Cart Total Items (0)

Cart

All Sports

‌অলস্পোর্ট ডেস্ক:‌ ভারতীয় ক্লাব ফুটবলের সাম্প্রতিক অচলবস্থা ও অস্থিরতা মেটানোর থেকেও ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন এখন বেশি ব্যস্ত নিজেদের পিঠ বাঁচাতে। তাদের কাজকর্মের পক্ষে সাফাই দিতে। অন্যের ঘাড়ে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দায় চাপাতে।

ভারতীয় সিনিয়র দলের নয়া কোচ খালিদ জামিলের ডাকা জাতীয় শিবিরে কোনও ফুটবলার ছাড়বে না বলে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। তাদের বক্তব্য, কাফা নেশনস কাপের জন্য ফুটবলার ছাড়া বাধ্যতামূলক নয়। কারণ এই টুর্নামেন্ট ফিফা উইন্ডোতে হচ্ছে না। আর জাতীয় শিবিরে বা জাতীয় দলে খেলতে গিয়ে ফুটবলাররা চোট পেলে তার দায় নেয় না ফেডারেশন। ফিট করার দায়িত্ব নেওয়া দূরে থাক, খোঁজ পর্যন্ত নেয় না। এএফসি এশিয়ান কাপ কোয়ালিফায়ারের শিবির ও খেলার সময় ভারতীয় দলে চোট পেয়ে শুভাশিস ফেরেন। সেই চোট এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেননি। এর জন্য ভুগতে হচ্ছে মোহনবাগানকে।

মোহনবাগানের এই বক্তব্য মানতে নারাজ ফেডারেশন। বরং তারা এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছে, প্রচারমাধ্যমে শুভাশিসের চোট নিয়ে যে প্রচার হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। শুভাশিস প্রথমত ২৫ মার্চ শিলংয়ের মাঠে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে এএফসি এশিয়ান কাপ কোয়ালিফায়ারের ম্যাচে কোনও চোট পাননি। ওই ম্যাচে শুভাশিস ৮৫ মিনিট খেলার পর তৎকালীন কোচ মানোলো মারকোয়েজ ট্যাকটিকাল কারণে তাঁকে তুলে অন্য ফুটবলার নামান। তারপর শুভাশিস ক্লাব দলে ফিরে গিয়ে সবুজ মেরুন জার্সিতে ৩ ও ৭ এপ্রিল আইএসএলের দুটি সেমিফাইনালে পুরো সময় খেলেন। এমনকি, ১২ এপ্রিল আইএসএল ফাইনালে ৯০ মিনিটের শেষ পর্যন্ত মাঠে ছিলেন। শুভাশিস এরপর ১৮ মে জাতীয় শিবিরে যোগ দিয়ে কয়েকটি প্র‌্যাকটিস শেষণের পরই চোট সমস্যার কথা জানান। ফেডারেশনের উদ্যোগে নেওয়া মেডিকেল পরীক্ষার সময় শুভাশিস জানান, ১২ এপ্রিল আইএসএল ফাইনাল খেলার সময় তিনি চোট পেয়েছিলেন। এই কারণে এতদিন বিশ্রামে ছিলেন। কোনওরকম রিহ্যাব না করেই তিনি একমাস বাদে সরাসরি জাতীয় শিবিরে যোগ দেওয়ায় পুরোন চোট চাগাড় দিয়েছে। জাতীয় শিবিরে যোগ দেওয়ার আগে কোনও চোটের কথা ফেডারেশন সাপোর্ট বা মেডিকেল স্টাফদের জানানো হয়নি শুভাশিসের ক্লাবের পক্ষ থেকে। তাহলে কীভাবে ফেডারেশন শুভাশিসের চোটের জন্য দায়ি?‌ সেক্ষেত্রে দায় নেওয়ার প্রশ্নই বা আসে কীভাবে?‌ ফুটবলারদের নিরাপত্তা ও ফিট রাখার দিকটা ফেডারেশন সবসময় অগ্রাধিকার দেয়।

এটা গেল একটা বিষয়। ফেডারেশনের অপছন্দের, বলা ভাল অস্বস্তির অন্য কারণ হল, ফেডারেশনের পদক্ষেপের জন্য অপেক্ষা না করেই নিজে থেকে কেন অ্যামিকাস কিউরিয়ে বা আদালতের নিরপেক্ষ আইনজীবি সুপ্রিম কোর্টের দারস্থ হলেন ভারতীয় ফুটবলের বর্তমান অচলাবস্থা মেটাতে?‌ ফেডারেশন আরও একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এটা বোঝাতে উঠে পড়ে লেগেছে, যেটা তারা করবে বলে আগেই ঠিক করেছিল, সেটা আগ বাড়িয়ে অন্যজনের করার বিশেষ প্রয়োজন ছিল না।

ফেডারেশনের বক্তব্য, সদ্য পাস হওয়া ন্যাশানাল স্পোর্টস গভর্নেন্স বিলের ভিত্তিতে হওয়া ১৭ আগস্ট বৈঠকে এআইএফএফের সিনিয়র কাউন্সেল পরামর্শ দেন, ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন ও এফএসডিএলের মধ্যে মাস্টার রাইটস এগ্রিমেন্ট বিতর্কে আইএসএলের আয়োজন নিয়ে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, তা আদালতের গোচরে দ্রুত আনা জরুরি। যেদিন ফেডারেশন সেই পরামর্শ মেনে আদালতে যাবে বলে ঠিক করে ফেলেছিল, সেদিনই অ্যামিকাস কিউরিয়ে অর্থাৎ আদালতের নিরপেক্ষ আইনজীবি জানান, তিনি এআইএফএফের কেসটি সুপ্রিম কোর্টের দরবারে পেশ করছেন। এটা জানার পর এআইএফএফের সিনিয়র কাউন্সেল সুপ্রিম কোর্টের দুই বিচারপতির সামনে মৌখিক সাবমিশন করলে , মহামান্য বিচারপতিরা তাঁকে লিখিতভাবে বক্তব্য পেশ করার নির্দেশ দেন ২২ আগস্ট অর্থাৎ শুক্রবারের শুনানির আগে।

ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের জোরালো বক্তব্য, তারা এই সুযোগটা কাজে লাগাতে চান ভারতীয় ক্লাব ফুটবল ঘিরে অচলাবস্থার দ্রুত অবসানে। সুপ্রিম কোর্টের কাছে তাদের আবেদন, এর সমাধানের রাস্তা দ্রুত বের হোক, যাতে দেশের টপ টায়ার লিগের রূপরেখা সামনে আসে। খেলা চালু হয়। কারণ এর ওপরই নির্ভর করে আছে ফুটবলের সঙ্গে জড়িত অনেক পরিবারের ভবিষ্যত, ফুটবলার থেকে কর্মী ও আরও অনেকের রুটি রোজগার।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *