অলস্পোর্ট ডেস্ক: সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের বিচারে বর্ষসেরা ফুটবলারের সন্মান পাচ্ছেন লালিয়ানজুয়ালা ছাঙতে । মঙ্গলবার ফেডারেশনের পক্ষে থেকে এই ঘোষণা করা হয়। ফেডারেশনের এক্সিকিউটিভ কমিটির বৈঠকের পরে এই সিদ্ধান্তে সিলমোহর পড়ে। মহিলাদের ফুটবলে বর্ষসেরার সন্মান পেতে চলেছেন মণীষা কল্যাণ।
প্রথমে দেশের বিভিন্ন ক্লাবের কোচেরা মিলে একটি তালিকা তৈরি করেন, যা থেকে সম্ভাব্য সেরা না ‘নমিনি’-দের বেছে নেওয়া হয়। সেই তালিকা থেকে দুই বিভাগের দুই সেরা ফুটবলারকে বেছে নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয় চার প্রাক্তন ভারতীয় ফুটবলার বাইচুং ভুটিয়া, আইএম বিজয়ন, সাব্বির আলি ও ক্লাইম্যাক্স লরেন্স-কে। এঁরাই গত মরশুমে আন্তর্জাতিক ও ক্লাব ফুটবলে পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে বর্ষসেরা ফুটবলারকে বেছে নেন।
হিরো আইএসএল ২০২২-২৩ মরশুমের সেরা খেলোয়াড়ের সন্মানও জিত নেন লিগ শিল্ডজয়ী মুম্বই সিটি এফসি-র রাইট উইঙ্গার ছাঙতে। মিজোরাম থেকে উঠে আসা ২৫ বছর বয়সি এই তারকা এখন ভারতীয় দলের নিয়মিত সদস্য। গত মরশুমে হিরো আইএসএলে ২২টি ম্যাচ খেলে দশটি গোল করেন ও ছ’টি অ্যাসিস্ট করেন। ডুরান্ড কাপেও সাতটি ম্যাচে সাতটি গোল ও তিনটি অ্যাসিস্ট ছিল তাঁর। হিরো সুপার কাপেও একটি গোল ছিল তাঁর। সব মিলিয়ে ক্লাবের হয়ে ৩২টি ম্যাচে ১৮টি গোল ও ৯টি অ্যাসিস্ট ছিল তাঁর। গত এক বছরে ভারতের হয়ে মোট ১২টি ম্যাচে খেলেছেন এবং দু’টি গোল করেছেন। ভারতের হয়ে এ পর্যন্ত সব মিলিয়ে ২৫টি ম্যাচ খেলে আধ ডজন গোল করেছেন তিনি।
ফুটবলজীবনের সেরা সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন ছাঙতে। গত হিরো আইএসএলে দশটি গোল করে ভারতীয়দের মধ্যে সর্বোচ্চ স্কোরারের জায়গায় ছিলেন তিনি। ভারতীয়দের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সুযোগ তৈরি করা ফুটবলারদের মধ্যে তিনি ছিলেন দু’নম্বরে, হায়দরাবাদের মহম্মদ ইয়াসিরের পরেই। গোলমুখী শটের তালিকাতেও ছাঙতে ছিলেন দু’নম্বরে, বিপিন সিংয়ের সঙ্গে ও গ্রেগ স্টুয়ার্টের পরেই। মুম্বই সিটি এফসি-তে গত মরশুমে সবচেয়ে বেশি ক্রস দেন বিপিন সিং (৮১) তারপরেই ছিলেন ছাঙতে। এতগুলো বিষয়ে ওপর দিকে থাকা ছাঙতেকেই তাই হিরো আইএসএলের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে বেছে নেওয়া হয়। এ বার ফেডারেশনও তাঁকে বছরের সেরা ফুটবলারের খেতাব দিয়ে সন্মানিত করতে চলেছে।
বছরের সেরা উঠতি ফুটবলারের পুরষ্কার পেতে চলেছেন হায়দরাবাদ এফসি-র আকাশ মিশ্র, যিনি গত মাসেই সেখান থেকে মুম্বই সিটি এফসি-তে সই করেছেন। উত্তর প্রদেশ থেকে উঠে আসা এই লেফট ব্যাক গত বছর হায়দরাবাদের হয়ে মোট ২৫টি ম্যাচ খেলেন। হিরো আইএসএলে খেলেন ১৯টি এবং ডুরান্ড কাপ ও সুপার কাপ মিলিয়ে আরও ছ’টি ম্যাচ খেলেন তিনি। চলতি সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের হয়ে তিনটি ম্যাচে খেলেছেন। তার আগে তিনটি ফ্রেন্ডলি ম্যাচও খেলেন ইগর স্টিমাচের দলের হয়ে। ২০২১-এর মার্চে ভারতের হয়ে প্রথম ম্যাচ খেলার পর এ পর্যন্ত জাতীয় দলের জার্সি গায়ে ১৭টি ম্যাচ খেলা হয়ে গিয়েছে।
মেয়েদের জাতীয় দলের নিয়মিত সদস্য ফরোয়ার্ড মণীষা কল্যাণকে এ বারের বর্ষসেরা মহিলা ফুটবলারের সন্মান দিচ্ছে ফেডারেশন। ভারতীয় দলের হয়ে নিয়মিত খেললেও বর্তমানে তিনি সাইপ্রাসের ক্লাব অ্যাপোলোনের হয়ে খেলেন। ২০২০-২১ মরশুমে তিনি বছরের সেরা উঠতি মহিলা খেলোয়াড়ের সন্মান পেয়েছিলেন। এ বার বর্ষসেরা ফুটবলার হলেন। উয়েফা উইমেন্স চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলা প্রথম ভারতীয় পাঞ্জাবের হোর্শিয়ারপুর থেকে উঠে আসা এই ২২ বছরের তরুণীই। ভারতীয় দলের হয়ে এ পর্যন্ত ২৯টি ম্যাচ খেলেছেন মণীষা। পাঁচটি গোল করেছেন। অ্যাপোলোনের হয়ে এ পর্যন্ত ১৭টি ম্যাচে ছ’টি গোল করেছেন।
মহিলাদের ফুটবলে বছরের সেরা উঠতি খেলোয়াড়ের পুরষ্কার পাচ্ছেন গোকুলাম কেরালার শিলজি শাজি। পুরুষদের বিভাগে সেরা কোচ ক্লিফোর্ড মিরান্ডা ও সেরা মহিলা কোচ পিভি প্রিয়া।
(লেখা আইএসএল ওয়েবসাইট থেকে)
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার
