Cart Total Items (0)

Cart

All Sports

আহাল ১(‌আনায়েভ)‌ মোহনবাগান

মুনাল চট্টোপাধায়:‌ গত মরশুমে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টায়ার টু-‌তে একটিই মাত্র ম্যাচ খেলেছিল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। তাজিকিস্তানের দল রাভসান কুলোভের সঙ্গে যুবভারতীতে গোলশূণ্য ড্র করেছিল ওই ম্যাচে। আর এবার মঙ্গলবার ঘরের মাঠে তুর্কমেনিস্তানের দল আহাল এফকের কাছে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-‌র প্রথম ম্যাচে বাগান বাহিনী হেরেই গেল ০-‌১ গোলে। ম্যাচের গোলদাতা সুপারসাব এনভার এনায়েভ। বেরেনভের জায়গায় মাঠে নেমে গোল করে বাজিমাত। সেখানে টুর্নামেন্টের শুরতেই চাপে পড়ে গেল বাগান ব্রিগেড ম্যাচ হেরে। আইএসএল শিল্ড ও কাপ জেতার পরও এই হারের জন্য চ্যাম্পিয়ন কোচ হোসে মোলিনাকে ‘‌গো ব্যাক’‌ শুনতে হল। বাগানের পরের ম্যাচ ৩০ সেপ্টেম্বর ইরানের মাঠে সেফাহানের বিরুদ্ধে। এখন দেখার আদৌ সেই ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে পারে কিনা বাগান।

ম্যাচের আগেরদিন সবুজ মেরুনের হেডস্যার হোসে মোলিনার কথাতেই প্রথম একাদশে কারা থাকতে পারেন, তার একটা আভাস মিলেছিল। চোট কাটিয়ে ওঠা শুভাশিস দলে থাকবেন কিনা এই প্রশ্নে মোলিনা জানান, যাঁরা মরশুমের শুরু থেকে অনুশীলন ও খেলার মাঝে আছে, চোট বা অসুস্থতা সময় পড়েনি, তাঁদের প্রথম দলে থাকার সম্ভাবনা বেশি। সেই তত্ত্ব মেনেই আহালের বিরুদ্ধে দল নামান মোলিনা।

ফিট হলেও শুভাশিস নয়, ডুরান্ড কাপে নজর কাড়া অভিষেককে লেফট ব্যাকে খেলাতে দ্বিধা করেননি মোলিনা। চার ব্যাকে বাকি তিনজন আলড্রেড, আলবার্তো, আশিসের থাকা নিয়ে কোনও সংশয় ছিল না। অচেনা প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ঝুঁকি এড়াতে অতিআক্রমণাত্মক ছকের পথে হাঁটেননি বাগান কোচ। সে কারণেই চার ব্যাকের সামনে আপুইয়ার সঙ্গে ডিফেন্সিভ ব্লকার পজিশনে দীপক টাংরিকে রাখেন তিনি। একইসঙ্গে উইং দিয়ে আক্রমণ সচল রাখতে লিস্টনকে বাঁদিকে রেখে ডানদিকে কিয়ানকে খেলালেন মনবীরের চোট থাকায়।

স্ট্রাইকার ম্যাকলারেন অসুস্থতার জন্য মাঝে বেশ কিছুদিন অনুশীলনে ছিলেন না। তাই তাঁকে প্রথম একাদশে রাখেননি মোলিনা। বরং সামনে জেসন কামিংসের সঙ্গে চনমনে সাহালকে জুড়ে দেন। তবে এদিন সাহাল বা কামিংস চেনা ছন্দে ছিলেন না প্রথমার্ধে। তাই উইং দিয়ে কিয়ান বা লিস্টন আক্রমণ তুলে আনলেও আহালের ডিফেন্ডারদের জমাট ভাবের সামনে বারবার আটকে যান। অ্যাটাকিং থার্ডে গিয়ে ফাইনাল পাস দেওয়ার ক্ষেত্রে যেমন মুন্সিয়ানার অভাব ছিল, তেমন কামিংস ও সাহাল ঠিক জায়গায় না থাকায় আহালের রক্ষণকে অস্বস্তিতে ফেলা সম্ভব হয়নি।

প্রতিপক্ষ আহাল কোচ এজিজ সম্ভবত অ্যাওয়ে ম্যাচ বলেই শুরু থেকে কাছাখোলা আক্রমণে যাওয়ার নির্দেশ দেননি। বরং তিনি শেপ ও শৃঙ্খলা বজায় রেখে রক্ষণ সামলে প্রতিআক্রমণে বাগান অর্ধে হানা দিয়ে গোল তুলে নেওয়ার চেষ্টা চালান। প্রথমার্ধে মোহনবাগানের একটাও গোলের সুযোগ দূরে থাক, গোলে শট নেই। সেখানে ৩২ মিনিটে আহাল প্রায় গোল পেয়েই যাচ্ছিল। তাগায়েভের পা ঘুরে আসা বলে বক্সের বাইরে ডানদিক থেকে বাসিমভ কোনাকুনি গড়ানো শট নিয়েছিলেন। বাগান রক্ষণভাগের ফুটবলারদের পা এড়িয়ে বক্সের মাঝে বেরেনভের পা ছুঁয়ে বল গোলকিপার বিশালকে হার মানিয়ে পোস্টে লেগে ফিরলে গোল খাওয়ার হাত থেকে বাঁচে বাগান। গ্যালারিতে উপস্থিত সবুজ মেরুন সমর্থকরা হাঁফ ছাড়েন।

৫৭ মিনিটে আবারও গোল করার জায়গায় পৌঁছে গিয়েছিলন বেরেনভ। বাগান মাঝমাঠে বল ধরে বিনা বাধায় যেভাবে প্রতিপক্ষ রক্ষণভাগের ফুটবলারদের পেরিয়ে বক্সে বল নিয়ে পৌঁছে গিয়েছিলেন বেরেনভ, তা বিস্ময়কর। শটও নেন। তবে গোলকিপার বিশালের বিশ্বস্ত হাত বেরেনভের গোল করার প্রচেষ্টা রুখে স্বস্তি দেন বাগান ব্রিগেডকে।

দ্বিতীয়ার্ধে আহাল খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আক্রমণের ঝাঁজ বাড়াচ্ছে বুঝেই বাগান কোচ মোলিনা দলে গুরুত্বপূর্ণ দুটি বদল আনেন। কিয়ানের জায়গায় ম্যাকলারেন ও টাংরিকে তুলে নামান অনিরুদ্ধ থাপাকে আক্রমণে বৈচিত্র আনতে ও চাপ বাড়াতে। তার ফল মিলেও যেত কামিংস অবিবেচকের মতো সুযোগটা কাজে না লাগানোয়। ৬৮ মিনিটে থাপার থ্রু আহাল বক্সে ফাঁকায় পেয়ে যান কামিংস। সামনে শুধু আহাল গোলকিপার বারদিয়েভ। সে অবস্থায় নিজে গোলে শট না নিয়ে ডানদিকে ম্যাকলারেনকে কেন বল বাড়াতে গেলেন কামিংস, সেটা দুর্বোধ্য। ওই একমুহূর্ত সময় পেয়ে গোলের মুখ ছোট করে ম্যাকলারেনের শট রুখে দিলেন আহাল গোলকিপার।

গোলের আশায় আরও দুটি বদল আনেন মোলিনা। লিস্টন ও অভিষেককে তুলে নামান রবসন ও শুভাশিসকে। তাতে ভাল তো কিছু হলই না, বরং বাগানের খেলায় ছন্দপতন ঘটে গেল। ৮১ মিনিটে আহালের আক্রমণে গোল খাওয়ার হাত থেকে সাময়িক দলকে বাঁচিয়েছিলেন গোলকিপার বিশাল বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে বল বের করে। সেই বল ধরে বাগানের রবসন লম্বা উঁচু ক্রশ বাড়িয়েছিলেন সাহালের উদ্দেশ্যে। সাহালের নেওয়া শট পোস্টের কোন ঘেঁষে বেরিয়ে যায়।

এরপরেও আহাল গোল করার চেষ্টা ছাড়েনি। ৮৩ মিনিটে সেই নাছোড়বান্দা মনোভাবের জোরে গোল পেয়েও গেল। বাগান বক্সের ঠিক বাইরে বল পেয়ে বাসিম আলতো করে সামনে বাড়িয়েছিলেন এনভার এনায়েভকে। তিনি বুদ্ধিদীপ্ত প্লেসিংয়ে গড়ানো শট গোলকিপার বিশালের পাশ দিয়ে জালের ভেতরে বল জড়িয়ে দেন। এই এনায়েভই আরকাদাগের হয়ে ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে খেলে গিয়েছিলেন। এবার তিনি আহালের জার্সিতে দলকে অ্যাওয়ে ম্যাচে মূল্যবান ৩ পয়েন্ট এনে দিলেন।

মোহনবাগান:‌ বিশাল, আশিস, আলড্রেড, আলবার্তো, অভিষেক(‌শুভাশিস)‌, কিয়ান(‌ম্যাকলারেন)‌, আপুইয়া, টাংরি(‌অনিরুদ্ধ)‌, লিস্টন(‌রবসন)‌, সাহাল, কামিংস।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *