ছবি— মোহনবাগান এক্স
সুচরিতা সেন চৌধুরী: প্রি-ম্যাচ সাংবাদিক সম্মেলনে আনোয়ার আলি-কে সঙ্গে করেই এসেছিলেন মোহনবাগান কোচ হুয়ান ফেরান্দো। তার পিছনে তাঁর কী যুক্তি ছিল সেটা জানা না গেলেও পোস্ট ম্যাচ সাংবাদিক সম্মেলনে বাধ্য হলেন আনোয়ারকে নিয়েই আসতে। কারণ এদিনের ম্যাচের হিরো তিনিই। পজিশনে তিনি ডিফেন্ডার কিন্তু এদিন জোড়া গোলের মালিকও তিনিই। তিনিই দলকে প্রথম এগিয়ে দিলেন আবার দলের হয়ে শেষ গোলটিও এল তাঁরই মাথা থেকে। না, তার পিছনে কোনও পরিকল্পনাই নাকি ছিল না তাঁর। তবে সেটপিসের সময় বক্সের মধ্যে পৌঁছে যাওয়াটা অভ্যেসে ঢুকে পড়েছে তাঁর। বা বলা যায় কোচের স্ট্র্যাটেজির মধ্যেই রয়েছে ছ’ফুটের আনোয়ারের উচ্চতাকে কাজে লাগিয়ে হেডে গোল তুলে নেওয়া সেটপিস থেকে।
এদিন বাগান রক্ষণকে খুব একটা পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়নি। সমস্যায় পড়তে হয়নি গোলকিপারকেও। প্রতিপক্ষ নেপালের মাচিন্দ্রা এফসি তেমনভাবে বাগান বক্সে চাপ সৃষ্টি করতে পারেনি। বরং ২-০ গোলে এগিয়ে যাওয়া মোহনবাগান একটু আত্মতুষ্ট হয়ে পড়ার সুযোগ নিয়ে একটা গোল অবশ্য করে ফেলেছিল মাচিন্দ্রা। কিছুটা খেলার গতির বিপরীতে গিয়েই। তবে রক্ষণ থেকে উঠে এসে মোহনবাগানকে জোড়া গোল উপহার দেওয়া আনোয়ার আলির অভিব্যক্তিতে কোনও উচ্ছ্বাস নেই। তবে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘‘দলের হয়ে, ক্লাবের হয়ে গোল করেছি আর সেটা ক্লাবের কাজে লেগেছে, দল জিতেছে সেটাই ভাললাগা। ইতিহাসে নাম থাকবে সেটাই ভাল লাগছে।’’
আনোয়ারের উত্থানটা যদিও খুব সহজ ছিল না। অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপে ভারতের হয়ে নজর কেড়েছিলেন এই ডিফেন্ডার। তার পর একাধিক ক্লাব ঘুরে যোগ দিয়েছেন মোহনবাগানে। খেলেছিলেন মহমেডানেও। কিন্তু শারীরিক কিছু সমস্যা তাঁকে ছিটকে দিয়েছিল ফুটবল থেকে। একটা সময় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল যাতে ধরেই নেওয়া হয়েছিল তিনি আর ফুটবল খেলতে পারবেন কিনা। দলগুলো তাঁকে মাঠে নামাতে ভয় পাচ্ছিল। সেখান থেকে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে দারুণভাবে ফিরেছেন। সবুজ-মেরুন জার্সিতে সবে শুরু করেছেন। আর আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টেই বাগানে ফুল ফোটালেন তিনি। তবে সে সব নিয়ে ভাবতে চান না তিনি। বরং অতীত ভুলে সামনের দিকেই এগিয়ে যেতে চান আনোয়ার।
তবে তাঁর একই পজিশন থেকে দুটো গোল ভাবাচ্ছে সবাইকে। তাহলে কি এটা কোনও পরিকল্পনার ফল? তিনি বলেন, ‘‘কখন কোন পজিশনে থাকব সেটা আমি সিদ্ধান্ত নিই না, সেটা কোচের সিদ্ধান্ত। কোচ যখন যেখানে দাঁড়াতে বলেন আমি সেখানেই থাকি। কখনও বক্সের মধ্যে, কখনও ফাস্ট পোস্ট বা সেকেন্ড পোস্ট বা মাঝখানে। আমি সেখানেই দাঁড়াই। আর সেভাবেই দুই গোল হয়েছে। কোনও প্ল্যান ছিল না।’’ প্রতিপক্ষের প্রশংসা শোনা গেল আনোয়ারের মুখে। একগোল হজম করতে হয়েছে। যার ফলে প্রশ্ন উঠছে দলের রক্ষণ নিয়ে। সমস্যা মেনে নিয়ে আনোয়ার বলেন, ‘‘ওরাও একশো শতাংশ দিয়েছে, আমরাও দিয়েছি। তার মধ্যেই কিছু ভুল-ত্রুটি হয়েছে। যা আমরার পরের ম্যাচের আগে শুধরে নেব।’’
সের্জিও র্যামোসের সঙ্গে মোহনবাগান ফ্যানরা তাঁর তুলনা করছেন শুনে একটু লজ্জাই পেলেন আনোয়ার। বরং জানিয়ে দিলেন র্যামোসই তাঁর প্রেরণা। তিনি কখনওই র্যামোস হতে পারেন না। তাঁরা আলাদা। তিনি আনোয়ারই থাকতে চান। নিজের সেরাটা দিতে চান দলের জন্য। এদিকে ম্যাচের শেষের দিকে চোট পেয়ে স্ট্রেচারে মাঠ ছাড়তে দেখা যায় আশিক কুরিয়ানকে। তবে কোচ জানিয়ে দিলেন, তাঁর চোট গুরুতর নয়। পরের ম্যাচে তাঁকে পাওয়া যাবে। তবে ডুরান্ড ডার্বির পর যে কথা শোনা গিয়েছিল তা আরও একবার শোনা গেল হুয়ান ফেরান্দোর মুখে। আর সেটা হল দলকে সময় দিতে হবে।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার
