেন্নাইয়িন এফসির হয়ে ৪৬টি ম্যাচে খেলেছেন। সেন্টার-ব্যাক হিসেবে তিনি চারটি গোলও করেছেন,তবে তাঁর কার্ড দেখার সমস্যা তাঁক কিছুটা পিছিয়ে দেয়।  তাঁর সময়ে তিনি ১০টি হলুদ কার্ড এবং দু’টি জোড়া হলুদ কার্ডও পেয়েছেন। তবে এডওয়ার্ডস যে কোনও ব্যাকলাইনের শক্তি হতে পারেন।

৬. মহম্মদ আলি বেমামার— ৩৫ বছর বয়সী মরক্কোর এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার নর্থইস্ট ইউনাইটেড এফসির হয়ে দুই মরসুমে খেলেছেন, ২৩/২৪ এবং ২৪/২৫। বেমামার ৫৬টি ম্যাচে ন’টি গোল করেছেন এবং গত মরসুমে নর্থইস্টের ডুরান্ড কাপ শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। বয়স হওয়া সত্ত্বেও, তাঁর কৌশলগত সচেতনতা এবং নেতৃত্ব এখনও মিডফিল্ডে স্থিতিশীলতা আনতে চাওয়া ক্লাবগুলি আকর্ষণের কেন্দ্রে থাকতে পারে।

৭. রাফায়েল মেসি বাউলি— ক্যামেরুনিয়ান স্ট্রাইকার রাফায়েল মেসি বাউলি ২০২৪/২৫ মরসুমের শীতকালীন উইন্ডোতে ইস্টবেঙ্গলে যোগ দিয়েছিলেন, আহত হিজাজি মাহেরের জায়গায় তিনি লাল-হলুদ জার্সিতে খেলতে কলকাতায় আসেন। যদিও তাঁর উপস্থিতি ছিল সীমিত, তাতেই তিনি আটটি  ম্যাচে চারটি গোল করেছেন, যার মধ্যে এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগে একটি গোলও রয়েছে তাঁর। তাঁর সঙ্গে নতুন করে চুক্তি করেনি ক্লাব, তবে তার শারীরিক উপস্থিতি এবং দ্রুত বল নিয়ে ওঠার দক্ষতা যে কোনও ক্লাবের সম্পদ হতে পারে।

৮. রয় কৃষ্ণা— যাঁকে নিয়ে এক সময় উত্তাল হতো কলকাতার গ্যালারি। ফিজির জাতীয় দলের এই ফুটবলার ভারতে পা রাখেন এটিকের জার্সিতে, ২০১৯-২০-তে। প্রথম থেকেই মোহনবাগান জনতার ফেভারিট হয়ে ওঠা রয় কৃষ্ণা ২০২২ সাল পর্যন্ত থেকে যান মোহনবাগান। এটিকে থেকে মোহনবাগান এসজি হওয়ার সাক্ষী তিনি। এটিকে ও  মোহনবাগানের হয়ে ৬০টি ম্যাচ খেলে ৩৬টি গোল করেছেন তিনি। তবে ২০২২-২৩ মরসুমে তিনি চলে যান বেঙ্গালুরু এফসিতে। সেখানে তিনি ২২ ম্যাচে ৬টি গোল করেন। গত দুই মরসুম তিনি কাটান ওড়িশা এফসিতে। তবে মাঝ পথেই তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। সেখানে তিনি ৩৪ ম্যাচে ১৬টি গোল করেন। তাঁর গোল স্কোরিং দক্ষতাই তাঁকে ভারতীয় ফুটবলে নায়ক করে তুলেছিল। এখনও তিনি যে কোনও দলের সম্পক হয়ে উঠতে পারেন।

এই কয়েকজন বিখ্যাত বিদেশি ছাড়াও আরও বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ এবং প্রভাবশালী খেলোয়াড় ফ্রি-এজেন্ট তালিকায় রয়েছেন, যারা ক্লাবগুলির বিভিন্ন পজিশনের জন্য বিকল্প হয়ে উঠতে পারেন। বিদেশী খেলোয়াড়দের মধ্যে, সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার স্টেফান শাপিচ, থায়ের ক্রোমা এখনও কোনও ক্লাবে যোগ দেননি। একইভাবে, একাধিক আইএসএল মরসুমে ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম করা মুরতাদা ফল ইস্টবেঙ্গলে প্রাক্তন অধিনায়ক ক্লেইটন সিলভাও রয়েছেন এই তালিকায়।

এই ক্ষেত্রে বেশ কয়েকজন ভারতীয় খেলোয়াড়ও রএছেন। জেরি মাভিহমিংথাঙ্গা, যিনি তাঁর গতি এবং সৃজনশীলতার জন্য পরিচিত, তিনি এখনও একজন মূল্যবান আক্রমণাত্মক বিকল্প হয়ে উঠতে পারে যে কোনও দলের জন্য। অন্যদিকে জেরি লালরিনজুয়ালা, একজন অভিজ্ঞ লেফট-ব্যাক, রক্ষণাত্মক লাইনে প্রয়োজনীয় গভীরতা দিতে পারেন। ক্লিনিক্যাল ফিনিশিংয়ের জন্য বিখ্যাত স্ট্রাইকার ঈশান পণ্ডিতা, প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ ডিফেন্ডার আমনদীপেও রয়েছেন এই তালিকায়, যাঁরা এখনও কোনও আইএসএল দল পাননি।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *